এই পুলিশকে আমরা পিটিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলাম: এনসিপি নেতা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন এখনো স্বজনপ্রীতি করছে বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা ইউএনওকে প্রশ্ন করতে চাই, ওসিকে প্রশ্ন করতে চাই; আপনারা কি ৩৬ জুলাই দেখেন নাই? তখন কীভাবে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানাগুলোকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল? আপনারা কি তখন দেখেন নাই, জনগণের টাকায় চলা এই পুলিশকে আমরা পিটিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলাম...?’
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে জোবাইরুল আলম এ কথা বলেন।
বক্তব্যে জোবাইরুল আলম বলেন, ‘আমরা দেখি, এই জুলাই গণ–অভ্যুত্থান কেন হয়েছিল। আমরা দেখেছি, রাষ্ট্রীয় যত প্রশাসন আছে, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে...কেউ তখন প্রশাসনের পোশাক পরে ছিল না। সবাই আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। উপজেলা, পুলিশ, থানা প্রশাসনে বিরোধী দলের কেউ ঢুকতে পারে নাই।’
ভিডিওতে জোবাইরুল আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এখনো দেখি...আমরা যখন বিরোধী দল থেকে ইউএনওকে কিছু বলতে চাই, কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে কিছু বলতে যাই, তখন তারা বলে, “আপনারা এমপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলুন।” আমরা এখনো দেখি, আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, তারা দলীয় স্বজনপ্রীতি করতেছে। আমরা এখনো দেখতেছি, এমপির নির্দেশনা ছাড়া কোনো একটা ফাইল উপজেলা প্রশাসনে নড়ে না।’
জোবাইরুল আলম বলেন, ‘আমরা এখনো দেখি, সরকারি যে সহায়তাগুলো আছে...সবগুলোর বিষয়ে আমরা খবর পাই, বিভিন্ন নেতাকে, যারা আছে বিএনপির, তাদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়ে যায়।...এই ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ নিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ তরুণ যারা এখানে যাচ্ছে, তাদেরকে বলা হচ্ছে, “এমপি থেকে সুপারিশ নিয়ে আসেন।”’
উপজেলা প্রশাসনে উদ্দেশে জোবাইরুল আলম বলেন, ‘আপনারা আবার যদি আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতে চান, আমরা যেমন আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে দেব না, কাউকে আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতেও দেব না, ইনশা আল্লাহ।’
জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম বলেন, ‘ভিডিওতে পুরো বক্তব্য আসেনি। আমরা চাই না, জনগণের যে ক্ষোভ আছে, সেটা আরও বাড়ুক। জুলাই আন্দোলনের সময় যেমন পরিস্থিতি হয়েছিল, আমরা চাই না, আবার প্রশাসনের সঙ্গে সে রকম মুখোমুখি অবস্থা তৈরি হোক। বক্তব্যে এটাই বুঝিয়েছিলাম। আমরা চাই, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক।’