শেরপুর-৩ আসনে ১২ ফেব্রুয়ারির আগে নতুন তফসিল নয়: ইসি
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আবদুর রহমান মাছউদ জানিয়েছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
তিনি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার। দশটি মূল লক্ষ্য সামনে রেখে এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ শ্লোগানে নিরাপদ
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ / ৩১০ রানেও রক্ষা হলো না আফগানিস্তানের
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ১ হাজার ৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ
ইরানের নারীরা মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স পাচ্ছে
ইউটিউব-ফেসবুকে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে ইসির জরুরি নির্দেশ
নির্বাচনের পর রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাই: মির্জা ফখরুল
বন্ধ হচ্ছে অ্যানিমেশন সফটওয়্যার অ্যাডোবি অ্যানিমেট
দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো একটি সফটওয়্যার কোম্পানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।...
এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক / বঙ্গভবনের আইটি কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে যা জানাল ডিবি
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলীয় নির্দেশ অমান্যের দায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইসহাক সরকারকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ দলের সব স্তরের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঢাকা-৭ আসনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসহাক সরকার। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হন। তার বিরুদ্ধে ৩৬৫টি মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে ১১ মামলায় তাকে সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালির একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসন ব্যবসা ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে আসনটি বরাবরই আলোচনায় থাকে।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার ভোটের অঙ্ক জটিল হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রার্থী হামিদুর রহমানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইসহাক সরকার। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এনায়েত উল্লাহও মাঠে রয়েছে।
সব মিলিয়ে ঢাকা-৭ আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনীতি থেকে অবসর কথা জানিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এবার আমার শেষ নির্বাচন; অনেক বয়স হয়েছে আমার। রাজনীতি থেকে আমি অবসর নিতে চাই। আমাদের দেশে অবসর নেওয়ার মতো কোনো প্রচলন নেই, আমি সেই শুরুটা করতে চাই’।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “বিগত ১৫ বছর কোনো সুযোগ পাইনি আপনাদের উন্নয়ন ও ভাগ্যের পরিবর্তন করার। কারণ আমরা সেই সময়টায় অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যে ছিলাম। আমার ঠাকুরগাঁওয়ের ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ মূল দলের অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং সবাই অনেক কষ্ট করেছে। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া, এই মামলাগুলো থেকে আমরা সবাই খালাস পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের ফসল হিসেবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পাচ্ছি। গত নির্বাচন সুষ্ঠু ছিল না, কারণ নির্বাচন করতেই দেয়নি। নির্বাচনের দুই দিন আগে গোয়েন্দা বাহিনী এসে ভয় দেখিয়ে চলে যেত। এবার আমাদের সুযোগ এসেছে একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদ ও সরকার গঠন করার। নতুন সরকার গঠন করার জন্য আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “ঠাকুরগাঁও পৌরসভার একটা ইতিহাস আছে। বিএনপি এখানে কোনোদিন হারেনি। এর আগে আমি সংসদ নির্বাচনে হেরে গেলেও পৌরসভায় কিন্তু হারেনি বিএনপি। তাই অনুরোধ করব, এবার আমার শেষ নির্বাচন; অনেক বয়স হয়েছে আমার। রাজনীতি থেকে আমি অবসর নিতে চাই। আমাদের দেশে অবসর নেওয়ার মতো কোনো প্রচলন নেই, আমি সেই শুরুটা করতে চাই। এবার নির্বাচন করে আমি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাই। বর্তমানে আমার যে মনের অবস্থা, তাতে অবসর নেওয়াই ভালো।”
তিনি বলেন, “আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ দিন লন্ডনে ছিলেন। দেশে এসেই তিনি মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছেন। এই কার্ডের মাধ্যমে মানুষ সস্তায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে পারবে। চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ সবকিছুতেই সুবিধা পাবে। কৃষকদেরও কার্ড দেওয়া হবে, যার ফলে তারা সার ও বীজসহ সবকিছু ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করতে পারবে। আমরা শিশুদের সুশিক্ষার জন্য ভালো স্কুলের ব্যবস্থা করব। হাসপাতালে যেন মানুষ ভালো চিকিৎসা পায়, সেই ব্যবস্থা করব এবং সস্তায় ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করব।”
নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।
ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।
আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত ৩ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এতে বলা হয়, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলাধীন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার অন্তর্গত ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ সওদাগর, কিশোরগঞ্জ জেলাধীন করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুর রহমানকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল।
এতে আরও বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য আহসান উল্লাহ চৌধুরী হাসানের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছিল।
আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণায় জানায়, নারীবান্ধব নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট ও নামাজের ব্যবস্থা করা হবে। জীবনব্যাপী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সুযোগ চালু করে নারীদের কর্মজীবনে ফিরে আসার পথ তৈরি করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার (Day Care Centre) উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানো হবে।
ইশতেহারে বলেন, ‘আমার আয়ের সংসার’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করা হবে। এর জন্য হাঁস-মুরগির খামার, গবাদি পশু পালন, মাছ চাষ ইত্যাদি প্রকল্প তৈরিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি জানান, নারীর স্বাস্থ্য ও খেলাধুলা মানসিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার সচেতনতায় প্রতিটি জেলায় নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও জানান, নারীর ন্যায্য সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শিশুর প্রতি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠন করা হবে। জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন করে সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া ‘নারী চলবে নির্ভয়ে’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে, নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস (পিক আওয়ারে), গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, দোতলা বাসে আলাদা কম্পার্টমেন্ট চালু, ইমার্জেন্সি কল নম্বর চালু করা হবে ও নারীর নিরাপত্তায় ইমার্জেন্সি পোল স্থাপন করা হবে ।
তিনি আরো জানান, নারীর সম্পত্তি অধিকার রক্ষায় ‘সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হবে। উত্তরাধিকার সম্পত্তির মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। নারীর প্রতি সহিংসতায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ ও ভুক্তভোগী সাপোর্ট সেন্টার চালু করা হবে।
তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রকৃত তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মানুষ শনাক্ত করে পুনর্বাসন করা হবে ও তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চাকরির কোটা সংরক্ষণ করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারী, শিশু ও পরিবারের উন্নয়নে পরিবার কাউন্সেলিং ও মোটিভেশন সেন্টার চালু করা, নিরাপদ বিদ্যালয় কর্মসূচি ও মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অনুদান ও সেবার পরিসর বাড়ানো হবে। নারীর সম্পদের অধিকার নিশ্চিতে ধর্মীয় প্রচারণা বাড়ানো হবে।
ভুক্তভোগী নারীর সব ধরনের আইনি, মানসিক, আর্থিক সহায়তার জন্য প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে।
জামায়াত আমির আরো জানান, অভাবগ্রস্ত, সুবিধাবঞ্চিত সধবা ও বিধবা নারীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পের মাধ্যমে সাবলম্বী করার লক্ষ্যে এককালীন পুঁজি সরবরাহ করা ও তদারকি করা হবে। হাসপাতালে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে ভুক্তভোগী নারী ও নারী আসামির জন্য নারী চিকিৎসকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
দরিদ্র গর্ভবতী ও প্রসূতি নারী এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। শিশু খাদ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর (VAT) থাকবে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানান তিনি।
নারীর মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা প্রশ্নে আপস নয়— এমন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেছেন, “নারীদের সম্মান নিয়ে যারা কটূক্তি করে, তাদের নারী সমাজ এবার লাল কার্ড দেখাবে।”
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে নারী মানবাধিকার উন্নয়ন কর্মসূচী (নামাউক) আয়োজিত এক সেমিনার ও মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তুলি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নারীদের মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে বিতর্কিত কথাবার্তা বলছে। কর্মজীবী নারীদের যে ভাষায় তারা কথা বলেছেন, সে ভাষা আমি উচ্চারণ করতে পারবো না। শুধু বলবো— আপনারাও কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। মা’কে সম্মান দিতে না পারলে অন্তত অপমান করবেন না।”
তিনি বলেন, নারীদের অবমাননা করে রাজনীতি করা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিগত ১৬ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের কারো ভাই, কারো সন্তান, কারো স্বামীকে গুম করা হয়েছে। সেই ভয়ঙ্কর সময়ে রাজপথে লড়াই ও সংগ্রাম করেছে মা ও মেয়েরা। তাদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজ কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।”
তিনি জানান, সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার নারীরাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে।
তুলি বলেন, “ঢাকা–১৪ আসনের নারীসহ দেশের সকল নারী সমাজ এবার তাদের লাল কার্ড প্রদর্শন করবে। অন্যায়, অপমান ও বৈষম্যের রাজনীতি আর চলবে না।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণজাগরণ শুরু হয়েছে। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।”
নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি নিজেও একজন নারী ও মা। আমি জানি কিভাবে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। খুনী হাসিনাকে ভয় পাইনি, সুতরাং কোনো অন্যায় ও অত্যাচারের কাছেও মাথা নত করবো না।”
তিনি গুম হওয়া স্বজনদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেন, “যতদিন না গুম হওয়া স্বজনদের ফিরিয়ে আনতে পারবো, ততদিন আমাদের রাজপথের লড়াই চলবে।”
উপস্থিতি সেমিনারে মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
নির্বাচন সামনে রেখে নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে কেন্দ্র করে এই সেমিনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা। তুলি’র বক্তব্যে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রতিবাদের আহ্বান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ঢাকা ১৭ এর তিনটি মস্ত বস্তিএলাকা কড়াইল, ভাষানটেক এবং সাততলা। এই তিনটি বস্তি এলাকার সমস্যার জানানোর হাতিরঝিল উন্মুক্ত মঞ্চে সমবেত হন বস্তির বাসিন্দারা। সাথে ছিলেন পরিবহন শ্রমিক এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতিনিধিরাও।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি ডা. জোবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক্তার জোবাইদা বলেন আপনাদের সমস্যা হৃদয়বিদারক। কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। আপনাদের এই হৃদয়বিদারক সমস্যা গুলোর সমাধানও সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনার। আমরা বলি আমার আগে আমরা। তার আগে দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। দেশ বাঁচলে আমরা বাঁচবো। সুতরাং সকলের আগে প্রয়োজন দেশকে বাঁচানো।
তিনি বলেন, আমরা সবাইকে সমান সুযোগ দিতে চাই এবং সমান মর্যাদা দিতে চাই। আমরা বলতে চাই শোষণের আগে অধিকার। আপনাদের যদি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে আপনাদের প্রাপ্তি আপনারা পেয়ে যাবেন। আমরা বলতে চাই নেতার আগে জনতা। জনতা বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আপনাদের সমস্যাগুলো আরো ভালো করে জানব। সমাধানের আগে জানা প্রয়োজন এবং আমরা সমতার ভিত্তিতে সকল সমস্যার সমাধান করতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা তিনটি বস্তির সমস্যা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন, সাথে পরিবহন ও গার্মেন্টস সেক্টরের সমস্যা সামনে এনেছেন তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই, আগামী পরশু আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রচারিত হচ্ছে সেদিন আপনারা জানবেন আপনাদের ব্যাপারে আমরা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আপনারা এদেশের মানুষ। তারেক রহমান কড়াইল বস্তি এবং ভাষানটেক বস্তিতে অনুষ্ঠান করেছেন। তিনি আপনাদের ডেকে আপনাদের সমস্যা গুলোর কথা জানতে চেয়েছেন। তিনি জানেন সমস্যাগুলোর সমাধান কিভাবে করতে হবে, তার সেই প্লান আছে। সৌভাগ্য হলো আপনারা এমন এক ব্যক্তিকে আপনারা ভোট দিচ্ছেন যিনি শুধু এমপি নন, মন্ত্রী নন, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানের জন্য এমপি সাহেব যান মন্ত্রীর কাছে, মন্ত্রী মহোদয়ের যান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাওয়া কি সহজ? অথচ আপনারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে যাচ্ছেন। এবং আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধানের সহজভাবেই হয়ে যাবে। কারণ সমাধানের জন্য তো তার কারো কাছে ধরনা দেয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, আমরা চাই আবাসন নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের নিরাপত্তা। তারেক রহমান আপনাদের কথা দিয়েছেন তিনি নির্বাচিত হলে আপনাদের আবাসন সংকট সমাধান করবেন। এমনকি ভবন দেয়ার আগে ফ্ল্যাট বরাদ্দের কাগজ পেয়ে যাবেন। তাহলে আপনারা বুঝবেন আপনারা ফ্ল্যাটের মালিক হচ্ছেন এবং অত্র এলাকার স্থায়ী বাসিন্দ হয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মাদকের ব্যবহার, নারীর নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ পানি ও গ্যাসের সমস্যাসহ যে সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলোর কথা আমাদের নেতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানেন এবং দায়িত্ব পাবার পরপরই তিনি এগুলো সমাধানে সশরীরে অংশ নিবেন।
সম্মিলিত পেশাজীবীদের আয়োজনে উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ১৭ এর যুগ্ম সমন্বয়ক ডাক্তার ফরহাদ হালিম ডোনার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী, ডাক্তার, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, সাংবাদিক, ব্যাংকার, শিক্ষাবিদগণ।
হাতিরঝিল উন্মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন সবাইকে আলোড়িত করেছে। বস্তিবাসীর লোকজন যারা অনুষ্ঠানে এসেছেন তারা অঙ্গীকার করেছেন তারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন।
সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক বস্তিবাসীদের পক্ষে কথা বলেন সাততলা বস্তির নার্গিস আক্তার, কড়াইল বস্তির তানিয়া আক্তার, ভাষান টেকের ফাতেমা আক্তার বিথি, পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিনিধি মির্জা আল শামীম, গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতিনিধি ফাতেমা খাতুন। প্রত্যেক প্রতিনিধি তাদের নিজ নিজ এরিয়ার সমস্যাগুলো চমৎকারভাবে তুলে ধরেন। ব্রড স্ক্রিনে প্রদর্শিত সেই বক্তব্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।
প্রধান অতিথি ডাক্তার জুবাইদা প্রত্যেকের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তার আলোচনায় তিনি সকল সমস্যার আন্তরিকভাবে সমাধান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে এসে তিনি সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর গার্মেন্টস কর্মী বস্তিবাসী সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তিনি অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন। তার আগমনে বস্তিবাসীরা সীমাহীন আনন্দিত ও উল্লাসিত হয়। তারা তাকে মুহুর্মুহু স্লোগান দিয়ে সাধুবাদ জানায়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার। দশটি মূল লক্ষ্য সামনে রেখে এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ শ্লোগানে নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার শিরোনাম দিয়ে এই ইশতেহার ঘোষণা হয়েছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই ইশতেহারে ৮ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সাম্য ও ন্যায়ের বাংলাদেশ। তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশের শিশুরা অন্য আরো উন্নত দশটি দেশের মত সুযোগ সুবিধা ও জীবন পাবে। রাষ্ট্র তাকে সহযোগিতা করবে। সমাজ তাকে অভিবাদন জানাবে। কৃষকের স্বপ্ন ছিল সে দেশের জন্য খাদ্য জোগাবে এবং বিনিময়ে সে সম্মান পাবে। শ্রমিক কলকারাখানায় কাজ করবে। এই শ্রমের বিনিময়ে সে সম্মান এবং সম্মানী পাবে। শিক্ষক তার সন্তানতুল্য ছাত্রদের তার মেধা উজার করে দিবেন। তেমনইভাবে তার শিক্ষার্থীরা সেই শিক্ষার সম্মান দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে শিক্ষককে সম্মান করবে।
তিনি আরো বলেন, কুটির শিল্পীরা অল্প পুঁজি দিয়ে দেশ গড়ার কাজে হাত বাড়িয়ে সম্মান চায়। একজন নারীর মা এবং নারী হিসেবে কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন। সন্তান জন্ম দেওয়া, বুকের দুধ খাওয়ানো, সন্তানকে তিলে তিলে গড়ে তোলা। বিনিময়ে সে চায় সম্মান এবং নিরাপত্তা। এছাড়া আমাদের দেশের সাধারণ নাগরিকের আবেদন হলো, তার সঙ্গে অন্যায় হলে সে ন্যায় বিচার আদালতে পাবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশের মানুষের চাওয়া আকাশ সমান নয়। সীমিত চাওয়া। এই চাওয়াটাও রাষ্ট্র পূরণ করতে পারেনি। বেকারত্বের যন্ত্রণায় হাহাকার করছে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। আমাদের কীসের অভাব? সম্পদের অভাব হলে তো ১৫ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হতো না। আমাদের অভাব দেশপ্রেমের। আমাদের অভাব সততার।
দলটির প্রধান আরো বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ একই সুতোয় বাঁধা। ৪৭ না হলে ৭১ হতো না। ৭১ না হলে মানচিত্র পেতাম না। মানচিত্র না পেলে ২০২৪ সালের দেশকে গড়ার সুযোগ পেতাম না। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কাছে ইশতেহার হচ্ছে প্রমাণ। কীভাবে আগামীর দেশকে সাজাতে চায় তা একটি জীবন্ত দলিল হলো ইশতেহার। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার হলো ইশতেহার। আমরা এমন একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই যা সাধারণ মানুষ চায়। ৫ আগস্টের পরে কেউ কেউ তার অতীত ভুলে গেছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আহত সৈনিক। চতুর্দিক থেকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যারা অন্যায়ভাবে আমার চরিত্রহনন করেছেন তাদের সবাইকে মাফ করে দিলাম। আমার সাথে প্রতিহিংসা যায় না। আমি বিশ্বাস করি আমাদের যুব সমাজ পটেনশিয়াল। তারা ইনোভেটিভ এবং প্র্যাগম্যাটিক। তারা পারবে। তাই যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে ইশতেহার তৈরি করেছি। এতে আছে মা ও শিশুর জন্য আইডিয়া। কৃষকদের জীবনে আমরা বিপ্লব আনতে চাই। প্রাইভেট ভেঞ্চারকে আমরা উৎসাহিত করবো। দেশি এবং বিদেশি উভয়কে। শিল্প মালিকদের আইডল হিসেবে রাখবো সামনে। শিশুর মত করে শিল্পকে নার্চার করবো। তবেই তারা দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবো। এতে করে মালিক ও শ্রমিককে মুখোমুখি না করে সমন্বয় করবো।
এছাড়া প্রফেশনাল শিক্ষার ব্যবস্থা করবো যা বেকার তৈরি করবে না। যোগ্য করে তৈরি করবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা রা সরকার গঠন করতে পারলে সম্মান পাবে রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সে যখন মারা যায় তার লাশ কে আনবে সেইটা নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়। আমরা সরকার গঠন করলে তাদের লাশ রাষ্ট্র আনবে। যুবক তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো আমরা। এদিকে আমাদের সমাজের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপনই করে না, তারা ন্যূনতম সম্মানও পায় না। চা বাগানের কর্মীদের জীবনযাপন দেখলে আপনাদের চোখে পানি চলে আসবে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তাদের জীবনমানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবো। আমরা এমন সমাজ গঠন করবো যেখানে চা বাগান থেকেও দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে ইনশাআল্লাহ। এ দেশের পাহাড় এবং সমতলের ব্যবধান ঘুচিয়ে এক করবো। সবাই আস্থার সঙ্গে মনে রাখবে এ দেশ আমার। পাহাড়ে অশান্তি আর দেখতে চাই না। এই পাহাড় রক্ষা করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর ১০ হাজার সদস্য শহিদ হয়েছেন। এর সমাধান করতে হবে যৌক্তিকভাবে।
তিনি বলেন এই ইশতেহার সামনে এগিয়ে যাওয়ার।
যে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তা হলো,
০১. জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ—এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ আপসহীন রাষ্ট্র গঠন (National Interest)
০২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন (Social Justice)
০৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া (Youth First)
০৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন (Women Participation)
০৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ (Public Safety and Security)
০৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন (Zero Corruption)
০৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন (Tech-based Society)
০৮. প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি; সরকারি চাকরিতে বিনা বেতন শিক্ষানবিশ এবং বেসরকারি খাতে সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ (Widespread Employment)
০৯. ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকটের মাধ্যমে অর্থ ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই ও শক্ত অর্থনীতি বিনির্মাণ (Robust and Sustainable Economy)
১০. গণতান্ত্রিক (নির্বাচন) পদ্ধতির নির্বাচনের মাধ্যমে স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা (Strong and Functional Democracy)
১১. বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় প্রভাবমুক্ত করা; গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা (Justice and Human Rights)
১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে (July Spirit)
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা (Agro-Revolution)
১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘জিরো ন্যাশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্য শূন্যতা এবং কার্বন-নিঃসরণ শূন্যতা) অর্জনের মাধ্যমে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়া (Food Security and Environmental Sustainability)
১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিক শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা (Industrialisation)
১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানবসম্মত কাজের পরিবেশ; বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা (Reasonable Salary and Hassle-free Job Environment)
১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুষ্ঠানিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (Pro-Expatriate Approach)
১৮. সংখ্যালঘু-সংখ্যানুপাত (মেজরিটি-মাইনরিটি নয়), বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা (Inclusive Nation)
১৯. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রদান (Universal Healthcare System) এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা
২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা (Educational Reform)
২১. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা (Provision of Necessities)
২২. যানজটমুক্ত দেশ সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা; দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা (Transport Revolution)
২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা (Affordable Housing)
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা (Reform Pro-Fascist System)
২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা (Social Security)
২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (Welfare State)
নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে একগুচ্ছ ছবি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
ছবিগুলো পোস্ট করে সাফা লিখেছেন, ‘এমন ক্যাফেগুলো খুবই ভালোবাসি যেগুলোর নিজস্ব নান্দনিক ছোঁয়া থাকে—প্রকৃতির খানিকটা মিশ্রণ, ভালো খাবার, আনন্দদায়ক পরিবেশ, আর ছবির জন্য আদর্শ স্থান। মুহূর্তটা হাতছাড়া করতে পারিনি, তাই ধরে রাখলাম।’ অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
তাঁর নতুন ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন ভক্ত–অনুসারীরা। অনেকেই লিখেছেন, ‘আপনাকে সুন্দর লাগছে।’
ব্যাংককে কাজের সূত্রে, নাকি ঘোরাঘুরি করতে গিয়েছেন, তা অবশ্য জানাননি সাফা।
‘তুমি’, ‘সন্ধি’, ‘শেষ থেকে শুরু’সহ গত কয়েক মাসে সাফা অভিনীত বেশ কিছু নাটক আলোচিত হয়েছে।
এমনিতেই কাজের ফাঁকে ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করেন সাফা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
Share
অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী এখন আছেন পূজার আনন্দে। মঙ্গলবার অষ্টমীর দিনে পোস্ট করেছেন নতুন বেশ কয়েকটি ছবি
Share
দুই পরিবারের উপস্থিতিতে ছোট আয়োজনেই বিয়ে সারেন শবনম ফারিয়া। শুক্রবার সন্ধ্যায় সুসংবাদটি গণমাধ্যমে নিজেই ভাগ করে নেন অভিনেত্রী নিজে। শবনম ফারিয়া, ছবি : ফেসবুক
Share
সোনালি আভা ছড়াচ্ছে ভোরের সূর্য।
পথের ধারে হলুদ ফুলের সৌন্দর্য।
Share
বিক্রির জন্য তুলে আনা হয়েছে লাল ও সাদা শাপলা।
জলাবদ্ধতায় মাছের ঘেরের পানি আর খালের পানি একাকার হয়ে গেছে।
Share
ছোটপর্দার ব্যস্ততম নায়িকা তানজিম সাইয়ারা তটিনী
আমি যা নই পর্দায় তাই হচ্ছি
ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তটিনীকে
Share
শাপলা তুলছে এক কিশোর
আফগানিস্তানে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা
অবরুদ্ধ গাজায় মায়েদের কান্না থামবে কবে?
Share
Share
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাচ্ছেন তারেক রহমান ও পরিবারের সদ্যসরা
Share
রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, সেনাবাহিনী-বিজিবি-পুলিশের অবস্থান
ব্যাংককে সাফা, রইল ৭টি ছবি
পূজার আনন্দে মন্দিরা, রইল ১০টি ছবি
শবনম ফারিয়ার বিয়ে
সোনালি আভা
প্রকৃতি
তটিনী
শাপলা
Bird
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাচ্ছেন নেতাকর্মীরা