জামায়াত জোটের ছায়া মন্ত্রিসভা কেমন হবে?
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে
বিরোধী দল হিসেবে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। জয়ের দুদিন পরই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তাঁর বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, জামায়াত কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, বরং শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তীতে সরকারের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব সম্ভাব্য প্রধান বিরোধী দলের প্রধান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসছিলেন। একটা কার্টেসি ভিজিট। এটাকে আমরা ওয়েলকাম করি। আমি মনে করি, এই ধরনের নিউ কালচার নিজেদের ভেতরে থাকাটা একটা গুণগত পরিবর্তন, একটি ভালো সূচনা।’
তাহের বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। সরকারও গঠন করেছি। আমরা ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তীতে দুটি দল এবার আলাদাভাবে নির্বাচন করেছি।’
জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করছি। আমরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছি যে, সকলে মিলে একসঙ্গেই একটা কনস্ট্রাকটিভ ফিউচার আমরা গ্রহণ করতে পারব। একটি নতুন বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে পারব। নিজেদের ভেতরে মৌলিক কোনো ঝামেলা হলে আলোচনার ভিত্তিতে যাতে পজিটিভ একটা সমাধান আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবে না। জামায়াতে ইসলামী এখানে কনস্ট্রাকটিভ শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।
তাহের আরও বলেন, ‘বৈঠকে জামায়াত আমির কয়েকটি প্রায়োরিটি বিষয়ে জোর দিয়ে কথা বলেছেন। প্রথম কথা হচ্ছে, ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন, মানুষের সিকিউরিটি ইস্যুটা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে যেন সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। এরপরে ইকোনমির ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি এবং বিশেষ করে জনগণের যে মৌলিক প্রয়োজনগুলো আছে, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা এসব বিবেকীয় অগ্রাধিকার পদ্ধতিতে যেন সরকার কাজ করে, সে ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘ইটস আ বিগিনিং। আমি মনে করি যে, একটা মৌলিক কোয়ালিটিটিভ চেঞ্জ যাতে আমরা এ দেশে পেতে পারি, সে বিষয়েও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। পজিটিভ যেকোনো বিষয় আছে, আমরা বলেছি, আমরা কো-অপারেট করব এবং জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং জনগণের কোনো কল্যাণের বিপরীতে যদি সে রকম কোনো ভূমিকা থাকে, আমরা অবশ্যই সে ব্যাপারে প্রতিবাদ এবং ভূমিকা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’
এর আগে সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে তাঁর বাসায় সাক্ষাৎ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাসায় বিএনপি চেয়ারম্যানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান শফিকুর রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। জয়ের দুদিন পরই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তাঁর বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় নাহিদ ইসলাম তারেক রহমানকে বলেছেন, নবগঠিত সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টি দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। তবে যেকোনো সংকট সমাধানে সংলাপের পথ উন্মুক্ত থাকবে।
জয়ের দুই দিন পর আজ রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে নাহিদ ইসলামের বাসায় যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
নাহিদের বাসার ড্রয়িংরুমে তারেক রহমান ও নাহিদ ইসলামের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন।
বাসায় পৌঁছালে তারেক রহমানকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান নাহিদ। এ ছাড়া এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলির ধাতব প্রতিকৃতি ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আনাসের মর্মস্পর্শী চিঠির ফ্রেমে বাঁধানো প্রতিলিপি উপহার দেন নাহিদ ইসলাম।
এরপর দুই দলের নেতাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। এ সময় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নোয়াখালীর হাতিয়া, পঞ্চগড়সহ সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলা ও সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনার রায় কার্যকরসহ বিগত সময়ের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার অব্যাহত রাখতে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ।
আলোচনা শেষে রাত সোয়া ৯টার দিকে নাহিদের বাসা থেকে বের হয়ে যান তারেক রহমান। বাইরে সাংবাদিকেরা থাকলেও তিনি কারও সঙ্গে কথা বলেননি। তারেক রহমান চলে যাওয়ার পর নাহিদের বাসার নিচে সংবাদ সম্মেলন করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান ও নাহিদ ইসলাম আজকে সৌজন্য সাক্ষাতে একত্রে বসেছেন। নির্বাচনে কয়েকটি আসনের ফলাফল নিয়ে এনসিপির প্রশ্ন থাকলেও তারেক রহমান যে রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের জায়গা থেকে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন, এই রাজনৈতিক সৌজন্যতা ও তাঁর জয়ী হয়ে আসাকে আমরা অভিনন্দন জানাই।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে মতভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা কীভাবে একত্রে দেশের জন্য কাজ করতে পারি, সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। সংস্কারের প্রশ্নকে কীভাবে সুরাহা করা যায় এবং বিচার নিয়েও আমরা কথা বলেছি।’
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগদানের কোনো আহ্বান এনসিপি পেয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আখতার বলেন, ‘এটা নির্বাচন-পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ। রাজনৈতিক যেসব বিষয়বস্তু থাকে, সে রকম কোনো বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়নি। নির্বাচনে জয়ী দল ও বিরোধী দল হিসেবে যাঁরা ফাংশন করবেন, তাঁদের মধ্যকার একটা সম্পর্কের সূচনা হিসেবে আজকের এই সাক্ষাৎ। অন্যান্য রাজনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে এখানে আলোচনা হয়নি। সে বিষয়গুলো সামনের দিনে আমাদের মধ্যে আরও আলোচনা হবে। তখন এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে জানানো যাবে।’
তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে, ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দল, যারা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে চায়—এমন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে, পলিসির ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু আমরা যাতে একত্রে বসতে পারি, সংলাপের মধ্য দিয়ে যাতে আমরা সমাধানে পৌঁছাতে পারি, সে ব্যাপারে নাহিদ ইসলাম আহ্বান জানিয়েছেন। সংলাপের মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বিএনপির নেতারাও আগ্রহী। আমরা আশাবাদী, আজকের এই সাক্ষাৎ বা সংলাপের মধ্য দিয়েই আমরা দেশের সংকটকে সমাধানের দিকে নিতে পারব।’
এর আগে আজ সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বাসায় যান তারেক রহমান। সেখানে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৫৮ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িটিকে জামায়াতের আমিরের বাসভবন ছেড়ে যেতে দেখা যায়।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ছাতা প্রতীকের প্রার্থী ও ওমর ফারুকের পরাজয় শুধু একটি আসন হারানো নয়, বরং তা রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা হয়ে দেখা দিয়েছে অলি আহমদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে নিজের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে হার মানতে হয়েছে তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-কে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমেদ, যিনি বিএনপিসমর্থিত, বিজয়ী হওয়ায় এই ফলাফলকে অলির রাজনৈতিক ‘পতন’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রভাব ধরে রাখা অলি আহমদের জন্য এ হার শুধু পারিবারিক নয়, বরং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিক থেকেও এক বড় সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের মধ্যে কর্নেল অলির আসন হিসেবে পরিচিত ছিল চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি। এই আসনে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে ‘শাসন’ করেছেন অলি।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বাধীনতাবিরোধী দলের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ‘টাকার কুমির’ হিসেবে পরিচিত জসিম উদ্দীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার কারণেই তার ছেলের হার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এই আসনে মিজানুল হক চৌধুরী নামে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীও ছিল। এই বিদ্রোহী প্রার্থীও অলির ছেলের পরাজয়ের আরেকটি কারণ।
সবমিলিয়ে কর্নেল অলি ৮৭ বছর বয়সে এসে একূল-ও কূল দুই কূলই হারিয়েছেন। একই সঙ্গে চন্দনাইশে অলি নিজের হাতে ছেলেকে ‘বলি’ দিলেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।
এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫১৩ জন। প্রার্থী ছিলেন ৮ জন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, জসিম উদ্দীন আহমেদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান মাত্র ১ হাজার ২৬।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের আলোচিত এ আসনে অলি আহমদ ১৯৮১ সাল থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের প্রথম মেয়াদে ছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রী। আর সেই সময়েই তিনি চন্দনাইশে অভূতপূর্ব অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন। যার প্রতিদান হিসেবে চন্দনাইশের মানুষ দল-মত নির্বিশেষে বার বার তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন।
বিএনপি থেকে বের হয়ে এলডিপি গঠন করে সেই দল থেকেও সংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৬ সালে বিএনপি থেকে বেরিয়ে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রতিষ্ঠা করে ছাতা প্রতীকে নির্বাচন করেন। তবে ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচনে তার আসনটি একপ্রকার কেড়ে নেন আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ২ যুগ পর বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক সংসদীয় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলো বিএনপি।
আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী আলোচিত-সমালোচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন আহমেদকে দলে টেনে বিএনপি চমক সৃষ্টি করে। আর জসিম উদ্দিন অলির ছেলেকে হারিয়ে সৃষ্টি করেন আরেক চমক।
নির্বাচনি প্রচারণায় কর্নেল অলি ও জসিম উদ্দীন আহমেদ একে অপরের বিরুদ্ধে নানা বিষোদগারে ব্যস্ত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত অলিকেই হারতে হয়েছে জসিমের কাছে।
এলাকাবাসী জানান, নানা কারণে আসনটিতে এলডিপির ভরাডুবি হয়েছে। অলি আহমদ সারা জীবন জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা করেছেন। গাল-মন্দ করেছেন। শেষ বয়সে এসে তিনি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে গেছেন; যা ভোটাররা ভালোভাবে নেয়নি।
আবার কর্নেল অলি বিএনপির সঙ্গে বেইমানি করেছেন, আবার বিএনপির বিরুদ্ধে নানান কথাবার্তা বলেছেন, ইতিহাস বিকৃতি করার চেষ্টা করেছেন, স্বাধীনতার ‘ঘোষক’ কিংবা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে তিনি নিজেই উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং হাত ধরে নিয়ে এসেছেন- এমন কথা বলেও আলোচনা-সমালোচনার পাত্র হন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৫০ বছর ধরে যে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন শেষ বয়সে এসে সেই জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে গেছেন- এ বিষয়টিকে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেননি।
১৯৮১ সালে উপনির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ১৯৮৬ সালে ৭ মে তৃতীয় সংসদ, ১৯৮৮ সালে ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন তিনি জাতীয় পার্টির ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন আহমেদকে পরাজিত করেন।
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ম জাতীয় সংসদ, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ, একই বছর ১২ জুন ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে কর্নেল অলি জয়লাভ করেন। ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসন ছাড়াও সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকেও নির্বাচন করেন। নির্বাচনে তিনি দুটি আসনে বিজয়ী হন।
এরপর তিনি চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি ছেড়ে দেন। পরে উপ-নির্বাচনে তাঁর সহধর্মিণী মমতাজ অলি আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় কর্নেল অলি নির্বাচিত হন। একই মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেষ দিকে কর্নেল অলি বিএনপি থেকে বেরিয়ে যান। ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রতিষ্ঠা করেন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপি থেকেও ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করে ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার নিজের আসনটি উত্তরসূরি হিসেবে ছেলের হাতে তুলে দেওয়ার মানসে নিজে নির্বাচন না করে ছেলেকে প্রার্থী করেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অলির নিজের হাতেই ছেলেকে ‘বলি’ দিলেন চন্দনাইশে। বয়স বিবেচনায় আগামী ৪-৫ বছর পর তার আর নির্বাচন করার সক্ষমতা নাও থাকতে পারে। তাই চন্দনাইশে অলির সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতেমা তাসনিম জুমা ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন।
তাসনিম জুমা জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য মনোনীত করা হচ্ছে। আব্দুল্লাহ আল জাবের ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘ড. ইউনূস একটি জালেমকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধন করা হচ্ছে।’ আজ রবিবার রাজধানীতে একটি সভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ইউনূসের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনি এই বাংলাদেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তা জাতি মনে রাখবে।’ আপনি (ড. ইউনূস) যখন লন্ডনে গিয়েছিলেন, তখন আমরা বলেছিলাম, আপনি সেখানে সিজদা দিয়ে এসেছেন। এর ফলস্বরূপ আমরা দেখলাম এই নির্বাচনে প্রশাসনকে ব্যবহার করে কারচুপি করা হলো।’
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের বোনদের ওপর হামলা হচ্ছে, এর জন্য আপনি (ড. ইউনূস) দায়ী থাকবেন। আমরা কাউকে ক্ষমা করার পক্ষপাতী নই।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ায় আপনি (ড. ইউনূস) ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের ওপর জঘন্য হামলা করেছেন।
আমরা যখন ওসমান হাদি হত্যার বিচার চেয়েছি তখন বলা হয়েছে, নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা। বাংলার জমিনে ওসমান হাদি হত্যার বিচার হতে হবে। যদি ওসমান হাদি হত্যার বিচার করা হতো তাহলে আমাদের বোন আজ গণধর্ষণের শিকার হতো না। বিএনপির নামে যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, তার সাহস তারা পেত না। সুত্র: কালেরকণ্ঠ
ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাডি লড়াই হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন আবদুল হাকিম। তিনি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেরারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবার বাবা। যদিও এই আসন নিয়ে জামায়াত আপত্তি জানিয়েছে। তাদের দাবি এই আসনে ইচ্ছেন করে ভোটের ফল পাল্টে দিয়েছেন প্রশাসন।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ডা. আব্দুস সালাম। তার কাছে হেরে যান আবদুল হাকিম। বাবার জন্য কাজ করেও ভোটের মাঠে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি সিগবা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. আব্দুস সালাম পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট । নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান মাত্র ৫ হাজারের কিছু বেশি।
জামায়াত প্রার্থীর ছেলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হওয়ায় স্থানীয়দের ধারণা ছিল তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পারিবারিক পরিচয় ও সাংগঠনিক পদ থাকলেও তা সরাসরি ভোটে রূপান্তর করা কঠিন। মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের প্রভাব তুলনামূলক কম। স্থানীয় অনেকের মতে, সংগঠনের বড় পদ থাকলেই ভোট নিশ্চিত হয় না, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয়কর্মী থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সিবগাতুল্লাহ সিগবা তার বাবার এক নির্বাচনি জনসভায় বলেছিলেন, আমার বাবার জন্য কি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে হবে? আমি জানি, চাইতে হবে না। তিনি তার বাবার জয়ের ব্যাপারে খুব আশাবাদি ছিলেন। কিন্তু সেই বাবার পরাজয় তাকে দেখতে হল।
কেন্দ্রগুলোতে বিএনপির শক্ত অবস্থানের বিপরীতে জামায়াতের অবস্থান ছিল দুর্বল। শিবিরের চেয়ে উপজেলা ছাত্রদল মাঠে সক্রিয় কাজ করার কারণে কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার পরও সেরকম প্রভাব ফেলতে পারেননি সিবগাতুল্লাহ।
অনেকেই আবার বলেছেন, স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের শিবির নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত ঘরটি ফিরে পেতে মালিকপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দুটি লিখিত আবেদন করেছেন।
শহরের থানা রোডে অবস্থিত ওই অফিস ঘরটি ১৯৮০ সাল থেকে বিএনপির পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মরহুম মাহবুবুর রহমানের ছেলে আসাদুজ্জামান মিঠু মিয়ার করা এই আবেদনটি গত শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সর্বশেষ ওই অফিসে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বহিষ্কৃত হন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
আসাদুজ্জামান মিঠু মিয়ার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের পৈতৃক বাড়ির নিচতলায় দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বাড়ির মালিক আরও জানান, ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্টদের কার্যালয়টি ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও তারা এখনও সেখানে অবস্থান করছেন।
মালিকপক্ষের দাবি, তারা বর্তমানে ওই ঘরটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করতে চান, কিন্তু কার্যালয় ছাড়তে অনীহা দেখানোর কারণে তারা উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এতে তারা উপজেলা ও থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
বিএনপির দলীয় কার্যালয় ঘর-সংক্রান্ত বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ‘একটি পক্ষ পার্টি অফিস নিয়ে শত্রুতা করছে। আবেদনকারী মিঠু ঘরের মালিক নন। মূল ঘরমালিক কামরুজ্জামান বাইরে আছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে সমাধান করবেন।’
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘সরকারি ছুটিতে অফিস বন্ধ থাকায় এমন কোনো আবেদন পাননি। ফেসবুকে একটি আবেদন দেখেছেন। এটি ঘরমালিক ও ভাড়াটিয়াদের বিষয়। থানা প্রশাসন বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।’
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, বিএনপি অফিসের ঘর-সংক্রান্ত একটি আবেদন পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ঢাকায় ১৩টি আসনের মধ্যে ৭টিতে বিজয় অর্জন করছে জামায়াত জোট। প্রথমবারের মতো ঢাকার সংসদীয় আসন গুলোতে জয় পেয়ে রাজনৈতিকভাবে রাজধানীতে শিকড় গাড়ল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বিগত সময়ে রাজধানীতেই দলটির শক্ত অবস্থান তেমন ছিলো না। এবার এ ৭ আসনের জয়ের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করল, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে দলটি।
ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।
ঢাকা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. কামাল হোসেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. নবী উল্লা পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট।
ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির নাহিদ ইসলাম ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়ছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।
ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম ৫৩ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল আলম নীরব পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট।
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মীর আহমাদ বিন কাসেম ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট।
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট।
ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
এসব আসনে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এতদিন রাজধানীতে কোনো সংসদীয় আসন জিততে পারেনি দলটি, ফলে এই ফলাফলকে রাজনৈতিকভাবে “ব্রেকথ্রু” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী আগের তুলনায় বেশি ভোট পেয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত হলো মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, আগে জোটনির্ভর দল হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তারা স্বতন্ত্র ভোটব্যাংকের ইঙ্গিত দিয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় পর্যায়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট, আর জামায়াত বড় বিরোধী শক্তি হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখবে।
গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ৪৪ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দল শুরু থেকেই একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং সেই অবস্থানে এখনও অটল রয়েছে। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
ডা. শফিকুর রহমান রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপি ৩০ আসনে নেমে এসেছিল। ২০২৬ সালে সরকার গঠেন পথে দলটি, যে যাত্রায় সময় লেগেছে ১৮ বছর। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার– বিশ্বাস অর্জন করুন, হিসাব করার ক্ষমতা রাখুন এবং ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুত হোন।
২০০১ সালে ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট ২১০টি আসন লাভ করে। বিএনপি এককভাবে লাভ করেছিল ১৯৩টি আসন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬২টি আসন পেয়েছিল।
অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাত্র ১৭টি আসন লাভ করেছিল। তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শরিক হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। ফলে দর্ঘী ২৫ বছরের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর আসন এখন জোটসহ ৭৭টি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী ঢাকায় বড় সমাবেশ করে যা তাদের রাজনৈতিক বয়সে এর আগে কখনোই এমন বড় সমাবেশ করতে দেখা যায়নি। এমনকি রাজনৈতিকভাবে কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছিল দলটি। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে কর্মী এনে রাজধানীকেন্দ্রিক শক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয় তারা।
ঢাকার যে কয়টি আসন আছে তার মধ্যে বাণিজ্যিক আসন বলা হয় ঢাকা-১২ আসনকে। এই নির্বাচনী এলাকায় দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেট হেড অফিস, টিভি চ্যানেল সেন্টার এবং তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড ও দেশের বৃহত্তম পাইকারি কাঁচাবাজার অবস্থিত। এ আসনটিও এখন জামায়াতের দখলে।
রাজধানীতে প্রথমবার সংসদীয় আসন জয়ের মাধ্যমে জামায়াত শুধু নির্বাচনী সাফল্যই পায়নি, বরং ঢাকার রাজনৈতিক মানচিত্রে স্থায়ী উপস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতিতে দলটির প্রভাব বাড়বে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের এই উত্থানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখছেন, কারণ এর আগে ঢাকা মহানগরীতে তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক ভোট এত বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি
যে কারণে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না মোদি
বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকছেন না।
তবে তার পরিবর্তে ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী অনুষ্ঠানে
এনডিটিভির প্রতিবেদন / রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস?
বাংলাদেশে বহুল প্রতিক্ষীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নবনির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হবে বলে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির সরকার
নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে একগুচ্ছ ছবি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
ছবিগুলো পোস্ট করে সাফা লিখেছেন, ‘এমন ক্যাফেগুলো খুবই ভালোবাসি যেগুলোর নিজস্ব নান্দনিক ছোঁয়া থাকে—প্রকৃতির খানিকটা মিশ্রণ, ভালো খাবার, আনন্দদায়ক পরিবেশ, আর ছবির জন্য আদর্শ স্থান। মুহূর্তটা হাতছাড়া করতে পারিনি, তাই ধরে রাখলাম।’ অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
তাঁর নতুন ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন ভক্ত–অনুসারীরা। অনেকেই লিখেছেন, ‘আপনাকে সুন্দর লাগছে।’
ব্যাংককে কাজের সূত্রে, নাকি ঘোরাঘুরি করতে গিয়েছেন, তা অবশ্য জানাননি সাফা।
‘তুমি’, ‘সন্ধি’, ‘শেষ থেকে শুরু’সহ গত কয়েক মাসে সাফা অভিনীত বেশ কিছু নাটক আলোচিত হয়েছে।
এমনিতেই কাজের ফাঁকে ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করেন সাফা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
Share
অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী এখন আছেন পূজার আনন্দে। মঙ্গলবার অষ্টমীর দিনে পোস্ট করেছেন নতুন বেশ কয়েকটি ছবি
Share
দুই পরিবারের উপস্থিতিতে ছোট আয়োজনেই বিয়ে সারেন শবনম ফারিয়া। শুক্রবার সন্ধ্যায় সুসংবাদটি গণমাধ্যমে নিজেই ভাগ করে নেন অভিনেত্রী নিজে। শবনম ফারিয়া, ছবি : ফেসবুক
Share
সোনালি আভা ছড়াচ্ছে ভোরের সূর্য।
পথের ধারে হলুদ ফুলের সৌন্দর্য।
Share
বিক্রির জন্য তুলে আনা হয়েছে লাল ও সাদা শাপলা।
জলাবদ্ধতায় মাছের ঘেরের পানি আর খালের পানি একাকার হয়ে গেছে।
Share
ছোটপর্দার ব্যস্ততম নায়িকা তানজিম সাইয়ারা তটিনী
আমি যা নই পর্দায় তাই হচ্ছি
ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তটিনীকে
Share
শাপলা তুলছে এক কিশোর
আফগানিস্তানে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা
অবরুদ্ধ গাজায় মায়েদের কান্না থামবে কবে?
Share
Share
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাচ্ছেন তারেক রহমান ও পরিবারের সদ্যসরা
Share
রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, সেনাবাহিনী-বিজিবি-পুলিশের অবস্থান
ব্যাংককে সাফা, রইল ৭টি ছবি
পূজার আনন্দে মন্দিরা, রইল ১০টি ছবি
শবনম ফারিয়ার বিয়ে
সোনালি আভা
প্রকৃতি
তটিনী
শাপলা
Bird
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাচ্ছেন নেতাকর্মীরা