সংসদীয় দায়িত্ব বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বে যে ৩ মন্ত্রী
সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলে তার বিকল্প হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবেন, তাও নির্ধারণ
প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিককে ব্যঙ্গ করা মন্ত্রীর পেশাদার আচরণ নয়: হাসনাত
‘তার কেনো জ্বালা হচ্ছে?’, ব্রিটিশ পাসপোর্ট প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির
রাজধানীতে ৫ হাজার ইয়াবাসহ এএসআই গ্রেপ্তার
ঘুম থেকে তুলে ছেলেকে পুলিশের হাতে দিই, গায়ে ছিল গেঞ্জি: সিদ্ধার্থের বাবা
বিএনপি সরকারের ছয় মাসে ৫১২ জন গুমের শিকার হয়েছেন বলে দেওয়া বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বলে ভুল স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
সোমবার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৫১২ জন ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন।’ তার ওই ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর এক দিন পর মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বক্তব্যটি সংশোধন করেন জামায়াতের এই নেতা।
স্ট্যাটাসে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ লেখেন, ‘গতকালের সংবাদ সম্মেলনে গুমসংক্রান্ত আমার বক্তব্যের স্পষ্টীকরণ। বর্তমান সরকারের গত ৬ মাসের হামলা-মামলা, জুলুম-নির্যাতন ও গুম-খুনের পরিসংখ্যান উপস্থাপনের সময় ‘অপহরণ (Kidnap)’ বলতে গিয়ে স্লিপ অব টাংয়ের কারণে ‘গুম’ শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমি ৫১২টি অপহরণের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম, যার সূত্র দৈনিক প্রথম আলো, ১৯ আগস্ট ২০২৬। অপহরণের ৫১২টি ঘটনা সঠিক, যা পুলিশ সদর দপ্তরের রিপোর্টেও প্রকাশিত হয়েছে।’
অর্থাৎ, ৫১২ জন গুমের শিকার হয়েছেন—আগের দিনের এমন বক্তব্য থেকে সরে এসে তিনি ওই সংখ্যা অপহরণের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের ছয় মাসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গিয়ে হামলা, মামলা, জুলুম-নির্যাতন, গুম ও খুনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন হামিদুর রহমান আযাদ। সেই সময়ই ৫১২ জন গুমের শিকার হওয়ার কথা বলেন তিনি। পরে নিজের বক্তব্যকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করে তা সংশোধন করেন।
নির্বাচনের আগে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি সরকার প্রথম ছয় মাসে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ছয় মাসে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি তো হয়নি, উল্টো ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ বলতে বাধ্য হবে, ‘You came empty-handed & you have no plan at all.’ অর্থাৎ, ‘আপনারা খালি হাতে এসেছেন, আপনাদের কোনো পরিকল্পনাই নেই।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিএনপি সরকারের ৬ মাসের চিত্র তুলে ধরে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘একদিকে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ছয় মাসে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের চাকরি হারানো—এই বাস্তবতার মধ্যেই সরকারের কর্মসংস্থান নীতির সাফল্য-ব্যর্থতা মূল্যায়ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, শ্রমবাজারে সরকারের সরাসরি নিয়োগের সুযোগ সীমিত। কর্মসংস্থানের মূল চালিকা শক্তি বেসরকারি খাত ও প্রবাসী শ্রমবাজার। সরকারের কাজ হবে কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করা, নীতিগত সহায়তা দেওয়া, অর্থায়নের কাঠামো তৈরি এবং অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা।
এনসিপির এই নেতা বলেন, দেশের শ্রমবাজারের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে। এই খাতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
হাসনাতের অভিযোগ, ব্যাংকঋণের বড় অংশ সরকার নিয়ে নেওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গেছে। এর ফলে গ্রামীণ উদ্যোক্তা, কৃষক, জেলে ও খামারিরা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কর্মসংস্থান নীতিতে ভাতা ও কার্ডনির্ভর জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের উচিত ভাতা ও কার্ডের পরিবর্তে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ অর্থায়ন এবং উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, কৃষককে শুধু ‘ফার্মার কার্ড’ দিলেই হবে না; সার, বীজ, আধুনিক কৃষিযন্ত্র এবং বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে পরিবারের সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকারকে দ্রুত ভাতা ও কার্ডনির্ভর জনতুষ্টির রাজনীতি থেকে সরে এসে কর্মসংস্থান তৈরির পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। শহর ও গ্রামে দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা, সহজ অর্থায়ন এবং কর্মসংস্থান সহায়ক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষ দিকে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ ইংরেজিতে লেখেন, ‘You came empty-handed & you have no plan at all.’ অর্থাৎ, ‘আপনারা খালি হাতে এসেছেন, আপনাদের কোনো পরিকল্পনাই নেই।’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুলনা করেছেন সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, নজরুল তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে আছেন, আর ‘আমাদের নজরুল হলেন তারেক রহমান’।
সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, নজরুল তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আমরা প্রতিটি ঘরে, সারা দেশে নজরুলকে খুঁজি। আমাদেরও একজন নজরুল আছেন। আমরা হয়তো তাকে দেখতে পাই না, কিন্তু তাকে চিনতে না পারলে আমাদেরই ভুগতে হবে।
প্রধান হুইপ বলেন, তারেক রহমান মাত্র ছয় মাস আগে ক্ষমতায় এসেছেন। এর মধ্যেই দেশকে কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি বলেন, তারেক ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। ৮৫টি দেশে রাতারাতি তেলের দাম বেড়ে গেল। আমাদের নজরুল তেলের দাম বাড়াননি।
জ্বালানি সংকটের সময় পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সেই লাইন আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। তিন দিনের মধ্যে কি আকাশ থেকে তেল পড়েছিল? আমাদের বুঝতে হবে। তেল আগে থেকেই এখানে ছিল। কিছু মানুষ সমাজে সমস্যা তৈরি করে।
দেশের বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও কথা বলেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিদ্যুৎ সমস্যায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়লে তারেক রহমানের এতে কী লাভ? তিনি বলেন, এখানে সবাই বিদ্যুতের সমস্যায় ভুগছে। এতে তারেকের কী লাভ? তারেক রহমান কি এতে লাভবান হন?
সরকার আন্তরিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে কি না, তা জনগণকে যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সমস্যা তৈরি করছে, তাদের চিহ্নিত করার কথাও বলেন।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ দ্বৈত আচরণ করছেন বলেও মন্তব্য করেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, কেউ অধৈর্য হয়ে রাস্তায় নামেন, বলেন বিদ্যুৎ নেই। সামনে কেউ হারিকেন নিয়ে বসেন। কিন্তু পেছনে তাকালে দেখা যায়, ফ্যান ঘুরছে আর সামনে হারিকেন। এটা দ্বৈত মানদণ্ড।
বাংলাদেশে কেউ কেউ এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করছেন অভিযোগ করে সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমানের কাছে কয়েক দিনের মধ্যে দেশের সব সমস্যার সমাধান আশা না করার আহ্বান জানান প্রধান হুইপ। তিনি বলেন, তারেক রহমান শিল্পের উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। তারেক রহমানের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, গ্রাম থেকে শহর—এমন কোনো খাত নেই যেখানে নজরুল হাত বাড়িয়ে দেননি।
তারেক রহমানকে একজন সহানুভূতিশীল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একজন মানুষ পেয়ে ভাগ্যবান। তিনি বলেন, এমন একজন নজরুল আর জন্মাবে না। আমরা যদি এই নজরুলকে হারাই, বাংলাদেশ আরেকজন নজরুল পাবে না।
এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গেও তারেক রহমানের তুলনা করেন তিনি। জিয়াউর রহমানকেও তিনি ‘একজন নজরুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সেই নজরুল চলে যাওয়ার পর আমরা দীর্ঘদিন স্বৈরতন্ত্রের নিপীড়নের শিকার হয়েছি। এই নজরুল যদি আবার চলে যান, আমরা সেই নিপীড়ন থেকে কখনো ফিরে আসতে পারব কি না, জানি না।
বক্তব্যের শেষ দিকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে থাকব। আমরা সবাই এই নজরুলের বাঁশির সুর শুনব।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। দলের সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পদটি শূন্য হয়। সেই দায়িত্বে রিজভীকেই বেছে নিয়েছে বিএনপি। ফলে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা একজন সাংগঠনিক নেতার নেতৃত্বে দল আরও গতিশীল হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় রুহুল কবির রিজভীকে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টও দিয়েছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, স্থগিত কমিটি পুনর্গঠন করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির তৃণমূলের একাধীক নেতা জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের চেয়ারে একজন যোগ্য লোককেই বসিয়েছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছে এটা তার প্রাপ্য। তার নেতৃত্বে বিএনপির তৃণমূল আরো সুসংগঠিত হবে। রিজভী দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামের সামনের সারিতে ছিলেন। ফলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি। এতে কর্মীদের মধ্যে নতুন আস্থা তৈরি হয়েছে।
এদিকে রোববার এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা চলমান থাকবে। তিনি বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে এই পুনর্গঠন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানতে চাইলে নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম নেওয়াজ এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। জেল জুলুম শারীরিক মানসিক এমন কোনো নির্যাতন নেই যা তার ওপর করা হয়নি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্যাতিত নেতা রুহুল কবির রিজভীকে মূল্যায়ন করে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করেছেন এজন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু এনপিবি নিউজকে বলেন, রুহুল কবির রিজভী পরীক্ষিত ত্যাগী নির্যাতিত নেতা। তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়ায় আমরা অনেক খুশি ও আনন্দিত। এজন্য বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ছাত্র জীবন থেকেই দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন, গুলি খেয়েছেন পঙ্গু করেছেন জানিয়ে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খোন্দকার আবু আশফাক এনপিবি নিউজকে বলেন, তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছে এটা তার প্রাপ্য। এর জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। বিএনপি সরকার গঠন করার পরে সবাই সরকার নিয়ে ব্যস্ত থাকাতে সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। এখন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে এম কিবরিয়া স্বপন এনপিবি নিউজকে বলেন, রুহুল কবির রিজভী দলের একজন নিবেদিত প্রাণ। তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ায় দলের চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা বিশ্বাস করি তার মত নিবেদিত মানুষকে দায়িত্ব দেওয়ায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে।
নোয়াখালী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান এনপিবি নিউজকে বলেন, ছাত্রদল থেকে উঠে আসা রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এর দায়িত্ব দেওয়ায় খুবই ভালো হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। তাকে যে পদ দেয়া হয়েছে এটা তার প্রাপ্য বলেও উল্লেখ্য করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন খান এনপিবি নিউজকে বলেন, একজন যোগ্য লোককেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রাজপথের একজন পরীক্ষিত নেতা। তার নেতৃত্বে বিএনপি'র তৃণমূল আরো সুসংগঠিত হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান একজন যোগ্য লোককেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পদে বসিয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন, তা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি নির্বাচনে দল থেকে একজন মাত্র একক প্রার্থী দেয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন। কারণ, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না।
দলকে সুশৃঙ্খল ও সুসমন্বিতভাবে পরিচালনা করাই এখন আমাদের দায়িত্ব উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলের নেতাকর্মীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ জনগণকে অবহিত করবেন এবং তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন।
নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কেউ অনৈতিক চিন্তা করার সুযোগ পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, জনস্বার্থের বাইরে বিএনপি কোনো কাজ করবে না।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় ১১ দলীয় জোটের নেতারা পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে আইজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করবেন।
বৈঠকে লং মার্চের সার্বিক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও নির্বিঘ্নে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সাক্ষাৎ শেষে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এ তথ্য জানান।
১১ দলীয় ঐক্য সূত্রে জানা গেছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বৈষম্যবিরোধী রাজনৈতিক দাবিগুলো সামনে রেখে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
গত ১৭ আগস্ট লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে কর্মসূচি সফল করার জন্য নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে লং মার্চকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি, প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলছেন, তাদের ঘোষিত কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ করা নয়, বরং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা। এ কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে তারা চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।
লং মার্চের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এর আগে জোটের নেতারা বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছেন। কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পথে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে লং মার্চের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এরই অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জোটের নেতারা।
এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বৈঠকে লং মার্চের রুট, অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করা হবে। সাক্ষাৎ শেষে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় থাকলে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা সহজ হবে। তাই লং মার্চের আগে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জোট সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপি সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
তার দাবি, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ মোট ২৯টি ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি। সেখানে নাহিদ ইসলাম এসব অভিযোগ করেন।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৮০ দিনে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর কোনোটিই বিএনপি সরকার যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারেনি। জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অব্যবস্থাপনা স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার ১৮০ দিনে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ মোটা দাগে ২৯টি জায়গায় অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কোনোটিই তারা রক্ষা করতে পারেনি।’
জুলাই জাদুঘর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার অভিযোগ করেন নাহিদ। তার ভাষ্য, ‘জুলাই জাদুঘর থেকে ফেলানিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি চিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে।’
র্যাবের ভবিষ্যৎ নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। দীর্ঘদিন ধরে র্যাব বিলুপ্তির দাবি থাকলেও সরকার সংস্থাটিকে বিলুপ্ত না করে নতুন নামে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারার বিষয়টিকেও সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এটি সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ।
সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, সময়ের বিচারে ছয় মাস যথাযথ মূল্যায়নের জন্য কম হলেও সরকারের ব্যর্থতা ও অপরিকল্পনার জন্য জনগণের কাছে তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। তার অভিযোগ, সরকার আবারও পুরনো রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার ওই অবস্থান থেকে সরে না এলে তাদের ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে পড়তে হবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘সরকার সার্বিকভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
এ সময় ভারত ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ‘৫ আগস্ট ভারত সরকারের সহযোগিতাতেই দিল্লিতে শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করেছে।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তার পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বিলুপ্ত করার সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সময় আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপি আরও ভালো আইন করবে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে আগের ব্যবস্থার তুলনায় মানবাধিকার সুরক্ষার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।’
নাহিদ ইসলামের দাবি, গুমের অভিযোগ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে করা হলে সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেই থাকবে। পরে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আরও ভালো আইনের পরিবর্তে মন্ত্রী মহোদয় ফ্যাসিবাদী আমলের চেয়েও ভয়াবহ জায়গায় ফিরে গেছেন।’
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার কথা বলে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের জন্য যুগপৎ আন্দোলন করেছিল বিএনপি। নির্বাচনের সময়ও ৩১ দফাকে সামনে রেখে ভোট চেয়েছিল দলটি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই ৩১ দফার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি বলেন, ৩১ দফার প্রথম দফায় একটি সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে সব অগণতান্ত্রিক সংশোধনী বাতিল এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় বসার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপি সংবিধান সংস্কারের কথা ভুলে গেছে।
নাহিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘গণভোটে জনগণের দেওয়া সুস্পষ্ট রায়কেও বিএনপি সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। একত্রিশ দফার কথা বলে নির্বাচনী বৈতরণী পার করেছে বিএনপি। ক্ষমতায় বসার সঙ্গে সঙ্গে সংবিধান সংস্কার ভুলে গেল বিএনপি।’
বিএনপির ৩১ দফার বিচার বিভাগসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৩১ দফায় অধস্তন আদালতগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছিল। বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথাও ছিল। অথচ ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ’ বাতিল করেছে বিএনপি সরকার। এর ফলে বিএনপির ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরকারের বর্তমান অবস্থানের অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।’
তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তার পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বিলুপ্ত করার সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সময় আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপি আরও ভালো আইন করবে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে আগের ব্যবস্থার তুলনায় মানবাধিকার সুরক্ষার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।’
নাহিদ ইসলামের দাবি, গুমের অভিযোগ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে করা হলে সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেই থাকবে। পরে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আরও ভালো আইনের পরিবর্তে মন্ত্রী মহোদয় ফ্যাসিবাদী আমলের চেয়েও ভয়াবহ জায়গায় ফিরে গেছেন।’
ডিএনএ পরীক্ষায় বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সঙ্গে রক্তের সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ার পর ২৬ বছর বয়সে রাজপুত্রের মর্যাদা পেয়েছেন দেশটির এক যুবক।
ক্লেমঁ ভানদেনকারখোভের
কলম্বিয়ার সাথে হারের পর কোচ রবার্তো মার্তিনেজের সাথে বিমর্ষ রোনালদোরা।
বিড়ালকে সঙ্গে নিয়ে জাপান ভক্তের ম্যাচ উদ্যাপন
নিজের অষ্টম জন্মদিনে রোনালদোর অটোগ্রাফের জন্য ভক্তের আবদার
প্রিয় দলকে উৎসাহ দিতে বর্ণিল সাজে আর্জেন্টিনার ক্ষুদে ভক্ত
Share
নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে একগুচ্ছ ছবি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
ছবিগুলো পোস্ট করে সাফা লিখেছেন, ‘এমন ক্যাফেগুলো খুবই ভালোবাসি যেগুলোর নিজস্ব নান্দনিক ছোঁয়া থাকে—প্রকৃতির খানিকটা মিশ্রণ, ভালো খাবার, আনন্দদায়ক পরিবেশ, আর ছবির জন্য আদর্শ স্থান। মুহূর্তটা হাতছাড়া করতে পারিনি, তাই ধরে রাখলাম।’ অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
তাঁর নতুন ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন ভক্ত–অনুসারীরা। অনেকেই লিখেছেন, ‘আপনাকে সুন্দর লাগছে।’
ব্যাংককে কাজের সূত্রে, নাকি ঘোরাঘুরি করতে গিয়েছেন, তা অবশ্য জানাননি সাফা।
‘তুমি’, ‘সন্ধি’, ‘শেষ থেকে শুরু’সহ গত কয়েক মাসে সাফা অভিনীত বেশ কিছু নাটক আলোচিত হয়েছে।
এমনিতেই কাজের ফাঁকে ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করেন সাফা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
Share
Share
অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী এখন আছেন পূজার আনন্দে। মঙ্গলবার অষ্টমীর দিনে পোস্ট করেছেন নতুন বেশ কয়েকটি ছবি
Share
দুই পরিবারের উপস্থিতিতে ছোট আয়োজনেই বিয়ে সারেন শবনম ফারিয়া। শুক্রবার সন্ধ্যায় সুসংবাদটি গণমাধ্যমে নিজেই ভাগ করে নেন অভিনেত্রী নিজে। শবনম ফারিয়া, ছবি : ফেসবুক
Share
সোনালি আভা ছড়াচ্ছে ভোরের সূর্য।
পথের ধারে হলুদ ফুলের সৌন্দর্য।
Share
বিক্রির জন্য তুলে আনা হয়েছে লাল ও সাদা শাপলা।
জলাবদ্ধতায় মাছের ঘেরের পানি আর খালের পানি একাকার হয়ে গেছে।
Share
ছোটপর্দার ব্যস্ততম নায়িকা তানজিম সাইয়ারা তটিনী
আমি যা নই পর্দায় তাই হচ্ছি
ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তটিনীকে
Share
শাপলা তুলছে এক কিশোর
আফগানিস্তানে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা
অবরুদ্ধ গাজায় মায়েদের কান্না থামবে কবে?
Share
Share
ছবিতে বিশ্বকাপ
ব্যাংককে সাফা, রইল ৭টি ছবি
রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, সেনাবাহিনী-বিজিবি-পুলিশের অবস্থান