

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নব্বই দশকের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের মাতম ওঠে বিনোদন জগতে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বন্ধু ও অনুরাগীরাও শোকাহত।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।
বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টায় তার মরদেহ চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হলে সেখানেই জানাজা সম্পন্ন হয়। সেখানে তার জানাজায় শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা অংশ নেন।
শামস সুমনের পরিবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশের উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছেন। তার পরিবার ফিরলেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তার আগ পর্যন্ত শামস সুমনের মরদেহ রাজধানীর সিএমএইচের হিমঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তবে হঠাৎ করে এই অভিনেতার এমন প্রয়াণ যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার সহকর্মী, বন্ধু থেকে শুরু করে ভক্ত-অনুরাগীরা। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) অভিনেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন স্মৃতিচারণায় ভরে ওঠে নেটিজেনদের টাইমলাইন। অনেকেরই প্রশ্ন, হঠাৎ কী ঘটেছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এই অভিনেতার?
শামস সুমনের মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে হওয়া কথোপকথন প্রসঙ্গে অভিনেতা আবুল কালাম আজাদ জানান, বিকাল পৌনে চারটার দিকে ভিডিওকলে কথা হয়েছিল শামস সুমনের সঙ্গে। তখনই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ‘আমি বলছিলাম, এখনই হাসপাতালে যেতে হবে। না গেলে আমি লোক দিয়ে পাঠাব। সে বলছিল, যাচ্ছি, যাচ্ছি। কিন্তু বুঝিনি-এই যাওয়াটাই শেষ হয়ে যাবে,’ বলেন আজাদ। তার কণ্ঠে ছিল গভীর শোক—‘বন্ধু পাওয়া কঠিন, কিন্তু বন্ধুকে হারানো আরও কঠিন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শামস সুমনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পাঁচটার পরপরই তাকে দ্রুত রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছেও তিনি সচেতন ছিলেন-নিজের পায়ে হেঁটে চলাফেরা করেছেন, আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন।
হাসপাতালে উপস্থিত অভিনেতা মাসুদ রানা মিঠু বলেন, ‘আমি গিয়ে দেখি ভাইকে এমআরআই রুমে নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পর নিজেই হেঁটে বের হয়ে এলেন। আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। আমরা বললাম, ভাই আমরা আছি। উনি বললেন, আচ্ছা। তখন তো মনে হয়নি, এত বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’
কিন্তু এমআরআই শেষে ড্রেসিংরুমে পোশাক পরিবর্তনের সময় আচমকা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন শামস সুমন। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সহকর্মীরা ছুটে যান। কয়েকজন মিলে তাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তখন তিনি কাতর স্বরে ‘ও আল্লাহ, ও মা’ বলতে বলতে নীরব হয়ে যান।
দ্রুত শামস সুমনকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে প্রাণপণ চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত আর তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। পরে জানা যায়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তার মৃত্যু হয়েছে।
নব্বইয়ের দশকে টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ শামস সুমন মঞ্চ, ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই কাজ করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’ দিয়ে তার সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু। পাশাপাশি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি বেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
জানা যায়, জীবনের শেষ সময়টা শামস সুমনের জন্য সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন কাজের বাইরে থাকা, শারীরিক জটিলতা এবং একধরনের ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা তাকে ঘিরে ছিল। স্ত্রী ও সন্তানেরা ছিলেন দেশের বাইরে। তবু তার ইচ্ছা ছিল আবার কাজে ফেরার—ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর।
মন্তব্য করুন
