

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীতে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের নতুন তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। চলছে যাচাই-বাছাই।
পাশাপাশি অভিযানের ধরন কী হবে তা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। ডিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, অভিযান কোনোভাবেই যেন ব্যর্থ না হয় সে জন্য আটঘাট বেঁধেই অভিযান চালানো হবে। বিশেষ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজির বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ডিএমপি সদর দপ্তরে এক মতবিনিময় সভায় এই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন, যা প্রথমে ঢাকা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চলবে। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতারে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ডিএমপির একটি সূত্র জানিয়েছে, তালিকায় শীর্ষ চাঁদাবাজ ১৪০ জন রয়েছে। চাঁদাবাজদের তালিকায় সর্বাধিক সংখ্যা কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবীতে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর প্রধানদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের মধ্যে একটা স্বস্তি বার্তা পৌঁছা তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, আপাতত মহানগর পুলিশকে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের তালিকা প্রস্তুতির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে প্রথম পর্যায় বিশেষ বিশেষ এলাকাকে চিহ্নিত করে তালিকা করা হবে।
ডিএমপির একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) কাজে জমা দিয়েছেন। ডিসি অফিসে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ডিসিরা তালিকা ডিএমপি সদর দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের একজন ওসি জানিয়েছেন, অপরাধীদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ করে জমা দেওয়ার পর থেকে অপেক্ষা করছি কখন ঊর্ধ্বতন (ডিএমপি) কর্মকর্তাদের নির্দেশনা আসে। নির্দেশনার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান শুরু করা হবে।
এজন্য থানার এসআই, এএসআইদের প্রয়োজনীয় ব্রিফ দিয়ে রেখেছেন। তালিকায় যেসব অপরাধীর নাম এসেছে, তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে চাঁদাবাজদের উপর।
একজন রেঞ্জ ডিআইজি জানিয়েছেন, তালিকা তৈরির পুলিশ সদর দপ্তরের লিখিত কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। তবে মৌখিক নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ সুপার, থানার ওসিদের তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তারা কাজও শুরু করেছেন।
চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী: ডিএমপি সদর দপ্তরে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
প্রথমত, চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্বিতীয়ত, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে পুলিশকে ‘নির্মোহ’ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জনগণ স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে।
মন্তব্য করুন