

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বগুড়ায় তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের সন্তানদের যে বৃত্তি দেয়া হয় তা কোন দয়া নয় বরং গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ, যাতে অতীতের ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে সাংবাদিকরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কলম দিয়ে লড়াই করেছেন এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ফলে সাংবাদিকদের জন্য যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার কোন দয়া নয়, অনুদান নয়, এটা তাদের প্রাপ্য। এটা গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার চেষ্টা।
এর আগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় যৌক্তিক মজুরি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি প্রথাগত গণমাধ্যম থেকে নতুন গণমাধ্যমে রূপান্তরের জন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে পরামর্শ করে রোডম্যাপ তৈরির কথা বলেছেন। সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া তিনি অতীতের ক্ষমতাসীনদের গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন। বর্তমান সরকার তা থেকে বেরিয়ে আসছে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর দুদিন আগে তথ্যমন্ত্রী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার অনুষ্ঠান শেষে এক আড্ডায় বলেছেন গণমাধ্যম শিল্পকে একটি উন্নত পর্যায়ে নিতে হলে এবং মেধাবী সাংবাদিকদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে সাংবাদিকদের জন্য সম্মানজনক ওয়েজবোর্ড নিশ্চিত করা জরুরী।
একটা গার্মেন্টস শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের যে নিরাপত্তা আছে, অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সেই নিরাপত্তাটুকু নেই। এখানে তিনি গণমাধ্যম শিল্পের সমস্যা সমাধানে ঐক্যমতের উপর জোর দিয়ে বলেন অচিরেই সাংবাদিকদের সবগুলো সংগঠনের সঙ্গে এ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে।
এ সময় রিপোর্টারদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জন্য একটা নতুন ওয়েজবোর্ড গঠন ঈদে পাঁচ দিনের ছুটি এবং অবসর ভাতা চালু দাবি জানানো হয়।
তথ্য মন্ত্রীর বক্তব্য চমৎকার, উপলব্ধি আরও চমৎকার, তিনি বলেনও ভালো। এ পর্যন্ত তিনি অনেকগুলো সুন্দর কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের লড়াইয়ের কথা বলেছেন, বলেছেন তাদের অধিকারের কথা।
ইতিমধ্যে ঈদে সাংবাদিকদের ৫ দিন ছুটি মঞ্জুর হয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সাংবাদিকরা লড়াই করেছেন, অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন, অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, এমনকি জীবনও হারিয়েছেন। অবর্ণনীয় আর্থিক কষ্টের মধ্যে সাংবাদিক ও তাদের পরিবারগুলো সময় পার করেছেন।
ইতিমধ্যে স্বল্প সংখ্যক সাংবাদিকের কর্মসংস্থান হয়েছে, বাকি প্রায় ৫ শতাধিক সাংবাদিক এখনো বেকার।
বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে তাদের কর্মসংস্থান হতে পারে। সরকার উদ্যোগ নিতে পারে দৈনিক বাংলা, টাইমস ট্রাস্ট খুলে দেওয়ার। জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ অনেকের চাকরি হতে পারে।
আমরা আশা করতেই পারি বর্তমান তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কোনো ফাঁকা বুলি হবে না। তিনি যে সকল অঙ্গীকার করেছেন, বক্তব্য দিয়েছেন আশা করছি ধীরে ধীরে তা সবই কার্যকর হবে। দেশে গণতন্ত্রের উন্নয়নের পাশাপাশি সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।
একই সঙ্গে নিশ্চিত হবে সাংবাদিকের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের কর্মসংস্থান, সাংবাদিক কাজের এবং জীবনের নিরাপত্তা। আমরা বর্তমান সরকার এবং তথ্যমন্ত্রীর সাফল্য কামনা করছি। এবং আরো আশা করছি এই সরকার যেমন জনবান্ধব হবে, তেমনি এই তথ্যমন্ত্রীও হবেন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকবান্ধব।
মন্তব্য করুন