

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। তবে প্রায়ই দেখা যায়, রাসূল (সা.) এর জন্মভূমি সৌদি আরবে ঈদ ঘোষণার একদিন পর ঈদ উদযাপন করে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে। মূলত চাঁদ দেখার পদ্ধতি, ভৌগোলিক অবস্থান ও শরিয়াহভিত্তিক সিদ্ধান্তের কারণে এই পার্থক্য দেখা যায়।
এক দেশ অথবা অঞ্চলে চাঁদ দেখা গেলেও অন্যদেশ বা অঞ্চলে চাঁদ দেখা নাও যেতে পারে। কারণ, চাঁদ দেখার জন্য সূর্য এবং চাঁদের মধ্যে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি কোনের প্রয়োজন হয়। সূর্যের সময় অনুযায়ী যেখানে সময়ের পার্থক্য ৪ থেকে ৬ ঘন্টার মতো লেগে যায়। আর অন্যদিকে চাঁদের বয়স যাই হোক না কেন, সেই কোণ অর্থাৎ ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি উৎপন্ন করতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা সময় লাগে। আর এই ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা সৌরস সময় প্রায় একদিন।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদের তারিখ
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী রমজান মাস শেষ হওয়ার প্রমাণ হলো নতুন চাঁদ দেখা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা শুরু করবে এবং চাঁদ দেখে রোজা শেষ করবে।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) এই হাদিসের আলোকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ আকাশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সময়ের পার্থক্য
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে চাঁদ একসঙ্গে দৃশ্যমান হয় না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের পশ্চিমে অবস্থিত। ফলে সেখানে অনেক সময় নতুন চাঁদ আগে দেখা যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ পূর্ব দিকে হওয়ায় এখানে অনেক সময় একই দিন চাঁদ দেখা যায় না। তাই সৌদিতে ঈদ ঘোষণার পরদিন বাংলাদেশে চাঁদ দেখা গেলে তখন ঈদ উদযাপন করা হয়।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে সরকারি সংস্থা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এই কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদ দেখার খবর সংগ্রহ করে এবং শরিয়াহ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেয়। যদি বাংলাদেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়, তখন পরদিন ঈদ ঘোষণা করা হয়। আর যদি দেখা না যায়, তাহলে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করা হয়।
সৌদির ঘোষণা কেন অনুসরণ করা হয় না
অনেকেই প্রশ্ন করেন, সৌদি আরব ইসলামের পবিত্র ভূমি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ কেন তাদের ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ পালন করে না? ইসলামী ফিকহের অধিকাংশ আলেমের মতে, প্রত্যেক অঞ্চলের চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই ঈদের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। কারণ এক অঞ্চলে চাঁদ দেখা গেলেও অন্য অঞ্চলে তা দেখা নাও যেতে পারে।
কখনও একই দিনেও ঈদ হয়
যদিও অনেক সময় সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ হয়, কিন্তু সব বছর এমনটা ঘটে না। আকাশের অবস্থান অনুকূলে থাকলে উভয় দেশেই একই দিনে চাঁদ দেখা যায় এবং তখন একই দিনে ঈদ উদযাপন করা হয়। যেহেতু আমরা মুসলিম উম্মাহরা চন্দ্রবর্ষ হিসেব করে আমাদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক উৎসব (রোজা, লাইলাতুল কদর, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা) পালন করে থাকি। তা মূলতঃ পৃথিবীর সকলেই একদিনে পালন করে থাকি।
এর মানে আরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশীয়াসহ আমরা সব দেশেই একই চন্দ্রদিবসে পরিচালিত হই। শুধু, টাইমজোন আলাদা হওয়া সৌর সময় ও চন্দ্র সময় আপাতদৃষ্টিতে পৃথক মনে হয়ে থাকে।
মন্তব্য করুন
