বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লারিজানির খুনিদের চরম মূল্য দিতে হবে: মোজতবা খামেনি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৯ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
expand
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

তেহরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিসহ শীর্ষ ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শিগগিরই ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।

বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি জানান, লারিজানি ও তার সহযোগীদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং দায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না।

গত সোমবার রাতে তেহরানে চালানো এক আকস্মিক বিমান হামলায় আলী লারিজানি তার ছেলেসহ নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। পরদিন ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ায় খামেনি লারিজানিকে ‘দূরদর্শী ও নিবেদিতপ্রাণ’ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, লারিজানির মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে টার্গেট করা প্রমাণ করে, তিনি ইরানের প্রতিপক্ষদের জন্য কতটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিলেন। নিহতদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটার হিসাব নেওয়া হবে বলেও তিনি জোর দেন।

গত কয়েক দিনে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। একই দিনে আরেক হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আরেক দফা বিমান হামলায় প্রাণ হারান ইরানের গোয়েন্দা বিষয়কমন্ত্রী ইসমাইল খতিব। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

ওই হামলায় আহত হওয়া মোজতবা খামেনি পরবর্তীতে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলও তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে ইরানের যেকোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে তাদের সামরিক বাহিনীকে স্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই পাল্টাপাল্টি হুমকি ও ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন