শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের কারাগারে মৃত্যু, ৩৮ দিন পর ফেরত দিলো খাইরুজ্জামালের লাশ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
৩৬ দিন পর ফেরত এসেছে ভারতীয় কারাগারে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশির লাশ
expand
৩৬ দিন পর ফেরত এসেছে ভারতীয় কারাগারে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশির লাশ

ভারতের কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করার ৩৬ দিন পর এক বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ আজ দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরানো এই লাশ আজ পরিবারের হাতে পৌঁছেছে।

নিহতের পরিবার জানায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পশ্চিম কালুডাঙার বাসিন্দা খাইরুজ্জামাল (৪২) দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে ভারতের কারাগারে বন্দি ছিলেন।

তিনি কারাগারা অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

সেখানে রাত ৯ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে।

খাইরুজ্জামালের মৃত্যুর পর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কূটনৈতিক মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৬ দিন পর আজ(১৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী (চেংড়াবান্দা) ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশের কলকাতায় নিযুক্ত হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বিজিবি, বিএসএফ, দুই দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে লাশ হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

এই মানবিক কাজটি সুসম্পন্ন করতে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখেছেন রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ।

খাইরুজ্জামাল মৃত্যুর সময় স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন। পরিবার জানায়, আজ রাত সাড়ে ৭টায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, খাইরুজ্জামাল সাড়ে তিন বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে অবৈধ পথে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে রাখা হয়। কারাবাসে অবস্থার সময় অসুস্থতা দেখা দেয়। মৃত্যুর পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে লাশ আনা সম্ভব হয়েছে।

দুই দেশের সহযোগিতায় লাশ প্রত্যাবর্তনের এই প্রক্রিয়া মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় কর্মকর্তারা একযোগে কাজ করে লাশটি যথাযথভাবে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করেন।

এই ধরনের সহযোগিতা সীমান্ত পারাপারের জটিলতায় মানবিক বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেয়ার এক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিবার ও স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারি পর্যায়ের সহযোগিতা এবং সীমান্তের তদারকির কারণে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা কমবে।

নিহতের ছোটভাই খয়বর জামান বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আমার বড় ভাই ভারতে যাওয়ার পর নিখোঁজ ছিল। তার মৃত্যুর পরেই আমরা জানতে পারি তিনি কারাগারে ছিলেন।

মারা যাওয়ার পরেও যে তার লাশ দেশে আনা গেছে এতে আমরা সন্তষ্ট। এই কাজে বাংলাদেশের সরকারসহ যারা সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ বলেন, ওই পরিবারটি খাইরুজ্জামালের নিহতের খবর পাবার পর আমাদের কাছে জানতে এসেছিল ভারত থেকে কোন প্রকৃয়ায় লাশ আনতে হয়।

নিহতের ছোটভাই খয়বর জামান তার মায়ের শেষবারের মতো মৃত ছেলের মুখ দেখার ইচ্ছার কথা বলে কেঁদে ফেলেছিলেন।

তারপর থেকে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতায় বাংলাদেশে উপহাইকমিশনারের কার্যালয় এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজকে লাশ নিয়ে আসতে পারলাম।

এই কাজটি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক সারওয়ার সরকারের নিকট আমি কৃতজ্ঞ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন