বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০২:০৯ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলা জোরদার হওয়া এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দামও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) বৈশ্বিক সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে পৌঁছায়, যা দিনের শুরুতে ৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৭ ডলারে লেনদেন হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রতি গ্যালনে ৭ সেন্ট বেড়ে ৩ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবর ২০২৩-এর পর সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)।

একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উপস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি আর আগের মতো নিরাপদ থাকবে না।

তিনি দাবি করেন, এখানে আর কোনো নিরাপত্তা নেই” এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত আবুধাবির শাহ গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলার পর কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

একই সঙ্গে ফুজাইরাহ বন্দর এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় আগুন লাগে। ইরাকের একটি তেলক্ষেত্রও হামলার শিকার হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, ফুজাইরাহর কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত উৎস থেকে নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে এক ডজনেরও বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যা করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ইতোমধ্যে এই সংঘাত শুরুর পর থেকে তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস বলেছেন, ইউরোপের কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর আগ্রহ নেই, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এই সংকটে ইউরোপের স্বার্থ জড়িত।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে অঞ্চলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে তার দেশ, তবে বৃহত্তর যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, প্রয়োজনে সদস্য দেশগুলো অতিরিক্ত জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, এই মজুদ সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী সমাধান নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া সবচেয়ে জরুরি।

সূত্র: সিএনএন

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন