

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)–এর সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
এতে উদ্বেগ জানিয়ে বিসিবি বলেছে, এতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।
এক বিবৃতিতে বিসিবি দাবি করেছে, তাদের সর্বশেষ নির্বাচন গঠনতন্ত্র মেনে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবুও এনএসসির তদন্ত কমিটি গঠনকে তারা অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে এনএসসির সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, আলোচনার নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
এই পরিস্থিতি ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ফারুক আহমেদ, নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুল–এর বিসিবিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকার পতনের পর এনএসসির মনোনয়নের মাধ্যমে ফাহিম ও ফারুক বিসিবিতে আসেন এবং পরে ফারুককে সরিয়ে বুলবুলকে আনা হয়—যা সরকারি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিসিবির সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু গণমাধ্যমকে জানান, বিসিবির এমন বিবৃতি বরং নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। তার মতে, যদি সব কিছু ঠিকঠাক থাকত, তাহলে তদন্ত কমিটি গঠনে ভয় পাওয়ার কারণ থাকত না।
অন্যদিকে, বিসিবির সাবেক পরিচালক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এনএসসি চাইলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিসিবিকে ভেঙে দিতে পারে। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না, কিন্তু কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্তের অধিকার এনএসসির রয়েছে। তার মতে, দেশের আইনই চূড়ান্ত—আইসিসির নিয়ম তার ঊর্ধ্বে নয়, ফলে আইসিসি কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
এদিকে বিসিবির পরিচালক ফায়াজুর রহমান মিতু দাবি করেছেন, এ বিষয়ে বোর্ডের অন্য পরিচালকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তার অভিযোগ, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা পুরো বোর্ডের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে, বিসিবি ও সরকারের মধ্যে এই ইস্যুতে মতবিরোধ স্পষ্ট। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ধারণা, সরকারের তদন্ত কার্যক্রমে আইসিসির কোনো নিয়ম ভঙ্গ হবে না এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের কোনো শাস্তির সম্ভাবনাও কম।
মন্তব্য করুন
