

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে এক আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারাঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে নানা প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্য, বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের একটি অংশ জানতে চাইছেন-যার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে, সেই সাইমুম রেজা তালুকদার কীভাবে ট্রাইব্যুনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাইমুম রেজা জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের কোনো আদালতেই নিয়মিত মামলা পরিচালনার জন্য তিনি তালিকাভুক্ত আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পাননি।
মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সাইমুম রেজার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এ ধরনের একজন ব্যক্তির নিয়োগ পাওয়া সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের দাবি, শুধু দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেই হবে না; অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজন হলে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।
যে অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম–৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে জামিনে মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে এক কোটি টাকা দাবি করেন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা।
একটি জাতীয় দৈনিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশজুড়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে সাইমুমের বিরুদ্ধে আরও কিছু তথ্য সামনে আসতে থাকে।
যেভাবে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাইমুম রেজা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বিতর্ক সংগঠনসহ বামঘরানার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পড়াশোনা শেষে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচিতি পান। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের কিছু কার্যক্রমেও তাকে দেখা গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলে তিনি জাতীয়তাবাদী ঘরানার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। পরবর্তীতে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তাকে প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সহকর্মীদের মতে, ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও নিরাপত্তা বিষয়ে তার আগ্রহ থাকলেও আদালতে মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না।
নিয়োগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও সিনিয়র আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, সরকার নিয়ম অনুযায়ী তাকে নিয়োগ দেয়। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার দায়িত্বে থাকার সময় তার কাজ নিয়ে কিছু অভিযোগ কানে আসায় তাকে সেই মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা অডিও রেকর্ড তার কাছে না আসায় ট্রাইব্যুনাল থেকে সরানোর সুযোগ তখন ছিল না।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি এখন তদন্তাধীন; অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হঠাৎ রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন?
এক সময় বামপন্থী বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও পরে জাতীয়তাবাদী ধারার সংগঠনে যুক্ত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সাইমুম রেজা বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত চিন্তার পরিবর্তনের ফল।
তার ভাষ্য, “মানুষের চিন্তাভাবনা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। আগে বামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন আমি নিজেকে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত মনে করি।”
অভিযোগ অস্বীকার
ঘুষ দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও দাবি করেন।
মন্তব্য করুন
