

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের কোন নির্দেশনা না থাকলেও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সেই নির্দেশনা মানা হয়নি বলে জানা যায়।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগে একটি স্থায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। সেই বোর্ডে স্থায়ী পদের বিপরীতে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ড. এস. এম খালিদ হোসেনকে, যা নিয়মসঙ্গত বলেই বিবেচিত হয়েছে। তবে একই বোর্ডে ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আমিনুল ইসলাম মিলনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যেখানে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা ছুটির বিপরীতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবেনা। আর শিক্ষক নিয়োগ দিলেও সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পূর্বানুমতি নিতে হবে। কিন্তু হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ক্ষেত্রে মানা হয়নি ইউজিসির কোনো নিয়মই। একই ঘটনা ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগেও। সেই বিভাগেও শিক্ষা ছুটির বিপরীতে মো: আকিবুজ্জামান নামের একজনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার বলেন, ‘প্রথমদিকে ইউজিসির মৌখিক আশ্বাসে একজন স্থায়ী এবং শিক্ষা ছুটির বিপরীতে একজন অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার দিয়েছিলাম। পরে আমরা শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে কি না এটা জানতে চেয়ে ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু ইউজিসি থেকে আমরা কোন উত্তর পাইনি।’
এ বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক মো. আমিনুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘ আমি আসলে সিন্ডিকেট হওয়ার পরে জানতে পেরেছি আমাকে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে অস্থায়ী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউজিসির অনুমতি আছে কিনা আমি জানতাম না। এটাতো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যাপার।’
এ ব্যাপারে জানতে আওয়ামীলীগের আমলে ‘বঙ্গবন্ধু নীল দলের’ প্যানেল থেকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়োগ দেওয়া উচিত হয়নি এমন বক্তব্য দিতে চাইলেও পরবর্তীতে সেই বক্তব্যও দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) ড. মো.মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিভাগ দুটিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ ছিল। সেই অনুযায়ী সার্কুলারও হয়েছিল। শিক্ষা ছুটির বিপরীতে নিয়োগের জন্য ইউজিসি থেকে যে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল সেই অনুমতি পেলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধতা পেত। ’
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দুইটি বিভাগের নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান বলেন, ‘এটা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।’
ইউজিসির সদস্য ড. মো. তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ‘ ইউজিসির অনুমতি ছাড়া শিক্ষাছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া বিধিসস্মত হয়নি। আমাদের টিম অডিটে গেলে তাদের বেতন ভাতার বিষয়টিও আটকে যাবে।’
মন্তব্য করুন