


মানুষ আর বই পড়ে না। বই কিনে না। বই উপহার দেওয়া নেওয়ার বালাই নেই৷ প্রতিযোগিতায় বই পুরস্কার দেওয়া এখন নিম্নমানের আয়োজন! একটা বই আমি ফুটপাত থেকে কিনেছি। পুরনো, তাই নামেমাত্র মূল্যে। সংগ্রহ করেছি বলবো না।
বই সংশ্লিষ্ট মানুষের যেখানে না খেয়ে মরার উপক্রম সেখানে বইকে ক্রয় না করে সংগ্রহ করেছি বলাটা আদিখ্যেতা ছাড়া আর কিছুই নয়। যে বইটি কিনেছি তার নাম 'ফাতওয়ায়ে নাসরীয়্যাহ'। ইসলামিক বই। একজন বিশিষ্ট আলেম এটার লেখক। শুরুতেই ফাঁকা পৃষ্ঠায় সীল মারা 'সৌজন্য কপি'।
আর লেখকের নিজ হাতে লেখা, 'পরম স্নেহের..... অমুকের জন্য ক্ষুদ্র উপহার'। নিচে লেখকের সাইন, তারিখ। উপহারের জিনিসটি থাকার কথা ছিলো লেখকের পরম স্নেহের লোকটির বুকসেল্ফে। কিন্তু ভাঙ্গারি ওয়ালার কাছে কেজি দরে বিক্রি হয়ে এটি এখন ফুটপাতে নামমাত্র মূল্যে বিনিময় হয়ে আমার ঘরে! এটাকেই হয়তো বলে বিবর্তন। ধ্বংসের বিবর্তন এটা।
আমার বই পড়ার অভ্যেস বেশিদিনের না। এই ধরেন ১৭/১৮ বছরের আরকি। আমার অর্ধেক বয়সের অল্পবেশি সময় ধরে বই পড়া শুরু করেছি। এখন নিয়মিত পড়া হয় না। আগে পড়তাম। যা পেতাম তাই গোগ্রাসে গিলতাম। এখন আর শক্ত মলাটের বই পড়ার সময় পাই না। ফোনেই পাওয়া যায় অ্যাপস, পিডিএফ। বই পড়ার ইচ্ছা হলে এগুলো মাঝে মাঝে পড়ি। বই কিনিও মাঝে মাঝে। যখন পড়ুয়া ছিলাম তখন বই সংশ্লিষ্ট মানুষ বলতে চিনতাম শুধু লাইব্রেরিয়ানদের।
এখন চিনি লেখক, প্রকাশক, বই বিক্রেতা, নীলক্ষেতের বই সাপ্লায়ার ইত্যাদি পেশার মানুষকে। দিনকে দিন বই সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো জীবনের চাপে পিষ্ঠ হচ্ছে৷ আয় রোজগার কমে গেছে। রকমারীসহ কয়েকটি অনলাইন প্লাটফর্ম যদিও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ভালো, তবে এটা খুবই অপ্রতুল। নীলক্ষেতের বই ব্যবসায়ী যে কয়েকজনকে চিনি তন্মধ্যে একজনের সাথে প্রায়ই আলাপ হয়। দোকানের পজিশনটা নিজস্ব হওয়ায় ব্যবসা টিকে আছে কোনোমতে।
দিনে দুই আড়াইশোর বেশি বিক্রি বাট্টা খুব কমই হয়৷ আগের মতো গল্প উপন্যাস মানুষ পড়ে না। ওদিকে গাইড বইয়ের মার্কেট খুব জমজমাট। ব্যবসায়ী ভাইটি সারাদিন সাইকেলে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পুরনো সাহিত্যের বই কিনে। সেগুলোই দোকানে তুলে। একসমউ বইয়ের চাহিদা তুঙ্গে ছিলো, তখন ভাইটির কদরও ছিলো ব্যপক। এখন সময়ের সাথে যা আছে তা কেবল স্মৃতির ধূলোজমা পৃষ্ঠা। এজন্য হয়তো বইমেলায় পাঠক কমেছে। রমজানে অযথা ঘুরাঘুরি করা কমে যাওয়ায় দর্শকও কমেছে। এই বইমেলায় পাঠকের চেয়ে দর্শক বেশি হয়। প্রতিদিন কয়েক লাখ দর্শনার্থী প্রবেশ করলেও বই বিক্রি হয় একেবারে নগন্য।
২০২৫ সালে অমর একুশে বই মেলায় বাংলা একাডেমির সর্বনিম্ন বই বিক্রির রেকর্ড হয়েছিলো। সেবার ৬৪ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছিলো আয়োজক সংস্থাটি। মোট ৭০৩টি স্টলে বিক্রির পরিমাণ ছিলো প্রায় ৪০ কোটি। গড়ে স্টলপ্রতি বিক্রি সাড়ে ৫ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে বিক্রি হয়েছিলো ৬০ কোটি। কিন্তু দর্শনার্থী ছিলো প্রায় ৬০ লাখ।
এর আগের বছর বই বিক্রি হয় ৪৭ কোটি টাকার। ২০২২ সালে সাড়ে কোটি টাকা, ২০২১ সালে করোনার কারণে বিক্রি কমে যায়। সেবার মাত্র ৩ কোটি ১১ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়। তবে ২০২০ সালে করোনার আগে আগে বিক্রি হয়েছিলো ৮২ কোটি টাকার বই। করোনার পর থেকে বই বিক্রি কমে গেছে দেখে আমার পরিচিত একজন রসিকতা করছিলো, করোনা এসে আমাদের সাহিত্যরস কেড়ে নেওয়ার ভাইরাস ঢুকিয়ে গিয়েছে।
অবশ্য যারা প্রকৃত পাঠক তারা বইমেলা থেকে তেমন বই কিনে না। আকাশচুম্বি দামও একটা ব্যাপার। মাঝেসাঝে দুয়েকটা কিনে থাকে। তাদের বেশিরভাগ সংগ্রহ হয় পাঠক সমাবেশ কিংবা বাতিঘর থেকে। বইমেলায় এতো দর্শনার্থী তবে সেই তুলনায় বিক্রিবাট্টা না হওয়ার কারণ হিসেবে কাকে আমরা দায়ী করবো? প্রযুক্তির অপব্যবহার না কি বাংলা একাডেমীসহ বই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যর্থতা? প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা মার্কিন মুল্লুকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৭ ঘন্টা বইয়ের সংস্পর্শে থাকে দেশটির মানুষেরা। বছরে প্রায় সাড়ে তিনশো ঘন্টার বেশি তারা পড়াশোনা করেন।
আর বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। ৯৭ তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশিরা বছরে গড়ে ৩টিরও কম বই পড়েন। আর সারা বছরের ৮৭৬০ ঘন্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ৬২ ঘন্টা বইয়ের সংস্পর্শে থাকে আমাদের দেশের মানুষ। পাশের দেশ ভারতেও বই পড়ার প্রবণতা প্রচুর যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে মাত্র কয়েক মিনিট কম বই পড়েন তারা। বছরে মোট ৩৫২ ঘন্টা সময় তারা বইয়ের সাথে কাটায়। ভারতের সংস্কৃতি এজন্যই হয়তো সমৃদ্ধ। বাংলা একাডেমীর বইমেলায় প্রতিদিন বাহারি রং-এর মানুষ প্রবেশ করে। বুক স্টলের চেয়ে চা-কফির স্টলে ভিড় জমে বেশি।
আবার সেসব বুকস্টলেও ভিড় জমে যাদের ঝলমলে বাতির নিচে বসে থাকেন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল কোনো ব্যক্তি! এজন্য বিভিন্ন কাণ্ডে আলোচিত সমালোচিত মুশতাক-তিশার বই বিক্রি হয়। যে বইয়ে তাদের পারিবারিক অ্যালবাম থাকে পাতায় পাতায়! আবার মাঝে মাঝে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বইও বিক্রি হয় । যারা কেনে তাদের বেশিরভাগই পড়ে না। শুধু সেলিব্রেটির সাথে ছবি ও রিলস বানানোর নেশায় বইটি কিনে নেয় চড়া দামে। এর কিছুদিন পর সেটি ভাঙ্গারি ক্রেতার কাছে কেজি দরে আবর্জনা হিসেবে বিক্রি করে দেয়। সেলিব্রেটিরাও খুশি। কে পড়ল, কি পড়ল সেটার চেয়ে বই বিক্রি হচ্ছে কিংবা টপ সেলার তালিকায় নাম আসাটাই মুখ্য ব্যাপার।
একটা ঘটনা বলি। ২০১৭ সালের বইমেলায় একদিন দেখি একতা স্টলের সামনে প্রচন্ড ভিড়। গ্রামে জন্ম নেওয়া অতিউৎসুক আমি অন্যদের মতো ভিড় দেখলেই তখন এগিয়ে যেতাম কি হয়েছে জানার জন্য। ভুলে যেতাম এটা ঢাকা, এখানে অন্যের ব্যাপারে উৎসাহ জন্মাতে নেই। আমি ভিড় ঠেলে সামনে যেতেই দেখি ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বসে আছেন। তার চারপাশে নেতাকর্মীরা।
তিনি দ্রুত হাতে বইয়ে সাইন দিচ্ছেন আর নেতাকর্মীরা কিনছেন সেই বই। নাম 'আন্দোলন-সংগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ'। বই কিনে প্রিয় নেতার সাথে একটা ছবি তুলছেন। যেন বই কেনার পয়সা উসুল। কয়েক হাজার কপি হয়তো বিক্রি হয়েছিলো উনার বই। কয়জন পড়েছিলো তা আমার জানা নেই। পরবর্তীতে এস এম জাকির হোসেনের অনেক অনুসারী প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতারা তার এই বই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করে ছবি তুলেছেন।
এমনকি সেই ছবি টাকা পয়সা খরচা করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছাপানোর ব্যবস্থাও করেছেন। শুধু এস এম জাকির হোসেনের ওই বইটি না। যত রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা হালের কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা যাই লেখুক তাই বিক্রি হয়। অখাদ্য কুখাদ্য যাই থাকুক না কেন বইয়ের ভেতরে, বিক্রি হবেই।
ম্যাসেজিং যুগে প্রবেশের পর থেকে ইংরেজি হরফে বাংলা লেখার প্রচলন। যাকে বলে বাংলিশ। তবে এখন সহজলভ্য বাংলা লেখার কিবোর্ড থাকায় ইংরেজি লেখার প্রচলন কমেছে। ২০১৮/১৯ সালের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় এক নারী কন্টেন্ট নির্মাতা একটি বই লিখেছিলেন।
বইটি সম্পূর্ণ বাংলিশে লিখেছিলেন। হয়তো বাংলা ভাষার প্রতি তার আগ্রহ কম কিংবা বাংলায় দুর্বল। তীব্র সমালোচনা ও হাস্যুরসের বস্তু হয়েছিলো তখন বইটি। তবে বিক্রি হয়েছিলো দেদারসে।
বাংলা সাহিত্যের অবস্থা ঠিক এমন। বইয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ না থাকলেও বাজারজাত করণের আধুনিকায়নে যা খুশি তাই বিক্রি হচ্ছে। ২০২৫ সালের বইমেলায় আরও একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের বই বিক্রি হয় বেশ ভালো।
একটি আস্ত পৃষ্ঠায় ৪ লাইনের কবিতা লিখে। কোনো পৃষ্ঠায় ৫/৬ লাইনও। কি লিখেছেন তাও স্পষ্ট না। তবে বিক্রি ভালো। এসবের মাঝে ভালো বইও কিছু আসে। আলোড়ন তুলে , আবার হারিয়ে যায়। প্রকৃত পাঠকরা বরং খুঁজে বেড়ায় সমরেশ, বিভূতিভূষণ, হুমায়ুন, তারাশঙ্করদেরকে।
বলছিলাম বইয়ের প্রতি মানুষের অনীহার কথা। স্থানীয়ভাবে একটা অনলাইন প্লাটফর্মে আমি কয়েকবছর আগে একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম।
ঐ প্লাটফর্ম থেকে বরাবরই প্রতিযোগিতার পুরস্কার হিসেবে থাকে আকর্ষণীয় জিনিসপত্তর। পুরস্কার কি হবে তা অনেক সময় আগে থেকেই ঘোষণা দেওয়া হয় না। সেবারও হয়নি। তবে স্থানীয় একটি ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সেবার পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল বই।
ইসলামিক আয়োজনে পুরস্কারও ছিলো ইসলামিক বই। প্রথম পুরস্কার ছিলো পবিত্র কোরআনের বাংলা অনুবাদ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক বিজয়ী পুরস্কার গ্রহণ করতে আসেনি। একদিন দুদিন নয়।
টানা দেড় বছর তাদের জন্য অপেক্ষায় ছিলো বইগুলো। আরেকবার একটা ভ্রমণেও একই ঘটনা দেখেছি। সেখানে পুরস্কার হিসেবে বই দেওয়া হচ্ছিল। তবে স্বান্তনা পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হচ্ছিলো নামমাত্র মূল্যে কেনা হেডফোন।
কয়েকজন বিজয়ী দেখলাম তাদের পুরস্কার বই গ্রহণ না করে হেডফোন নিচ্ছে। খুব আগ্রহের সাথেই হেডফোন নিলো। শেষে দেখা গেলো বই রয়ে গেছে, হেডফোনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং অনেকে পুরস্কার হিসেবে বই না নেওয়ায় আমাদের উদৃত রয়ে গিয়েছিলো অনেকগুলো কপি।
আমাদের গ্রামে বেশ কয়েকটা পাঠাগার আছে। ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত তবে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় বেশ সমৃদ্ধ এসব পাঠাগারের আলমারিগুলো। তবে পাঠক নেই। নেই মানে নেই। প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের হাতেগোনা কয়েকজন সেখান থেকে বই পড়লেও সাধারণের আগ্রহ নেই পাঠাগারের বইয়ের প্রতি।
কতিপয় ব্যক্তির অবশ্য আগ্রহ পাঠাগারের ক্যাশের প্রতি। এই আগ্রহের কারণ বলা বাহুল্য। এমনও একটি গ্রামীণ পাঠাগার দেখেছি সেখানে সম্পূর্ণ বাংলাপিডিয়া সংরক্ষিত।
সিরাজুল ইসলাম সম্পাদিত এশিয়াটিক সোসাইটির এই বইটির গুরুত্ব কতটুকু তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এরকম আরও বহু বই দেখেছি সেখানে, দুর্লভ সংগ্রহশালা বটে। পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এগুলো কে পড়ে? উনি স্মিত হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, 'পড়ুয়ারা পড়ে। টাকা উড়ানোর ইচ্ছা হলে নীলক্ষেতে যাই । যা চোখে আটকে তাই নিয়ে এসে এখানে জমা করি'। তবে উনার পাঠাগারে কিছু পাঠক নিজেই তৈরি করছেন। শিশুদেরকে বিভিন্ন উপহার দিয়ে বই পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলছেন।
সেদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের একজন জনপ্রিয় লেখক লিখেছেন, 'যাকাত ফেতরা হিসেবে এখন থেকে বই দেওয়া উচিৎ'। তার কথার অনেক অর্থ হয়। আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে মনে হলো, আমাদের দেশের মানুষের অর্থের অভাব লাঘব করতে শুধু অর্থ দিলেই হবে না।
সাথে তরতাজা জ্ঞানও বিলি করতে হবে। তবে ফাঁকা বুলিতে নয়, মার্জিত ও পরিশুদ্ধ পন্থায়। মোবাইল, কম্পিউটারের ঝলমলে আলোর রিলস দেখা এখন বই পড়ার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলেও বহু জীবিত মানুষ এখনও বই পড়ে।
খুঁজে বেড়ায় জীবনকে। প্রতিটা স্কুলে একেডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বই পড়াকে করে তুলতে হবে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বস্তুতে। পাড়ায় মহল্লায় যেসব পাঠাগার আছে সেগুলোতে বই বৃদ্ধির চেয়ে পাঠক বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। অমর একুশে বইমেলা এখন আর বইমেলায় নেই।
চলে এসেছে টিকটকার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আর মোবাইল সাংবাদিকদের মেলায়। তবু বেঁচে থাকুক অন্তত একটা স্মৃতি হয়ে।
যদি কোনোদিন বইয়ের সুদিন ফেরে, যদি কোনোদিন বইয়ের পাতা কথা বলে উঠে , যদি কোনোদিন মলাটে মলাটে বিদ্রোহ লাগে সেদিন স্মৃতি হাঁতড়িয়ে একটি প্রজন্ম অন্তত খুঁজে পাবে আমাদের একটি বইমেলা হতো। এখনও হয়, ঘুণে ধরা তক্তপোশের মত নড়েবড়ে অবস্থায়।
আমাদের বইমেলা আবারও লেখক ও পাঠকদের হবে। সাহিত্যের হবে। মানুষের হবে। জীবনের হবে। সেইদিন পর্যন্ত আয়ূষ্কাল কামনা করি।
মন্তব্য করুন