

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে আইনি লড়াই। আলিপুরের একটি আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যক্রমে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা আপাতত নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন না। পাশাপাশি দলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কোনো নির্দেশ জারি বা সাংগঠনিক কাজে হস্তক্ষেপ থেকেও তাকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
সাবেক তৃণমূল নেত্রী জুঁই বিশ্বাসের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। জুঁই বিশ্বাস কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর এবং সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী। তিনি বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত নতুন ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’-এ যোগ দিয়েছেন।
মামলায় জুঁই বিশ্বাস অভিযোগ করেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি, অর্থ ও সম্পদের বিষয়ে অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি আবেদন করেন। তার আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত জরুরি বিবেচনায় অন্তর্বর্তী আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষুব্ধ নেতাদের গঠিত তৃণমূলের ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রমে মমতা বাধা দিতে পারবেন না। দলের নিয়োগ, নির্দেশনা, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
তবে আদালত এ নির্দেশ দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের বক্তব্য শোনেননি। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় একতরফাভাবে অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ৬ আগস্টের শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে তৃণমূলের ভাঙন ও নতুন দল গঠনের দাবি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে দাবি করছে এবং দলীয় সমর্থন নিয়েও তারা নানা দাবি করছে।