

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্মার্টফোন ছাড়া এখনকার জীবন কল্পনা করা কঠিন। কাজ, যোগাযোগ, অনলাইন লেনদেন কিংবা বিনোদন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রতিদিনের সঙ্গী এই ছোট ডিভাইসটি। তাই নিয়মিত ফোন চার্জ দেওয়াও হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। কিন্তু অনেকেরই প্রশ্ন, প্রতিদিন একটি স্মার্টফোন চার্জ করলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কতটা বাড়ে?
বাস্তব হিসাব বলছে, ফোন চার্জিংয়ের জন্য বিদ্যুৎ খরচ খুবই কম। বর্তমান সময়ের বেশির ভাগ স্মার্টফোনে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি থাকে। এসব ফোনের সঙ্গে সাধারণত ২০ থেকে ৪৫ ওয়াটের চার্জার ব্যবহার করা হয়।
একটি স্মার্টফোন পুরোপুরি চার্জ করতে গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। চার্জিংয়ের সময় কিছু শক্তি তাপ হিসেবে নষ্ট হয় বলে প্রকৃত ব্যবহার সামান্য বাড়তে পারে। তবে সেটিও মোট খরচের তুলনায় খুব বেশি নয়।
ধরা যাক, একটি ফোন প্রতিদিন চার্জ দিতে প্রায় ০.০২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। তাহলে ৩০ দিনে মোট খরচ হবে প্রায় ০.৬ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা ধরে হিসাব করলে মাসে খরচ দাঁড়ায় মাত্র প্রায় ৬ টাকা। বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১২ টাকা হলেও খরচ হবে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ টাকা।
অর্থাৎ একটি স্মার্টফোনের চার্জিং খরচ নিয়ে যে বড় ধরনের ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে, বাস্তবে তা নয়। একটি ফোন পুরো মাস চার্জ দেওয়ার খরচ অনেক সময় একটি এলইডি বাতি কয়েক ঘণ্টা জ্বালানোর খরচের চেয়েও কম।
তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নিরাপদ চার্জিংয়ের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ফোনের সঙ্গে দেওয়া বা নির্ভরযোগ্য মানের চার্জার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। নিম্নমানের চার্জার শুধু বিদ্যুৎ অপচয় করতে পারে না, এটি ব্যাটারির কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দিতে পারে।
অনেকেই রাতে ঘুমানোর সময় ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখেন। আধুনিক স্মার্টফোনে ১০০ শতাংশ চার্জ হওয়ার পর চার্জ গ্রহণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে দীর্ঘ সময় চার্জারে যুক্ত থাকলে চার্জারের সামান্য স্ট্যান্ডবাই বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চার্জ দেওয়ার অভ্যাস ভালো।
বাসাবাড়ির মোট বিদ্যুৎ খরচের দিকে তাকালে স্মার্টফোন চার্জিংয়ের অংশ খুবই সামান্য। রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, গিজার বা ওয়াই-ফাই রাউটারের তুলনায় ফোন চার্জে খরচ হওয়া বিদ্যুৎ অনেক কম।
তাই স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার চিন্তার চেয়ে নিরাপদ চার্জিং পদ্ধতি অনুসরণ এবং ব্যাটারির সঠিক যত্ন নেওয়ার বিষয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।