রবিবার
১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারলেই পরের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দলটির জন্য এটি ছিল বড় হতাশার। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে সেলেসাওরা।

তবে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এমন পতনের পর ঘুরে দাঁড়ানোর একাধিক উদাহরণ রয়েছে। অতীতে বড় ব্যর্থতার পরই নতুন করে শক্তিশালী দল গড়ে শিরোপা জিতেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই এখন প্রশ্ন—২০২৬ সালের ধাক্কা কি ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে নতুন এক জাগরণের সূচনা করবে?

ইতিহাস বলছে, ১৯৬৬ ও ১৯৯০ সালের ব্যর্থতার পর ব্রাজিল বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল। দুই ক্ষেত্রেই সমস্যার জায়গা ছিল শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও ফুটবল ফেডারেশনের পরিকল্পনাতেও।

১৯৬৬ সালের বিশৃঙ্খলা থেকে ১৯৭০-এর স্বপ্নের দল

১৯৬৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিল টানা দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ইংল্যান্ডের সেই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। দলের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়।

অনেক বেশি খেলোয়াড় নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা, অনিয়মিত প্রস্তুতি এবং দলীয় ভারসাম্যের অভাব—সব মিলিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা ছিল অগোছালো। ফুটবল গবেষক মাউরো বেটিংয়ের মতে, সেটি ছিল ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রস্তুতিগুলোর একটি।

এরপর আসে পরিবর্তনের সময়। কোচিং স্টাফে বদল, নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমে গড়ে ওঠে নতুন ব্রাজিল। ১৯৭০ বিশ্বকাপের সেই দলকে এখনো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সেই দলে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়—পেলে, জাইরজিনহো, জারসন, তোস্তাও, ব্রিতো ও এদু—থেকে গেলেও তাদের সঙ্গে যুক্ত হন কার্লোস আলবার্তো, রিভেলিনো ও ক্লোদোয়ালদোর মতো নতুন প্রতিভারা।

১৯৯০ বিশ্বকাপের অস্থিরতা কাটিয়ে ১৯৯৪-এ চ্যাম্পিয়ন

১৯৯০ বিশ্বকাপেও একই ধরনের গল্প দেখা যায়। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

দলের ভেতরে আর্থিক বিষয় নিয়ে অসন্তোষ, নেতৃত্বের ঘাটতি এবং কৌশলগত অনিশ্চয়তা ছিল বড় সমস্যা। কোচ সেবাস্তিয়াও লাজারোনির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

কিন্তু সেই ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা নেয় ব্রাজিল। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে দলীয় শৃঙ্খলা বাড়ানো হয়, বাইরের হস্তক্ষেপ কমানো হয় এবং সবাইকে একই লক্ষ্যে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা হয়।

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের বড় অংশই এসেছিল ১৯৯০ সালের সেই ব্যর্থ দল থেকে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন পরিকল্পনার সমন্বয়েই যুক্তরাষ্ট্রে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।

২০৩০-এর আগে আবারও কি পরিবর্তনের পালা?

ব্রাজিলের অতীত দেখায়, বড় ব্যর্থতা অনেক সময় নতুন শুরুর পথ তৈরি করে। ২০২৬ সালের হতাশার পর যদি সিবিএফ দল পরিচালনা, খেলোয়াড় নির্বাচন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে ২০৩০ বিশ্বকাপে আবারও শিরোপার দাবিদার হয়ে উঠতে পারে সেলেসাওরা।

কারণ ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে পতনের পর পুনরুত্থানের গল্প নতুন নয়। এবার দেখার বিষয়, ২০২৬-এর ব্যর্থতা কি ২০৩০-এর নতুন সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করতে পারে কি না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
France VS England
58'
2 - 4
48' Kylian Mbappé
54' Bradley Barcola
37' Bukayo Saka
45'+1' Bukayo Saka
World Cup