

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্ববাজারে সোনার দাম নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একের পর এক বিশ্লেষণ ও গবেষণায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও বাড়ার আভাস দেওয়া হচ্ছে। যদিও সবাই একই পূর্বাভাস দিচ্ছেন না, তবু অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বাড়তি চাহিদার কারণে আগামী বছরগুলোতে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
ডয়চে ব্যাংকের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্ক, ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৮ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এর দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে তুলনামূলক কম সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ফলে বাজারে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
জার্মানির এলবিবিডব্লিউ (LBBW)-এর বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার বলেন, শুধু প্রচলিত বিনিয়োগকারী নন, এখন ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের বিনিয়োগকারীরাও ঝুঁকি কমাতে সোনায় বিনিয়োগ করছেন। এতে বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে তার মতে, আগামী পাঁচ বছরে সোনার দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।
অন্যদিকে ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতুবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল হুসেহ মনে করেন, বিশ্বে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় অংশ স্বর্ণে রূপান্তর করতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৮ হাজার ডলারে পৌঁছানো অস্বাভাবিক হবে না।
বিজেড ব্যাংকের গবেষণা বিশ্লেষক থমাস কুল্প তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার ধারণা, আগামী ১২ মাসে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। কারণ, বাজারে এখনো সোনার মৌলিক চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সোনার দাম কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, সুদের হার, ডলারের অবস্থান এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
সূত্র: ডয়চে ভেলে