

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলে শুধু গৌরবই নয়, মোটা অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারও অপেক্ষা করছে স্পেনের ফুটবলারদের জন্য। তবে সেই বোনাসের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত চলে যাবে কর হিসেবে রাষ্ট্রের কোষাগারে। দেশটির কর বিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলে স্প্যানিশ লিগে খেলা জাতীয় দলের ১৭ ফুটবলারকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০ কোটি টাকা) আয়কর পরিশোধ করতে হবে।
বিশ্বকাপ জয়ী দলের প্রতিটি সদস্য প্রায় ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭০০ ইউরোর বেশি বোনাস পাওয়ার কথা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তবে স্পেনের কর আইন অনুযায়ী এই অর্থকে চাকরিজনিত আয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে নির্ধারিত হারে আয়কর কেটে নেওয়া হবে।
কর বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, এই করের সবচেয়ে বড় অংশ যাবে স্পেনের কেন্দ্রীয় ট্যাক্স এজেন্সির কাছে। পাশাপাশি নাভারা, গিপুজকোয়া ও বিস্কাইয়ার আঞ্চলিক কর কর্তৃপক্ষও নিজ নিজ আওতায় থাকা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কর আদায় করবে।
স্পেনের প্রচলিত করব্যবস্থায় জাতীয় দলের হয়ে পাওয়া এই ধরনের বোনাসকে অনিয়মিত আয়ের বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা হয় না। ফলে অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ৩০ শতাংশ পর্যন্ত করছাড়ের সুযোগ পাবেন না।
এই নিয়মের আওতায় রয়েছেন পেদ্রি, গাভি, লামিনে ইয়ামাল, ফেরান তোরেস, দানি ওলমো, পাও কুবারসি, এরিক গার্সিয়া, জোয়ান গার্সিয়া, মার্কোস লরেন্তে, মার্ক পুবিল, আলেক্স বায়েনা ও বোরহা ইগলেসিয়াসসহ আরও কয়েকজন ফুটবলার।
অন্যদিকে, নাভারা ও বাস্ক অঞ্চলের নিজস্ব কর কাঠামোর কারণে মিকেল ওইয়ারসাবাল, উনাই সিমন, নিকো উইলিয়ামস, আয়মেরিক লাপোর্তে ও ভিক্টর মুনিয়োজ ভিন্ন নিয়মে কর পরিশোধ করবেন। ওই অঞ্চলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কিছু কর-সুবিধার সুযোগ রয়েছে।
কর বিশেষজ্ঞ হোসে মারিয়া মোল্লিনেদোর মতে, স্পেনের এই করনীতি ইউরোপের অন্যান্য বড় ফুটবল দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে রদ্রি, ডেভিড রায়া, মার্টিন জুবিমেন্দি, মিকেল মেরিনো, মার্ক কুকুরেয়া, পেদ্রো পোরো, ইয়েরেমি পিনো, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো ও ফাবিয়ান রুইজের মতো খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীতিই প্রযোজ্য হবে।
অর্থাৎ, বিশ্বকাপের ট্রফি জিতলে স্পেনের ফুটবলাররা বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার পেলেও, তার উল্লেখযোগ্য অংশ কর হিসেবে সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। ফলে শিরোপার আনন্দের পাশাপাশি করের হিসাবও রাখতে হবে স্প্যানিশ তারকাদের।
