

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমাদের প্রায় সবার মনেই কখনো না কখনো এই প্রশ্নটি জেগেছে- সুইচ বোর্ডের ওই ছোট লাল বা সবুজ আলোটি সুইচ বন্ধ করার পরও কেন জ্বলতে থাকে? ২৪ ঘণ্টা অন থাকা এই বাতিটি কি গোপনে বাড়িয়ে দিচ্ছে আপনার ঘরের বিদ্যুৎ বিল?
আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হওয়া এই ‘ইন্ডিকেটর লাইট’ বা পাইলট ল্যাম্পের আসল কাজ এবং এটি আপনার পকেটে আসলেই কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, তা জেনে নেওয়া যাক।
ইন্ডিকেটর লাইট কী এবং কেন জ্বলে?
সুইচ বোর্ডের এই ছোট বাতিটিকে বলা হয় ‘ইন্ডিকেটর লাইট’ বা ‘পাইলট ল্যাম্প’। এর মূল কাজ হলো ঘরে বিদ্যুৎ আছে কি না তা জানানো। সাধারণত এই লাইটটি সরাসরি মেইন পাওয়ার লাইনের (ফেজ ও নিউট্রাল) সাথে যুক্ত থাকে।
ফলে আপনি যখন ফ্যান বা লাইটের সুইচ বন্ধ করেন, তখন কেবল সেই নির্দিষ্ট যন্ত্রটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, কিন্তু ইন্ডিকেটরের লাইন সচলই থাকে। এই কারণেই মেইন লাইনে বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় সুইচ বন্ধ করলেও ইন্ডিকেটরটি জ্বলতে থাকে।
বিদ্যুৎ বিল কি সত্যিই বাড়ে?
সারাদিন-রাত জ্বলতে থাকা এই আলোর কারণে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার ভয় একেবারেই অমূলক। এই বাতিগুলো তৈরিতে সাধারণ বাল্ব ব্যবহার করা হয় না; বরং অত্যন্ত সাশ্রয়ী 'নিয়ন ল্যাম্প' বা 'এলইডি' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
একটি ইন্ডিকেটর লাইট সর্বোচ্চ ০.২ থেকে ০.৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। ফলে এটি ২৪ ঘণ্টা জ্বললেও মাস শেষে বা বছর শেষে যে বিল আসে, তা মাত্র কয়েক টাকার সমান। তাই এটি চালু থাকলে পকেটে কোনো প্রভাব পড়ে না বললেই চলে।
এই ছোট আলোর বড় উপকারিতা
দেখতে ছোট হলেও এর কার্যকারিতা অনেক। যেমন:
বিদ্যুতের উপস্থিতি বোঝা: লোডশেডিংয়ের পর বিদ্যুৎ এলো কি না, তা দূর থেকেই এই লাইট দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়।
অন্ধকারে সাহায্য: রাতের অন্ধকারে ঘরের আলো বন্ধ থাকলেও এই মৃদু আলোর সাহায্যে সহজেই সুইচ বোর্ড খুঁজে পাওয়া যায়।
ভারী যন্ত্রের নিরাপত্তা: ফ্রিজ, এসি বা গিজারের মতো ভারী যন্ত্রের ১৬ অ্যাম্পিয়ার বোর্ডে এই লাইটটি সকেটে কারেন্ট থাকার বিষয়ে সতর্ক করে।
ইনভার্টার বা আইপিএস-এর অবস্থা: অনেক বাড়িতে ইনভার্টারের জন্য আলাদা রঙের ইন্ডিকেটর থাকে, যা দেখে বোঝা যায় বিদ্যুৎ মেইন লাইন থেকে আসছে নাকি ব্যাটারি থেকে।
এমনকি লাইটের আলো কম-বেশি হওয়া দেখে ভোল্টেজের ওঠানামাও আন্দাজ করা যায়।
কখন সতর্ক হওয়া জরুরি?
ইন্ডিকেটর লাইট জ্বলা স্বাভাবিক হলেও কিছু লক্ষণ দেখলে দ্রুত ইলেকট্রিশিয়ান ডাকা উচিত:
সুইচ বন্ধ করার পরও যদি ভারী যন্ত্রের সকেটে বিদ্যুৎ থেকে যায়।
ইন্ডিকেটরটি যদি অনবরত টিমটিম (Flicker) করতে থাকে।
আলোর উজ্জ্বলতা যদি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বাড়ে।
সুইচ বোর্ডের আশপাশ যদি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় বা পোড়া গন্ধ বের হয়।
সুইচ বোর্ডের ইন্ডিকেটর লাইট কোনো বাড়তি অপচয় নয়, বরং এটি আপনার ঘরের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকলে এটি বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই।