

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গর্ভফুল (প্লাসেন্টা) থেকে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও প্রসাধনী পণ্য তৈরি করা হয়। তবে এ বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
অন্যদিকে, বাজারে ‘প্লাসেন্টা এক্সট্র্যাক্ট’নামে কিছু প্রসাধনী পণ্য পাওয়া যায়। তবে এসব পণ্যের অনেকগুলোতে মানুষের নয়, ভেড়া বা অন্যান্য প্রাণীর প্লাসেন্টা থেকে সংগৃহীত উপাদান ব্যবহৃত হয়। আবার কিছু পণ্যে ‘প্লাসেন্টা’ শব্দটি কেবল বিপণনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। ত্বক বা চুলের জন্য এসব পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সীমিত।
এবিষয়ে কথা হয় জেনারেল ফিজিশিয়ানমেডিসিন, চর্ম, যৌন, মা ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ আল লাইস। এনপিবি নিউজ-কে তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এ ধরনের কিছু নেই। গর্ভফুল বা প্ল্যাসেন্টা চিকিৎসা কাজে ব্যবহার করা হয় না। প্ল্যাসেন্টা হচ্ছে গর্ভাবস্থায় মায়ের সাথে ফিটাসের যোগাযোগের মাধ্যম। মায়ের শরীর থেকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান প্ল্যাসেন্টা হয়ে আম্বেলিক্যাল কর্ডের মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে যায়, আবার বাচ্চার শরীরের বিভিন্ন বর্জ্য উপাদান এর মাধ্যমে মায়ের শরীর দিয়ে বের হয়ে যায়।
তবে, ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত নামগুলোর একটি এলিজাবেথ ব্যাথরি। ‘ব্লাড কাউন্টেস’ বা ‘কাউন্টেস ড্রাকুলা’ নামে পরিচিত এই হাঙ্গেরীয় অভিজাত নারীকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রচলিত।
কথিত আছে, যৌবন ও সৌন্দর্য ধরে রাখার আশায় তিনি অসংখ্য তরুণীর রক্ত ব্যবহার করতেন। তবে এসব ঘটনার অনেকটাই ঐতিহাসিক বিতর্ক ও লোককাহিনির অংশ, যার সবকিছুর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
যারা প্লাসেন্টা গ্রহণ করেন, তাদের অনেকের দাবি এটি প্রসব-পরবর্তী ক্লান্তি কমাতে, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে, বুকের দুধ উৎপাদন বাড়াতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়ক। তবে এসব দাবির পক্ষে এখনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে ডা. আব্দুল্লাহ আল লাইস বলেন, এটাতো চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিষয় হলো না। মানুষ অনেকেই তো অনেক কিছু খায়, সেক্ষেত্রে তারা কি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শে এটা খাচ্ছে? আমাদের দেশে প্রতারণা আর বিকৃত রুচির মানসিকতার মানুষের তো অভাব নেই।
আধুনিক যুগেও সৌন্দর্যচর্চায় দেখা যাচ্ছে নতুন নতুন প্রবণতা। এর মধ্যে অন্যতম হলো সন্তান জন্মের পর নিজের প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) গ্রহণ করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে আগ্রহ বেড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান প্লাসেন্টা সংগ্রহ করে তা শুকিয়ে ক্যাপসুল তৈরি করে, আবার কেউ কেউ এটি স্মুদি বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করেন।
এবিষয়ে ডা. আব্দুল্লাহ আল লাইস বলেন, কিছু কিছু গ্র্যাফটের জন্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে, এটা অনেক জটিল প্রক্রিয়া। অতটা প্রচলিত না। এক্ষেত্রে ডোনারের অনুমতি লাগবে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করতে হবে, ইনফেকশনের চান্স থাকে, ইনফেকটেড হয়ে গেলে এটা আর কাজে লাগবে না। এটা করা হয় শুধুমাত্র সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে। এগুলো শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য।
