

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর ছোট্ট অঞ্জলি খ্যাত অভিনেত্রী সানা সঈদ সম্প্রতি তার জীবনের এক কঠিন সত্য প্রকাশ্যে এনেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ‘বুলিমিয়া নার্ভোসা’ নামক একটি জটিল ইটিং ডিজঅর্ডার বা খাদ্যগ্রহণ সংক্রান্ত মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।সচেতনতার অভাবে দীর্ঘদিন তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি যে তিনি কোনো রোগে আক্রান্ত।
চিকিৎসকদের মতে, বুলিমিয়া কেবল কোনো খাদ্যাভ্যাস বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব নয়; এটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক, জৈবিক, জিনগত ও সামাজিক কারণে তৈরি হওয়া একটি জটিল মানসিক ব্যাধি, যা অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে গোপন করে যান।
এই রোগের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, আক্রান্ত ব্যক্তি খুব অল্প সময়ে নিজের অজান্তেই প্রচুর পরিমাণে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ফেলেন।
তবে সাধারণ মানুষের লোভের বশে বেশি খাওয়ার সাথে এর তফাত রয়েছে। বুলিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা খাওয়ার পরপরই তীব্র অপরাধবোধ ও ওজন বৃদ্ধির চরম ভয়ে ভুগতে শুরু করেন।
এই মানসিক অনুশোচনা থেকে মুক্তি পেতে এবং শরীরের বাড়তি ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলতে তাঁরা নানা অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক পথ বেছে নেন।
যেমন- জোর করে বমি করা, অতিরিক্ত মাত্রায় মলত্যাগের ওষুধ খাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক কসরত করা কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা।
দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র চলতে থাকলে শরীরে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ঘন ঘন বমি করার ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সংস্পর্শে এসে দাঁতের মারাত্মক ক্ষয় হয়, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং প্রায়ই অম্বল ও বদহজমের মতো পেটের সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, যদি কোনো ব্যক্তির মধ্যে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা এবং তারপরেই ওজন কমানোর এই তীব্র ও অস্বাস্থ্যকর প্রচেষ্টা টানা তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে দেখা যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সঠিক সময়ে কাউন্সেলিং, থেরাপি এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টি-ডিপ্রেশন ওষুধের মাধ্যমে এই জটিল মানসিক রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।