

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের ট্রফি কার হাতে উঠবে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ফাইনালের পর। তবে ব্যক্তিগত পুরস্কারের লড়াইও এখন সমান উত্তেজনার। বিশেষ করে গোল্ডেন বুট জয়ের সমীকরণে এখনো টিকে আছেন কয়েকজন তারকা ফুটবলার, যাদের কেউই হয়তো ফাইনালে খেলবেন না।
বিশ্বকাপে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের হিসাবের অংশ। ফলে ফাইনালের বাইরে থাকা ফুটবলারদের সামনেও শেষ সুযোগ থাকছে নিজেদের গোলসংখ্যা বাড়ানোর।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে চলা আসরের শেষ দুই ম্যাচের আগে অন্তত সাতজন ফুটবলার পাঁচ বা তার বেশি গোল করে লড়াইয়ে আছেন। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। আর এক দিন পর ফাইনালে শিরোপার জন্য লড়বে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।
এ মুহূর্তে ৮টি করে গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে সমান গোল হলেও চারটি অ্যাসিস্ট থাকায় ফিফার টাইব্রেকার নিয়মে এগিয়ে আছেন মেসি। এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট তিনটি।
সাত গোল নিয়ে তালিকার পরের অবস্থানে আছেন আর্লিং হালান্ড। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই নরওয়ে বিদায় নেওয়ায় তাঁর গোলসংখ্যা আর বাড়ানোর সুযোগ নেই।
এদিকে ছয়টি করে গোল করেছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি করে গোল। তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কিংবা ফাইনালের পারফরম্যান্স শেষ মুহূর্তে পুরো সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
অবশ্য ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স তাদের শেষ ম্যাচে পূর্ণশক্তির দল নামাবে কি না, সেটিও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর অনেক সময় কোচরা বেঞ্চের খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে থাকেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বহুবার গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। ২০১০ সালে জার্মানির থমাস মুলার, ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার ডাভর সুকের, ১৯৯০ সালে ইতালির সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ সালে ব্রাজিলের লিওনিদাস—এই চারজনের গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হয়েছিল এই ম্যাচে করা গোলের সুবাদেই।
এ ছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেজেগোরজ লাতো, পর্তুগালের ইউসেবিও এবং ফ্রান্সের জ্যঁ ফন্তেইনও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও তাঁদের ক্ষেত্রে ওই গোল না হলেও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতা নিশ্চিত ছিল।
তাই বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই ‘সান্ত্বনার লড়াই’ বললেও, ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে এটি অনেক সময় ফাইনালের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এবারও গোল্ডেন বুটের চূড়ান্ত হিসাব মেলাতে এই ম্যাচের দিকেই থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি নজর।
