

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চিরযৌবন আর সৌন্দর্য ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা মানুষের বহু পুরোনো। বিশেষ করে নারীদের সৌন্দর্যচর্চা ঘিরে ইতিহাসে রয়েছে নানা বিস্ময়কর ঘটনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চর্চার ধরন বদলালেও, সৌন্দর্য ধরে রাখতে অপ্রচলিত পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ আজও কমেনি।
ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত নামগুলোর একটি এলিজাবেথ ব্যাথরি। ‘ব্লাড কাউন্টেস’ বা ‘কাউন্টেস ড্রাকুলা’ নামে পরিচিত এই হাঙ্গেরীয় অভিজাত নারীকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রচলিত। কথিত আছে, যৌবন ও সৌন্দর্য ধরে রাখার আশায় তিনি অসংখ্য তরুণীর রক্ত ব্যবহার করতেন। তবে এসব ঘটনার অনেকটাই ঐতিহাসিক বিতর্ক ও লোককাহিনির অংশ, যার সবকিছুর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
আধুনিক যুগেও সৌন্দর্যচর্চায় দেখা যাচ্ছে নতুন নতুন প্রবণতা। এর মধ্যে অন্যতম হলো সন্তান জন্মের পর নিজের প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) গ্রহণ করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে আগ্রহ বেড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান প্লাসেন্টা সংগ্রহ করে তা শুকিয়ে ক্যাপসুল তৈরি করে, আবার কেউ কেউ এটি স্মুদি বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করেন।
যারা প্লাসেন্টা গ্রহণ করেন, তাদের অনেকের দাবি এটি প্রসব-পরবর্তী ক্লান্তি কমাতে, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে, বুকের দুধ উৎপাদন বাড়াতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়ক। তবে এসব দাবির পক্ষে এখনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাসেন্টা খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে গবেষণা সীমিত এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বরং অপর্যাপ্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ বা সংরক্ষণের কারণে সংক্রমণসহ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও রয়েছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের চর্চা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রকৃতিতে অবশ্য অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণী সন্তান জন্মের পর প্লাসেন্টা খেয়ে থাকে। গবেষকদের ধারণা, প্রসবের সময় হারানো শক্তি পুনরুদ্ধার এবং শিকারিদের দৃষ্টি এড়ানোর মতো কারণেই প্রাণীদের মধ্যে এই আচরণ দেখা যায়।
বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন সেলিব্রেটিও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তারা সন্তান জন্মের পর নিজেদের প্লাসেন্টা ক্যাপসুল বা অন্য উপায়ে গ্রহণ করেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা এই বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনো এর কার্যকারিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সমর্থন দেয়নি।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন কয়েকজন সেলিব্রেটির কথা যারা নিজেদের প্লাসেন্টা গ্রহণ করার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
কোর্টনি কার্দাশিয়ান
৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ৩ সন্তানের মা। তিনি তৃতীয়বার জন্ম দেওয়ার পর নিজের প্ল্যাসেন্টা খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি প্লাসেন্টা খাওয়ার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কোর্টনি তার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্লাসেন্টা ক্যাপসুল খাওয়ার ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘আমার প্ল্যাসেন্টা বড়ি ফুরিয়ে গেলে আমি দুঃখিত হব। তারা জীবন পরিবর্তনকারী!’
জানুয়ারি জোন্স
৪৪ বছর বয়সী অভিনেত্রী জানুয়ারি জোন্স ২০১১ সালে পুত্র সন্তানের মা হন। তবে বেশিদিন বিরতি দেওয়ার মতো সময় ছিল না হাতে। তখন তার জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ম্যাড মেন চলছিল। জোন্স মনে করেন যে তার প্লাসেন্টা খাওয়ার ফলেই তিনি দ্রুত কাজে ফিরতে পেরেছিলেন।
অ্যালিসিয়া সিলভারস্টোন
হলিউড অভিনেত্রী অ্যালিসিয়া সিলভারস্টোনের বয়স এখন ৪৫। ২০১১ সালে পুত্র সন্তানের মা হন এবং প্লাসেন্টা খান। তিনি এটিকে ‘সুখী বড়ি’ আখ্যা দিয়েছেন।
ক্যাথরিন হেইগল
৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর তিন সন্তান। ২টি দত্তক নেওয়া এবং ১টি তার নিজের। সন্তান জন্মের পর তিনি নিজের প্লাসেন্টা খেয়েছেন। তিনি তার প্লাসেন্টা একটি কোম্পানিকে দিয়েছিলেন। তারা সেটিকে শুকিয়ে ক্যাপসুলে পরিণত করে।
ম্যাথিউ ম্যাককনাঘি ও ক্যামিলা আলভেস
এই তারকা দম্পতি প্লাসেন্টা ক্যাপসুল বা স্মুদি বানিয়ে খাননি। তারা বাড়ির আঙিনায় একটি আম গাছ লাগান। আর সেটিতে সার হিসেবে ব্যবহার করেন প্লাসেন্টা। ম্যাথিউ বলেন, ‘সেই আম গাছটিতে ৯ বছর পর প্রথম আম ধরেছিল, যা আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খেয়েছিলাম’।