

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মস্তিষ্কের কুয়াশা বা 'ব্রেন ফগ' কী?
ব্যস্ত জীবন আর মানসিক চাপের কা রণে হুট করে কোনো রুমে ঢুকে কাজ ভুলে যাওয়া, কথার খেই হারিয়ে ফেলা কিংবা কাজে মনোযোগ না পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে ছুটির দিন শেষে কাজে ফিরলে এমনটা বেশি হয়।
এই মানসিক অস্পষ্টতা বা আচ্ছন্নতাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ব্রেন ফগ' বা 'মস্তিষ্কের কুয়াশা' বলা হয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং মনোযোগহীনতা ও ভুলে যাওয়ার মতো কিছু উপসর্গের সমষ্টি। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, মেনোপজ, 'লং কোভিড' বা লুপাসের মতো রোগের কারণে এটি হতে পারে।
মনে রাখবেন, ব্রেন ফগ কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, এটি মূলত ক্লান্ত মস্তিষ্কের একটি সাময়িক সংকেত মাত্র। এর থেকে মুক্তি পাবার উপায়গুলো হল-
১. নিজের প্রতি সদয় হোন
ব্রেন ফগ হলে নিজেকে দোষ না দিয়ে নিজের প্রতি সদয় হওয়া উচিত। এই সময়ে কাজের গতি কিছুটা কমিয়ে দেওয়া, প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নেওয়া বা কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে এই সমস্যা নিয়ে আপনি যদি অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন বোধ করেন, তাহলে দেরি না করে আপনার পারিবারিক চিকিৎসকের (GP) সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
২. দৈনিক রুটিন তৈরি করুন
দিনের একটি নির্দিষ্ট ছন্দ বা গোছানো রুটিন থাকলে মস্তিষ্ক বারবার "এখন কী করব?"—এই সিদ্ধান্তহীনতার ক্লান্তি থেকে মুক্তি পায়। সকাল ও সন্ধ্যার একটি সহজ রুটিন আপনার কার্যকারী স্মৃতির ওপর থেকে মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। আগের রাতে পরের দিনের পোশাক গুছিয়ে রাখা বা সকালের নাস্তার প্রস্তুতি আগে থেকে নেওয়ার মতো সাধারণ অভ্যাসও মস্তিষ্কের জন্য বেশ আরামদায়ক।
৩. কাজের মাঝে বিরতি নিন
একটানা একের পর এক কাজ করলে মস্তিষ্ক নিজেকে সতেজ করার সময় পায় না, যা ব্রেন ফগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তাই কাজের মাঝে সচেতনভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিটের ছোট ছোট বিরতি রাখুন। এই সময়ে একটু শরীর টানটান করা, পানি খাওয়া বা শান্ত হয়ে বসে থাকা আপনার মনকে পরবর্তী কাজের জন্য চমৎকারভাবে প্রস্তুত করবে।
৪. ক্যালেন্ডার ও রিমাইন্ডার ব্যবহার করুন
সব কাজ বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট মাথায় ধরে রাখার চেষ্টা করলে মানসিক বিশৃঙ্খলা ও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই মনে রাখার কাজটি প্রযুক্তির ওপর ছেড়ে দিন। ক্যালেন্ডার ও রিমাইন্ডার ব্যবহার করে বিভিন্ন বিল, ঘরের কাজ বা দুপুরের খাবারের মতো নিয়মিত বিষয়গুলো আগে থেকেই সেট করে রাখুন। এতে মস্তিষ্কে বাড়তি জায়গা তৈরি হবে এবং মানসিক চাপ কমে আসবে।
