

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাঙালি খাদ্যসংস্কৃতিতে দুপুরের প্রথম পাতে শাকের উপস্থিতি এক চিরাচরিত ঐতিহ্য। পুঁই, পালং কিংবা কলমি- হরেক পদের শাক যেমন স্বাদে অনন্য, তেমনই পুষ্টিগুণেও ভরপুর।
তবে কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই পুষ্টিকর শাকই অনেক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরের খনিজ ও বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে খাদ্যাভ্যাসে আনতে হয় আমূল পরিবর্তন। এই অবস্থায় কিডনি রোগীরা খাদ্যতালিকায় শাক রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে পুষ্টিবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতামত চলুন জেনে নেওয়া যাক।
বাঙালিদের দুপুরের খাবারে প্রথম পাতে একটু শাক থাকা খুবই স্বাভাবিক একটি চিত্র। তবে কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন রোগীদের মনে প্রায়ই একটা বড় প্রশ্ন জাগে- তারা কি শাক খেতে পারবেন?
কিডনি ও খনিজের ভারসাম্য
আমাদের কিডনি শরীরের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় উপাদান রক্ত থেকে ছেঁকে মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেয়। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে বা ডায়ালিসিস চললে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়।
ফলে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজগুলো শরীর থেকে ঠিকমতো বের হতে পারে না এবং রক্তে এগুলোর মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই কারণে কিডনি রোগীদের খাবারে কড়া নিয়ন্ত্রণ আনতে হয়।
শাক খাওয়া যাবে কি না?
পুষ্টিবিদদের মতে, কিডনির রোগীরা শাক খেতে পারবেন কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তাদের রোগের তীব্রতা এবং রক্তের রিপোর্টের ওপর।
কখন খাওয়া যাবে না: যদি রক্ত পরীক্ষায় সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা অনেক বেশি থাকে, তবে শাক খাওয়া একদমই বন্ধ রাখতে হবে।
কখন খাওয়া যেতে পারে: যদি এই খনিজগুলোর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মাঝেমধ্যে সামান্য পরিমাণে শাক খাওয়া যেতে পারে।
অক্সালেট ও পাথরের ঝুঁকি
শাকে প্রচুর পরিমাণে 'অক্সালেট' থাকে। তাই যাঁদের কিডনিতে পাথর (Kidney Stones) জমার প্রবণতা বা সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শাক খেলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অতিরিক্ত শাক খেলে কিডনির ওপর চাপ বাড়ে। তাই কিডনির রোগ কতটা গুরুতর, তা বুঝে এবং রক্তের খনিজের মাত্রা পরীক্ষা করে তবেই শাক খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
