

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্পেনের জার্সিতে লিওনেল মেসিকে দেখার স্বপ্ন একসময় সত্যি করতে চেয়েছিল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু মেসির একটিই স্বপ্ন ছিল, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছার কাছেই হার মানে স্পেনের সব চেষ্টা।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দিতে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে চলে যান মেসি। নিজের দেশে তখনও তিনি খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু লা মাসিয়ায় তার অসাধারণ নৈপুণ্য খুব দ্রুতই স্প্যানিশ ফুটবল অঙ্গনের নজর কাড়ে। ভবিষ্যতের এক মহাতারকাকে নিজেদের জাতীয় দলে খেলানোর পরিকল্পনাও শুরু করে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।
আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ও মেসি: এল জেনিও কমপ্লেতো বইয়ের লেখক এরিয়েল সেনোসিয়াইনের মতে, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচরা বিভিন্নভাবে মেসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে মেসির অবস্থান ছিল পরিষ্কার—তিনি শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিই গায়ে তুলতে চান।
অন্যদিকে, শুরুতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মেসির প্রতিভা সম্পর্কে তেমন সচেতন ছিল না। কিন্তু তার খেলার ভিডিও দেখার পর কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। তখনকার যুব দলের কোচ হুগো তোকাল্লি এবং জাতীয় দলের কোচ হোসে পেকারম্যানও বুঝতে পারেন, অসাধারণ এক প্রতিভাকে দ্রুত জাতীয় দলে যুক্ত করা প্রয়োজন।
মেসিকে দলে ডাকতে গিয়ে একটি মজার ঘটনাও ঘটে। এএফএর এক কর্মকর্তা ফোন করে তার বাবা হোর্হে মেসিকে জানান, তারা তার ছেলে ‘লিওনার্দোকে’ জাতীয় দলে ডাকতে চান। তখন হোর্হে হেসে সংশোধন করে বলেন, তার ছেলের নাম লিওনেল মেসি।
সেই সময়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় একবার একটি দেশের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেললে পরে অন্য দেশের হয়ে খেলতে পারতেন না। তাই আর কোনো ঝুঁকি নেয়নি এএফএ। মেসির ১৭ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, যাতে তিনি দ্রুত আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক করতে পারেন।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচেই প্রথম আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামেন মেসি। ম্যাচটি কাভার করতে গিয়ে আলোকচিত্রী রাফায়েল কুইন্তেরোস তখনও বুঝতে পারেননি, তিনি ফুটবল ইতিহাসের এক কিংবদন্তির প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের সাক্ষী হচ্ছেন। পরে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, বেঞ্চে থাকা এক কিশোর নিজেই পরিচয় দিয়েছিল, ‘আমিই মেসি।’
এদিকে স্পেনও শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েনি। সাবেক যুব দলের সমন্বয়ক জিনেস মেলেন্দেজ জানান, বার্সেলোনার কোচ আলেক্স গার্সিয়া ছাড়াও জেরার্ড পিকে ও সেস ফাব্রেগাস মেসিকে স্পেনের হয়ে খেলতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মেসি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে কখনোই সরে আসেননি।
শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনি জিতেছেন বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা। পাশাপাশি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে।
একসময় যে স্পেন তাকে নিজেদের জার্সিতে দেখতে চেয়েছিল, সেই স্পেনের বিপক্ষেই এখন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামার গল্প ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ এক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
