

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংগঠন, গবেষক, গুম ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং অধিকারকর্মীদের নিয়ে ‘ট্রুথ বিয়ন্ড বর্ডার্স: রিজিওনাল কনফারেন্স অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস (এএফএডি)-র চেয়ারপার্সন ড. সাইরা রহমান খান উদ্বোধনী বক্তব্যে এমন একটি সত্য তুলে ধরেন, যা এই আন্দোলন বরাবরই জানে: গুমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সামনের সারিতে থাকেন নারীরা—মা, স্ত্রী, বোন ও কন্যারা। তিনি বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি বন্দি মানবাধিকার রক্ষকদের নামও আন্দোলনের অংশ হিসেবে উচ্চারিত হতে থাকবে। এ সময় তিনি সংগঠনের সাবেক চেয়ারপার্সন খুররম পারভেজের মুক্তির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। ৫ বছর ধরে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে গুম সংক্রান্ত গবেষণা ও নথিভুক্তকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে FIND তাদের ‘ED Heat Map’ উপস্থাপন করে, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক তথ্য তুলে ধরা হয়। নেপালের অ্যাডভোকেসি ফোরাম জানায়, ৮ হাজারের বেশি নথিভুক্ত ঘটনার ভিত্তিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে গণমামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া NKHR তাদের ৩০ বছরের নথিভুক্তকরণের অভিজ্ঞতা এবং APDP রাষ্ট্রের আড়াল করার চেষ্টা করা সত্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
মনোসামাজিক সহায়তা বিষয়ক অধিবেশনে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশুদের জন্য আর্ট থেরাপি এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি ন্যায়বিচারের আন্দোলনও টেকসই হয় না।
দিনের শেষ অধিবেশনে প্রচারাভিযান ও নীতিগত তদবির নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সনদ ICPPED -এ যোগদান এবং জোরপূর্বক গুমবিরোধী আইন প্রণয়নে নাগরিক সমাজের ভূমিকা, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডে স্মৃতি সংরক্ষণ উদ্যোগ এবং শিল্পকে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মৃতি ও ন্যায়বিচারের দাবি জীবিত রাখতে আঞ্চলিক সহযোগিতা, তথ্য সংরক্ষণ এবং ধারাবাহিক জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।