রবিবার
১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিষ আনতে গিয়ে নিখোঁজ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে আবারও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এবার পাহাড়ে মহিষ আনতে গিয়ে মো. আরফাত (১৩) নামে এক কিশোর অপহরণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পরিবারের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। এ ঘটনায় পুরো পরিবারে নেমে এসেছে উৎকণ্ঠা, আর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার পাহাড়সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। আরফাত শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাবুদের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও আরফাত পাহাড়ের পাদদেশে চরানো মহিষ আনতে যায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও সে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আরফাতের বাবা আব্দুল মাবুদ বলেন, আমরা সারারাত ছেলেকে খুঁজেছি। কোথাও পাইনি। শনিবার সকালে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, আরফাত তাদের কাছে আছে। তাকে জীবিত ফেরত চাইলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে ছেলেকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা অসহায়। এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, আমার ছেলেকে দ্রুত জীবিত উদ্ধার করে দিন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মুক্তিপণের দাবির পর থেকে তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অপহরণকারীরা বারবার যোগাযোগ করতে পারে, এমন আশঙ্কায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিউল কাদের (কালু) বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছেন। পরিবারের সদস্যদের টেকনাফ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিশোরকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বাহারছড়া, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও টেকনাফ সদরসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় গবাদিপশু চরানো, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ কিংবা মাছ ধরতে যাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফলে অনেকেই জীবিকার প্রয়োজনে এসব এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫০ জনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের অধিকাংশকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া হলেও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযান পরিচালিত হলেও সীমান্ত অঞ্চলে অপহরণ চক্রের তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অপহরণের পুনরাবৃত্তিতে সীমান্ত জনপদে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা অপহরণকারী চক্রের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান এবং সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
France VS England
58'
2 - 4
48' Kylian Mbappé
54' Bradley Barcola
37' Bukayo Saka
45'+1' Bukayo Saka
World Cup