বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০টি রেখে ২৫০ আসনে সমঝোতা জামায়াতসহ ১০ দলের, রাতে ঘোষণা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক।
expand
রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৫০টি আসন রেখে বাকি ২৫০টি আসনে সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দল। এই জোটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে এই সমঝোতার আওতায় রাখতে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন জামায়াতসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, কোন দল কতটি আসন পাবে—সে বিষয়েই মূল আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মোহাম্মদ মুনতাসির আলি সাংবাদিকদের জানান, আজ রাত ৮টায় ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা সমঝোতায় না এলে পরবর্তী সময়ে ওই আসনগুলোতেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

দুপুরে চলমান বৈঠক থেকে বেরিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান সাংবাদিকদের জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে। তিনি চরমোনাই পীরের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মামুনুল হক বলেন, ১০ দলের উপস্থিতিতে বৈঠক শেষ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। রাতের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই আসন ঘোষণা করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। এই জোট নিয়ে আকাঙ্ক্ষার জায়গা আছে, এটা জনগণ বুঝে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে, এটা সবার প্রত্যাশা। যেসব মতভিন্নতা হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো কেটে যাবে। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা হবে এই জোট যেন অটুট থাকে। কারও মতানৈক্য থাকলেও জোট প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

নাহিদ বলেন, ৩০০ আসনে কোনো দলীয় প্রার্থী হবে না, সবাই জোটের প্রার্থী হবে। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করবে।

আজকের বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ অংশ নিয়েছেন।

এই বৈঠকে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বেলা দেড়টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, বৈঠকের বিষয়ে তাঁরা সকাল ১০টার দিকে জানতে পেরেছেন। সে কারণে প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা চলমান। এখনো আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। আলাদা হয়ে যাওয়ারও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে ইসলামী আন্দোলনের। এর ফলে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বে কয়েকটি দল নিয়ে নতুন সমঝোতার আলাপও উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত জামায়াত বা ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আলাদা হয়ে জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপরন্তু দুটি দলই এখনো সমঝোতার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে।

আজ দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, ‘সম্প্রতি লক্ষ করছি, কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন মন্তব্য ও লেখালেখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেছেন।’

জামায়াতের আমির লেখেন, ‘আপনাদের প্রতি সবিনয়ে অনুরোধ রাখতে চাই—সত্যিই যদি আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ধরনের সকল কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন।’

অন্যদিকে দুপুরে ইসলামী আন্দোলন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। নেতারা বহুমাত্রিক ও বহুপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত কিছু বলার মতো অবস্থা তৈরি হলে ইসলামী আন্দোলন ও অন্য দলগুলো আনুষ্ঠানিভাবেই জাতিকে অবহিত করবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X