

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রথমবারের মতো শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে বিএনপি। আগামী ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিকদের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরকারপ্রধানের খোলামেলা আলোচনার কথা রয়েছে।
এদিকে মিত্র দলগুলোর নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে শরিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বিএনপি। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বিএনপি, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন শরিকরা।
সূত্র জানায়, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও রাজপথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। যেসব শরিক দল থেকে ইতোমধ্যেই সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, এই অনুষ্ঠানে তাদের ডাকা হচ্ছে না। যারা ভোটে বিজয়ী হতে পারেননি, মূলত তারাই আমন্ত্রণ পাচ্ছেন।
মিত্র দলগুলোর নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ‘নামমাত্র’ বাস্তবায়ন করেছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর শরিকদের মধ্য থেকে দুজন নেতা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও অধিকাংশ দল এখনও সরকার কিংবা বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে প্রত্যাশিত প্রতিনিধিত্ব পায়নি। আন্দোলনের সময় বিএনপি নেতারা বলেছেন, ‘একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে সরকার গঠন।’ কিন্তু সেই জায়গায় সবাইকে মূল্যায়ন করা হয়নি। আন্দোলনের সময় তারা যেটা বলেছে, সেটা রক্ষা করা হোক।
বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই দূরত্ব কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে আমন্ত্রিত নেতাদের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন তারেক রহমান। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জোট নেতা ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান, নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এনপিবি নিউজকে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। এদিকে বিএনপি সরকার গঠন করেছে, কিন্তু শরিকদের থেকে মাত্র দুজনকে প্রতিমন্ত্রী বানানো হয়েছে। এটাতো আর জাতীয় সরকার হলো না। আমরা সার্বিকভাবে সরকারের কাছে মূল্যায়ন আশা করি। যেই কয়টি আসনে শরিকদের বিএনপি সমর্থন দিয়েছে, সেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসানোর দায়িত্ব হচ্ছে বিএনপির। এখন বিএনপির সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তাদের মূল্যায়ন করবে, এমনটাই প্রত্যাশা তার।
জানতে চাইলে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী এনপিবি নিউজকে বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) আগেই ছিল, এখন নতুন করে কিছু নেই। তখনই বিএনপি বলেছিল, সকলকে মূল্যায়ন করা হবে এবং সরকারে রাখা হবে। যুগপৎ আন্দোলনে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে জুনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুরকে মূল্যায়ন করেছে বিএনপি।
এক প্রশ্নের জবাবে সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছে। যুগপৎ আন্দোলনের সময় যে সমস্ত কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) তারা (বিএনপি) দিয়েছিল, ‘একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে সরকার গঠন।’ কিন্তু সেখানে সবাইকে মূল্যায়ন করা হয়নি। তারা তাদের কমিটমেন্ট রক্ষা করবে, এটাই আশা করি। নতুন করে বলার কিছু নেই। বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন সময় বৈঠক হয়েছে। গুলশান কিংবা লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান একই কথা বলেছেন। আন্দোলনের সময় যেটা বলেছে, সেটা রক্ষা করা হোক।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এনপিবি নিউজকে বলেন, বিএনপি সরকারের চার মাসের সফলতা এবং ব্যর্থতাসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতে পারে। এছাড়া বিএনপি একলা চলো নীতিতে চলতে চায়, নাকি শরিকদের নিয়ে পথ চলতে চায়। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে শরিক দলগুলোকে বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা জানতে চেষ্টা করব।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি আগে যে কথার ওপর ছিল, সেটার ওপর নেই, এটা বোঝা গেছে। এখন আলোচনা হলে বোঝা যাবে। আমাদেরকে এক করবে কি না, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেতাদের আলোচনার পর বোঝা যাবে তারা কী চায়। আমাকে নির্বাচনে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে, এজন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু হারার পেছনে বিএনপিরও দায় রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সরকার ভালো করতে পারছে না। শরিকদের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে, এটা সরকারের জন্য নেতিবাচক বার্তা।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বিএনপি। বৈঠকে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এনপিবি নিউজকে বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে এমনিই বসার কথা। এরই অংশ হিসেবে ২০ জুলাই আলোচনা হবে।
যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিল, তাদের মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে আলোচনা করা, পরামর্শ নেওয়া এটাই তো। তাদের মন্ত্রী বানাতে হবে, এমন তো কথা নয়। বিএনপির অনেক বড় নেতা মন্ত্রী হননি। বিএনপির অসংখ্য এমপি রয়েছেন, যারা মন্ত্রী হননি। তারা তো সরকারেরই অংশ।