

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হেফাজতের আমির-মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। এর মধ্যে যেসব দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত তাদের সেই জোট ছাড়ার ব্যাপারে এই বৈঠকে চাপ দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমির ও আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কাসেমী এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান যৌথভাবে এ বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই বৈঠক আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় সকালে অনুষ্ঠিত হবে।
হেফাজতের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনা সভায় কওমি ঘরানার ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিটি দলকে তাদের সভাপতিসহ ৩ জন প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈমান-আকিদা রক্ষা এবং দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি শক্তির ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
হেফাজত আমিরের খাদেম মাওলানা আব্দুল খালেক জানান, বৈঠকে সাতটি ইসলামি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দলগুলো হলো— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং নেজামে ইসলাম পার্টি।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা কওমি ঘরানার ৪টি দলকে আগেই ওই জোট থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। আগামীকালের বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসলামি দলগুলোর করণীয়, সম্ভাব্য সমন্বিত কর্মপন্থা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, আমন্ত্রিত অধিকাংশ দলই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও মুফতি রেজাউল কারীম আবরার উপস্থিত থাকবেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি দলে থাকছেন দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদ। এছাড়া বাকি পাঁচটি দলেরও শীর্ষস্থানীয় নেতারা বৈঠকে অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গত নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দল নিয়ে নির্বাচনি ঐক্য গড়ে উঠে। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদির সঙ্গে কিছু আকিদাগত বিষয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এই জোটের কড়া বিরোধিতা করে আসছেন। বিভিন্ন সময় তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে মুখও খুলেছেন।
এই জোটের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা মাওলানা মামুনুল হক হেফাজতেরও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব। তাকে আগেও জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়ার ব্যাপারে হেফাজতের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে। এবারের বৈঠকে আরও স্পষ্টভাবে বলা হতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে যে সাতটি দলকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে এর মধ্যে চারটি দল ১১ দলীয় জোটে রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ইতোমধ্যে জোট ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। এর বাইরে খেলাফত মজলিসেরও স্পষ্ট দূরত্ব দেখা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে। তবে এই জোটে জোরালোভাবে রয়েছে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এছাড়া নেজামে ইসলাম পার্টিও জোটে রয়েছে।
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরুতে জোটে থাকলেও পরে বেরিয়ে যায়। এছা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং ইসলামী ঐক্যজোট শুরু থেকেই এই জোটে নেই।
তথ্যসূত্র: ঢাকা মেইল