

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। তবে এই লড়াই শুধুই ফাইনালের টিকিটের জন্যই নয়, ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগও এনে দিতে পারে ইংলিশদের।
প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কঠিন হলেও টমাস টুখেলের দলের সামনে আশার আলো দেখাচ্ছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আর্জেন্টিনার রক্ষণে ভঙ্গুরতা
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃঢ় ছিল না। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। এরপর কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও নির্ধারিত সময়ে জয় নিশ্চিত করতে পারেনি, দুই ম্যাচই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
নকআউটের তিন ম্যাচে মোট পাঁচ গোল হজম করেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে প্রতিপক্ষের শট ঠেকানোর হারও তাদেরই সবচেয়ে কম, মাত্র ৫৭ শতাংশ। ফলে সুযোগ তৈরি করতে পারলে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে।
দুর্দান্ত ফর্মে কেইন ও বেলিংহাম
ইংল্যান্ডের আক্রমণের প্রধান দুই অস্ত্র হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। চলতি বিশ্বকাপে দুজনই ৬টি করে গোল করেছেন। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন বেলিংহাম। বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুই নকআউট ম্যাচে জোড়া গোলের এই কীর্তি এর আগে ছিল শুধু দিয়েগো ম্যারাডোনার।
অন্যদিকে হ্যারি কেইনও বড় ম্যাচে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন। শেষ ৩২-এর ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন তিনি।
সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে টুখেলের দল
পুরো টুর্নামেন্টে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড। হেড, কাটব্যাক, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক—বিভিন্ন উপায়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেছে তারা।
সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, মোট ১৮টি 'বিগ চান্স' তৈরি করেছে ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার রক্ষণ যদি আগের ম্যাচগুলোর মতো ফাঁকফোকর রেখে দেয়, তাহলে কেইন, বেলিংহাম ও সতীর্থরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।
প্রথমবার বড় পরীক্ষার মুখে আর্জেন্টিনা
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে। তবে এই যাত্রায় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫-এর কোনো দলের মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের।
সে হিসেবে ইংল্যান্ডই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষেও আর্জেন্টিনাকে লড়াই করতে হয়েছে। তাই বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড বিশ্বাস করছে, সেমিফাইনালে তারা সেই দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারবে।
