

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-সংক্রান্ত দাবিতে আন্দোলনের পেছনে বিরোধীদল ও ‘পতিত স্বৈরাচারের’ ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে এমন দাবি করেন বিএনপির এ নেতা।
আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি এবং সরকারের অবস্থান নিয়ে পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, ‘দেড় থেকে দুই শ শিক্ষার্থী সারা ঢাকা শহর অচল করে রেখেছে। এর ফলে অন্তত এক থেকে দেড় কোটি মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে সরকার ও প্রশাসন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। অনেকেই এটিকে সরকারের দুর্বলতা মনে করছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘এর পেছনে বর্তমান বিরোধী দল ও পতিত স্বৈরাচারের ইন্ধন রয়েছে। সরকার কোনো ভুল করলে তারা সেটিকে কাজে লাগিয়ে মাঠে আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও রয়েছে। তাই সরকারকে খুব সাবধানে পা ফেলতে হচ্ছে।’
আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, তাদের ছাত্রজীবনে পরীক্ষা শেষে বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল স্বাভাবিক বিষয়। বর্তমানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু শিক্ষার্থীর মুখে ‘প্রশ্ন সহজ করতে হবে’এমন দাবিও তিনি শুনেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন রাশেদ । এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, প্রশ্ন সহজ করার দাবিতে আন্দোলন যৌক্তিক নয়।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। এরপরও সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করার পেছনে বিরোধী শিবিরের উসকানি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সবশেষে রাশেদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। অন্যথায় ষড়যন্ত্রকারীরা আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনকে ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানী, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ করেন পরীক্ষার্থীরা। ওইদিন বেলা ১১টার দিকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। এতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।