

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। রমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার পাল্টা জবাবে বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন হামলার পর এবার পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান।
দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরান বলছে, এটি তাদের ‘প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া’। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান। দেশটির দাবি, ওই হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
আইআরজিসি আরও অভিযোগ করেছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার সময়কে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হামলার সময় বেছে নিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, দেশটির বুশেহর প্রদেশের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহবি বলেন, আকাশসীমা লঙ্ঘনের কারণেই ড্রোনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা হার্লান উলম্যান বলেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তবে এমন সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই ইতিবাচক হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেয় বলে অভিযোগ করেছে ইরান। এরপরই পাল্টা হামলার ঘোষণা দেয় তেহরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।
