

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ। তার মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড্যানিলোভিচ বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন এখন স্পষ্টতই শেষ।’
তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ভারতে অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনমতকে কোনো সরকারই উপেক্ষা করতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘ইতিহাস ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাই বিদ্যমান সংকট সত্ত্বেও পারস্পরিক স্বার্থে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া উভয় দেশের জন্যই জরুরি।’
ড্যানিলোভিচের মতে, ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ভারতীয় জনমতকে প্রভাবিত করেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি আরও বেড়েছে।
চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। তবে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করলে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না ।’
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ড্যানিলোভিচ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর দায়ভার এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা কঠিন। তাই রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিস্থিতি গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সার্কের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ এখন আসিয়ানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী।’
সূত্র: দ্য ডেল্টাগ্রাম
