

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি তীব্র হচ্ছে মাঠের বাইরের বিতর্কও। ফিফার ‘লাল কার্ড’ বাতিলের আলোচনা শেষ না হতেই এবার ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়ার মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের ১-০ গোলে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন আমারিয়া। তিনি এমবাপ্পেকে ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতার ক্যামেরুনীয়’, ‘ফরাসি হওয়ার ভান করা অহংকারী’ এবং ‘কুৎসিত’ বলে আখ্যা দেন। পরে পোস্টটি মুছে ফেললেও এমবাপ্পের প্রতিক্রিয়ার পর তিনি একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন।
চিঠিতে নিজের মন্তব্যের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করলেও এমবাপ্পের কাছেও প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি করেন আমারিয়া। তিনি বলেন, তার বিরোধ ফ্রান্সের সঙ্গে নয়, কেবল এমবাপ্পের সঙ্গে।
সিনেটরের অভিযোগ, ম্যাচের আগে এমবাপ্পে এমন মন্তব্য করেছিলেন, যা প্যারাগুয়েকে অপমান করেছে। তার দাবি, এমবাপ্পে বলেছিলেন, ‘যদি নোংরা খেলতে হয়, তাহলে নোংরাই খেলব।’ আমারিয়ার মতে, এই বক্তব্যে প্যারাগুয়ের পুরো দলকে অসম্মান করা হয়েছে।
এ ছাড়া ম্যাচ চলাকালে এমবাপ্পে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের প্রতি অবজ্ঞাসূচক আচরণ করেছেন এবং এক পর্যায়ে স্প্যানিশ ভাষায় অশালীন গালিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে করমর্দন না করে সরাসরি বিজয় উদযাপনে মেতে ওঠার ঘটনাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আমারিয়া। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখানো খেলাধুলার মৌলিক মূল্যবোধ এবং জয়-পরাজয় যাই হোক, সেটি বজায় রাখা উচিত ছিল।
তবে নিজের আচরণেরও সমালোচনা করেন প্যারাগুয়ের এই সিনেটর। তিনি স্বীকার করেন, ক্ষোভের বশে এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী ও অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। পরে বিষয়টি উপলব্ধি করে পোস্টটি মুছে দেন।
আমারিয়া বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, আমি সেই একই ঘৃণার পুনরাবৃত্তি করছিলাম, যার শিকার আমিও হয়েছি। তাই পোস্টটি মুছে ফেলেছি।’
খোলা চিঠিতে এমবাপ্পেকে তার মন্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেন তিনি। তার দাবি, ‘তুমি আমাকে “নিকৃষ্ট” বা “এই পদে থাকার অযোগ্য” বলার অধিকার রাখো না। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সিনেটর।’
চিঠির শেষাংশে আমারিয়া অভিযোগ করেন, এমবাপ্পে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতামূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমবাপ্পে ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

