

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গিয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন এক গৃহবধূ। তার ব্যাংক হিসাবে দেখা গেল মোট ৭৫৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ৯৫১ রুপি ১৬ পয়সা। এই বিপুল অর্থ দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার বিলবোড়াকোপরা গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিকাপুর গ্রামে। ওই গৃহবধূর নাম সেরিফা খাতুন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সেরিফা খাতুনের স্বামী ও অন্যান্য আত্মীয়রা তামিলনাড়ুতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সেখান থেকেই তার দেবর তার সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার হিসাবে ৩ হাজার রুপি পাঠিয়েছিলেন। সেই অর্থ তুলতে গিয়েই তিনি অ্যাকাউন্টে ৭০০ কোটি রুপিরও বেশি অর্থ দেখেন।
সেরিফা খাতুন জানান, তাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। সংসার চালাতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের অন্য রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে হয়। হঠাৎ অ্যাকাউন্টে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং তার হাত-পা কাঁপতে শুরু করে।
এরপর বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের জানান এবং স্থানীয় লালগোলা থানাকেও অবহিত করেন। কীভাবে তার অ্যাকাউন্টে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখা গেল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, এটি ব্যাংকের কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সার্ভারের সমস্যার কারণে ভুল ব্যালেন্স প্রদর্শনের ঘটনা হতে পারে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ঠিক কী কারণে সাধারণ এক নারীর অ্যাকাউন্টে এত অর্থ দেখা গেল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ব্যাংক কর্মকর্তারা।
একই দিনে একইরকম আরেকটা ঘটনা ঘটেছে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ধুলাগাঁও গ্রামে। গ্রামের ওই বাসিন্দার নাম স্বপ্না বর্মন। সরকারি প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ তার অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে কি না তা জানতে ধুলাগাঁও বাজারের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় গিয়েছিলেন তিনি। নিয়মমাফিক স্টেটমেন্ট বের করতেই তিনি অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী হন। স্টেটমেন্টে দেখা যায়, তার অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে প্রায় ৭৪০ কোটি রুপি।
ঘটনার খবর পৌঁছে যায় জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশের কাছেও। পুলিশ গিয়ে গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনার প্রাথমিক খোঁজখবর নেয়। পরে পুলিশই তাকে পুনরায় ব্যাংকে গিয়ে ব্যালেন্স যাচাই করার পরামর্শ দেয়। দ্বিতীয়বার ব্যালেন্স পরীক্ষা করতেই সামনে আসে প্রকৃত তথ্য। দেখা যায়, অ্যাকাউন্টে ৭৪০ কোটি নয়, আগের মতোই সেখানে রয়েছে মাত্র ২০২ রুপি। প্রথম স্টেটমেন্টে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের ফল।
সোর্স: চ্যানেল২৪