

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুখে মাস্ক পরে গণপরিবহনে উঠে পড়লেন পরিবহনমন্ত্রী। চেহারা দেখতে না পারায় কেউ চিনতে পারলো না তাকে। মন্ত্রীর উদ্দেশ্য - সাধারণ যাত্রীরা কীভাবে প্রতিদিন যাতায়াত করেন, কোন ধরনের সমস্যায় পড়েন, কী তাদের অভিযোগ - এসব বিষয় সরেজমিনে উপলব্ধি করা। মহৎ এই উদ্দেশ্য নিয়ে মন্ত্রী মশাই বাসে উঠলেও সঙ্গে তার ছিল না খুচরা টাকা। এতে বিপত্তিতে পড়েন মন্ত্রী।
আর খুচরা টাকা না দিতে পারায় মন্ত্রীকে বাস থেকেই মাঝপথে নামিয়ে দেন কন্ডাক্টর। সাধারণ যাত্রীদের প্রতিদিনের ভোগান্তি এভাবেই প্রথম হাতেনাতে টের পেলেন পরিবহনমন্ত্রী।
অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বেঙ্গালুরুতে।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছেন, ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ শনিবার (১১ জুলাই) এই বিব্রতকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন। মাস্ক পরিহিত পরিবহনমন্ত্রীকে চিনতে পারেননি বাস কন্ডাক্টর। তার কাছে টিকিটের সঠিক খুচরা টাকা না পেয়ে তাকে বেঙ্গালুরুর একটি বিএমটিসি বাস থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন কন্ডাক্টর।
হেব্বাল-নাগশেট্টিহল্লি রুটের একটি বাসে ভ্রমণকালে মন্ত্রী টিকিট কাটার জন্য কন্ডাক্টরকে ১০০ রুপির একটি নোট দেন। কিন্তু কন্ডাক্টর ভাংতি নাই বলে তাকে টিকিট না দিয়ে উল্টো বাস থেকে নেমে যেতে বলেন।
শনিবার প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ১০টিরও বেশি বিএমটিসি বাসে ছদ্মবেশে ভ্রমণ করেন মন্ত্রী। এই সময়ে সাধারণ যাত্রীরা নিয়মিত যেসব সমস্যার অভিযোগ করে থাকেন, তেমন বেশ কয়েকটি চিত্র তিনি নিজের চোখে দেখেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাটি ঘটে যখন একটি বিএমটিসি বাস ফ্যান ওয়ার্ল্ড বাস স্টপেজে এক যাত্রীর নামার সংকেত দেওয়ার পরও থামেনি বলে অভিযোগ ওঠে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে সুরেশ বাসটির চালক এবং কন্ডাক্টর উভয়কেই সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন কেবল বাস ভ্রমণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নাগশেট্টিহল্লিতে বাস থেকে নামার পর সুরেশ এক অটো-রিকশাচালকের সঙ্গে এক যাত্রীর বিবাদ মেটাতে হস্তক্ষেপ করেন। ওই অটোচালকের মিটারে ভাড়া ৩০ টাকা দেখালেও তিনি যাত্রীর কাছে ৩৬ টাকা দাবি করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই পুরো অভিযানটিকে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া হিসেবে বর্ণনা করে পরিবহন মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিতা জোরদার করতে, পরিবহন কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের যাতায়াতের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে বেঙ্গালুরুজুড়ে এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে।