

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা বর্ষণ ও বন্যার পানির প্রবল স্রোতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি কবরস্থান ভেঙে তিনটি মরদেহ ভেসে যাওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে ধর্মীয় মর্যাদা বজায় রেখে অন্য কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাজালিয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মরহুম আলতাফ আলী চৌধুরী জামে মসজিদের কবরস্থানে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রবল স্রোতে নদীতীরের একাংশ ভেঙে পড়লে কবরস্থানের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে সম্প্রতি দাফন করা তিনটি মরদেহ কবর থেকে ভেসে বিভিন্ন স্থানে আটকে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। পরে ধর্মীয় রীতি মেনে পশ্চিম বাজালিয়ার দিঘীরপাড় এলাকায় অন্য একটি কবরস্থানে মরদেহগুলো পুনরায় দাফন করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সাঙ্গু নদীর ভাঙনে এই কবরস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ে। অতীতেও একাধিকবার কবর ভেঙে মরদেহ ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আজিজ কেরানির বাড়ি থেকে মো. ইলিয়াছের বাড়ি পর্যন্ত নদীতীরে একটি টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে কবরস্থান, বসতবাড়ি ও আশপাশের কৃষিজমি নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই সাঙ্গু নদীর ভয়াল ভাঙনে কবরস্থান, বসতঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ। এমনকি মৃত্যুর পরও স্বজনদের কবর নিরাপদ থাকছে না। তাই দ্রুত স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।