

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদে হঠাৎ করেই সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়ভাবে বাঁকড়া মসজিদ নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক মসজিদে শনিবার (১২ জুলাই) থেকে বিশেষ অনুমতিতেও আর প্রবেশ করা যাচ্ছে না। নিয়মিত নামাজ আদায়ও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান অবস্থানে মসজিদটি থাকায় দীর্ঘদিন ধরে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ আটকে রয়েছে। বড় আকারের উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামা এবং প্রধান রানওয়ের সংস্কারকাজের সময় বিকল্প রানওয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এতদিন বিরাটি মোড়ের দিক থেকে বিমানবন্দরের তিন নম্বর ফটক দিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষ মসজিদে প্রবেশ করতে পারতেন। এরপর বিমানবন্দরের ভেতরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মসজিদে পৌঁছাতে হতো। তবে শনিবার থেকে সেই বিশেষ অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। ফটকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে অনুমতি ছাড়া কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন।
দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির মধ্যে একাধিক দফা বৈঠকের পর বিষয়টি নতুন গতি পায়। পরে একটি বিশেষজ্ঞ দল মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করে এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চায় না। তবে স্থানান্তরের সময় মসজিদের ধর্মীয় মর্যাদা এবং ১৩৬ বছরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় ও আধুনিক একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। নতুন স্থানে সব ধরনের ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে গৌরীপুর জামে মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও অংশ। ফলে প্রবেশ বন্ধ ও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে অনেকের মধ্যে আবেগ তৈরি হলেও অধিকাংশই আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রত্যাশা করছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন মসজিদ নির্মাণ, স্থানান্তরের সময়সূচি এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে। বর্তমানে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।