

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্কোরলাইন ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে রেফারিং। সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন আগেই ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এবার একই সুরে কথা বললেন দলের ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জি।
আকাঞ্জির অভিযোগ, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোয় একের পর এক সিদ্ধান্ত সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গেছে। বিপরীতে আর্জেন্টিনা একই ধরনের ঘটনায় শাস্তি এড়িয়ে গেছে বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, এসব সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলেছে।
সুইজারল্যান্ডের আক্ষেপটা সবচেয়ে বেশি ব্রিল এমবোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড নিয়ে। ম্যাচে ১-১ সমতায় ফেরার পর সুইসরা যখন আর্জেন্টিনার ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এমবোলোকে। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে ইয়াকিনের দলের জন্য।
বিদায়ের হতাশা থাকলেও সতীর্থদের পারফরম্যান্সে গর্বিত আকাঞ্জি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এই মুহূর্তটা খুব, খুব কঠিন। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি দলের জন্য ভীষণ গর্ব অনুভব করেছি। খোলা খেলায় তাদের একটি সত্যিকারের গোলের সুযোগও আমার মনে পড়ছে না। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আমরা যা দেখিয়েছি, তা সত্যিই অসাধারণ। তারা আমাদের বিপক্ষে কোনো সুযোগই পায়নি।
ম্যাচের শুরুতেই কর্নার থেকে গোল হজম করে সুইজারল্যান্ড। সেট-পিসে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন আকাঞ্জি। তবে একই সঙ্গে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ ঝরেছে তার কণ্ঠে।
সুইস ডিফেন্ডার বলেন, ম্যাচের শুরুতে সেট-পিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে আমাদের আরও ভালো করতে হবে। কিন্তু যখন রেফারিও আপনার বিপক্ষে থাকেন, তখন বিষয়টা আরও কঠিন হয়ে যায়।
সাধারণত ম্যাচ কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন না দাবি করে আকাঞ্জি এবার আর নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। তার অভিযোগ, ছোটখাটো সিদ্ধান্তগুলোও বারবার আর্জেন্টিনার পক্ষেই গেছে।
দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া এমবোলোর পাশেও দাঁড়িয়েছেন আকাঞ্জি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার ধাক্কা সুইজারল্যান্ডের লড়াই কঠিন করে তুললেও এমবোলোকে এককভাবে দায়ী করতে চান না তিনি।
আকাঞ্জি বলেন, ব্রিল আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। আমরা ওর পাশে আছি এবং থাকব। আমরা জানি, একসঙ্গে থাকলেই কেবল সফল হওয়া সম্ভব।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় শক্তিকেই সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র মনে করেন আকাঞ্জি। তার মতে, দলে হয়তো এমন অনেক তারকা নেই, যারা একাই ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন। কিন্তু দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকাই সুইসদের আলাদা শক্তি।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলেও মনে করেন আকাঞ্জি। তিনি বলেন, আমাদের দলে হয়তো খুব বেশি এমন খেলোয়াড় নেই, যারা একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আমাদের বিশেষত্ব পুরো দল হিসেবে। এই বিশ্বকাপে আমরা কী অর্জন করেছি, সেটা উপলব্ধি করতে এবং সবকিছু মেনে নিতে অবশ্যই কিছুটা সময় লাগবে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে হার স্কোরলাইন বলছে আর্জেন্টিনার জয়। কিন্তু সুইস শিবিরের দাবি, মাঠের লড়াই এতটা একপেশে ছিল না। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরও রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ কাটছে না সুইজারল্যান্ডের।

