

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যেমন নতুন প্রজন্মের বেশ কিছু তারকার উত্থানের সাক্ষী হয়েছে, তেমনি কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স নিয়ে উঠেছে হতাশার প্রশ্ন। বড় প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামলেও নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া মাধ্যম ‘ব্লিচার রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছে এবারের বিশ্বকাপের ‘ফ্লপ একাদশ’।
এই একাদশের সবচেয়ে আলোচিত নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ এই তারকাকে শুধু আক্রমণভাগে নয়, দলের অধিনায়ক হিসেবেও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজকেও রাখা হয়েছে হতাশাজনক একাদশের কোচের ভূমিকায়। তার অধীনেই শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল।
গোলরক্ষক
ম্যানুয়েল ন্যয়ার (জার্মানি): অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরে বিশ্বকাপ খেললেও নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায়নি জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ারকে। গ্রুপ পর্বে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত এবং গোল হজমের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ফলে হতাশাজনক একাদশের গোলপোস্টের দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ এই তারকা।
ডিফেন্ডার
রিস জেমস (ইংল্যান্ড): ইনজুরির কারণে পুরো টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলতে পারেননি রিস জেমস। ৭২০ মিনিটের সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে তার মাঠে থাকা ছিল মাত্র ৩১৮ মিনিট। তার অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ডের রাইট-ব্যাক পজিশনে দুর্বলতা দেখা যায়।
গ্যাব্রিয়েল মাগালেস (ব্রাজিল): ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা হিসেবে খেলতে নামলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি গ্যাব্রিয়েল। পজিশনিংয়ের ভুল ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতা দলকে সমস্যায় ফেলেছে।
জোনাথন তাহ (জার্মানি): জার্মানির রক্ষণে স্থিরতা আনতে ব্যর্থ হন তাহ। চার ম্যাচ খেলেও কোনো ক্লিন শিট রাখতে পারেননি। টাইব্রেকারে তার ব্যর্থতাও দলের বিদায়ে প্রভাব ফেলে।
লুকাস দিগনে (ফ্রান্স): শক্তিশালী ফ্রান্স দলের তুলনামূলক দুর্বল পারফরমার হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন দিগনে। সেমিফাইনালে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ার ঘটনাও তার হতাশাজনক মুহূর্তগুলোর একটি।
মিডফিল্ডার
ফেদে ভালভার্দে (উরুগুয়ে): রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার ক্লাব পর্যায়ে দুর্দান্ত হলেও বিশ্বকাপে নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাননি। দলের কৌশল ও কোচিং পরিকল্পনা নিয়েও নানা আলোচনার মধ্যে ছিলেন তিনি।
ভিতিনহা (পর্তুগাল): পিএসজির হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানো ভিতিনহা জাতীয় দলের জার্সিতে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। রোনালদোনির্ভর আক্রমণ কৌশলের মধ্যে নিজের সৃজনশীলতা দেখানোর সুযোগও সীমিত ছিল।
লেরয় সানে (জার্মানি): গতি ও আক্রমণাত্মক দক্ষতার জন্য পরিচিত সানে বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি। ভুল সিদ্ধান্ত ও এলোমেলো শটের কারণে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি।
আক্রমণভাগ
ইয়ান দিওমান্দে (আইভরি কোস্ট): পরিশ্রম ও দৌড়ঝাঁপে নজর কাড়লেও গোল করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।
ননি মাদুয়েকে (ইংল্যান্ড): বুকায়ো সাকার বিকল্প হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়া মাদুয়েকে পাঁচ ম্যাচ খেলেও গোল বা অ্যাসিস্টের দেখা পাননি।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল): পর্তুগালের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন রোনালদো। তবে পুরো দলের প্রত্যাশার তুলনায় তার অবদান ছিল সীমিত। টুর্নামেন্টে তিনটি গোল করলেও বড় ম্যাচে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গঞ্জালো রামোসের ভালো পারফরম্যান্সের পর রোনালদোকে অন্য ভূমিকায় ব্যবহার করা যেত কি না, সেই আলোচনা তৈরি হয়েছে।