

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সদর মডেল থানার মাঝামাঝি স্থানে শহরের প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এতে সারজিস আলম ও এনসিপির হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এনসিপির অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
এর আগে, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সকালে জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ‘জুলাই জাগরণ’ পদযাত্রায় অংশ নেন। পরে বানিয়াচংয়ে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পথসভায় বক্তব্য দেন তারা। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে হামলার শিকার হন।
এনসিপির নেতারা জানান, আজমিরীগঞ্জ ও হবিগঞ্জের পথসভায় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ জি কে গউছের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জের ধরে ফেরার পথে হামলার ঘটনা ঘটে।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন লোক এনসিপি নেতাদের মাইক্রোবাস থামিয়ে চালককে মারধর করছে। নেতারা ভেতরে ছিলেন। পরে তাদেরও নামিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় ছবি তুলতে যাওয়া নাহিদ আহমেদ নামে এক সাংবাদিককেও মারধর করে হামলাকারীরা।
হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জ প্রধান শাখার ভেতরে আশ্রয় নেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় আধাঘণ্টা পর হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকশ’ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এ সময় একদিকে একদল লোক ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। অন্যদিকে পুলিশের নিরাপত্তায় যাওয়ার সময় এনসিপির নেতা-কর্মীরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, হুইপ জি কে গউছের ক্যাডার বাহিনী ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। এতে এক কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে। মেয়র পদপ্রার্থী মুবিনের হাত ভেঙে গেছে। তিনি নিজেও হাতের আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।
তার ভাষ্য, এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা হবিগঞ্জ ছাড়বেন না। রাত ৯টার দিকে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত তারা সার্কিট হাউজে ছিলেন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ এবং হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদের ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার নেপথ্যে যে কারণ
হবিগঞ্জের দিনভর কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী তার বক্তব্যে বলেছিলেন, ওসমান হাদীসহ সব শহীদের হত্যার বিচার ও দেশ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠ ছাড়ব না। ১ হাজার ৪০০ শহীদের রক্তের ওপর পা রেখে তারেক রহমান দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
বিচার থেকে পিছপা না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে যাদের কাছ থেকে সরকার টাকা নিয়েছিল, এখন তাদের চাঁদাবাজির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। অসৎ ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে বসিয়ে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে।
তার দাবি, ‘তারা রাতে মাদক ব্যবসা করে আর দিনে চাঁদাবাজি করে। যাদের প্রশ্রয় দিয়ে তারেক রহমান নিজের পায়েই কুড়াল মারছেন।’
এনসিপির এই নেতা বললেন, তারা নব্য ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত না করার শপথ নিয়েছেন। এনসিপিকে টাকা দিয়ে কেনা যাবে না, কারণ দলটি জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
‘দেশে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চলতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার আমলে দেওয়া মিথ্যা মামলায় শুধু বিএনপি নেতাদের খালাস দেওয়া হচ্ছে, অন্যদের কারাগারে রাখা হচ্ছে।’— অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
নব্য ফ্যাসিবাদ রুখতে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে নয়, শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের এক নেতা দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি বললেন, ছাত্রদলের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিলেট বিভাগীয় ছাত্রদলের এক নেতা হবিগঞ্জে এসেছিলেন। এ কারণে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এনসিপির কর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে। এতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
তার দাবি, এরপরও ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা জুনিয়র নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন।