

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল ম্যাচ বয়কট করেছেন ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা 'উয়েফা'-র প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার চেফেরিন।
মূলত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ফিফা'-র একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই তিনি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হননি বলে দ্য টেলিগ্রাফ ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক চাপে ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
ঘটনার সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে কেন্দ্র করে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে চাপ দেওয়ার পর বালোগুনের সেই শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।
চলমান একটি টুর্নামেন্টের মাঝপথে নিয়মের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকেই চেফেরিনের ক্ষোভের মূল কারণ বা 'রেড লাইন' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিফার একাধিক পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ
শুধু বালোগুনের ঘটনাই নয়, ফিফার সাম্প্রতিক বেশ কিছু পদক্ষেপে আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন উয়েফা প্রধান। সোমালিয়ার নাগরিক হওয়ায় আফ্রিকার শীর্ষ রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা না দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান রাজনৈতিক উত্তেজনায় ইরান জাতীয় ফুটবল দল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি কড়া আপত্তি জানান।
তার মতে, যেকোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সংঘাত থেকে বিশ্বকাপকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা উচিত। এছাড়া টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি এবং বিতর্কের সময় মুখ ঢেকে কথা বললে লাল কার্ডের মতো কিছু নতুন নিয়ম চালু নিয়েও ফিফার সমালোচনা করেছিল উয়েফা।
উয়েফার কড়া প্রতিক্রিয়া ও খেলার সততা নিয়ে প্রশ্ন
বালোগুনের শাস্তি স্থগিত করার পর এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে উয়েফা জানায়, "ফুটবল নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর ভিত্তি করে চলে, যা প্রতিযোগিতার সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
লাল কার্ডের পর অন্তত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কোনো আপসের বিষয় নয়। ফিফা নিজেরাই যদি নিয়মের লঙ্ঘন করে, তবে তা পুরো ফুটবল বিশ্বের কাছে ভুল বার্তা পাঠাবে এবং ভবিষ্যতে বাজে নজির হয়ে থাকবে।"
