

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে যোগ দেওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলেও দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও যুবদল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এনসিপি নেতারা বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ ছিলেন বলে জানা গেছে।
গতকাল সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে এনসিপির সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়িবহর নিয়ে ফেরার সময় কোর্ট মসজিদ এলাকায় প্রথম হামলার শিকার হন। এ সময় হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৮টার দিকে এনসিপি একটি মিছিল বের করলে সদর হাসপাতালের সামনে ছাত্রদল ও যুবদল নেতা-কর্মীরা আবারও হামলা চালায়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী শহরের সোনালী ব্যাংক চত্বরে আশ্রয় নিলে ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁদের প্রায় আধা ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায়। উদ্ধার অভিযানের সময়ও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আহত এনসিপি নেতা সারজিস আলম সাংবাদিকদের জানান, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনি নিজে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারি মোবিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি দাবি করেন, এনসিপি নেতারা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে সভায় ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’ করায় সাধারণ ছাত্রজনতা তার জবাব দিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তিনি জানান।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, এনসিপির কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।