

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম বা লোগো দৃশ্যমান না রাখার ব্যাপারে বরাবরই কঠোর অবস্থানে থাকে ফিফা। তবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের ভেন্যু আটলান্টা স্টেডিয়ামে এসে সেই নীতিতেই ব্যতিক্রম করতে হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্টেডিয়ামের আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন করা হলেও ছাদের সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত মার্সিডিজ-বেঞ্জের বিশাল লোগো সরানো বা আড়াল করা সম্ভব হয়নি। ফলে ফিফা সেটি রেখেই ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফিফার ‘ক্লিন স্টেডিয়াম’ নীতির উদ্দেশ্য হলো টুর্নামেন্ট চলাকালে শুধু অনুমোদিত স্পনসরদের ব্র্যান্ডিং দৃশ্যমান রাখা। সে কারণে সাধারণত স্টেডিয়ামের স্থায়ী সাইনবোর্ড, বিজ্ঞাপন কিংবা অন্যান্য বাণিজ্যিক পরিচিতি সাময়িকভাবে ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু আটলান্টা স্টেডিয়ামের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও স্থাপত্যগত সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্টেডিয়ামটির বিশেষ নকশার ভাঁজযোগ্য ছাদ আটটি বিশাল অংশ নিয়ে নির্মিত, যার প্রতিটির ওজন প্রায় ৫০০ টন এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ২২০ ফুট। এই কাঠামোর সঙ্গেই স্থায়ীভাবে যুক্ত রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জের লোগো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি অপসারণ বা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো কাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্টেডিয়াম পরিচালন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম ফুলারটন এর আগে জানিয়েছিলেন, শুধু ছাদেই নয়, ভবনের বাইরের বিভিন্ন অংশেও মার্সিডিজ-বেঞ্জের পরিচিতি স্থায়ী নকশার অংশ হিসেবে সংযুক্ত রয়েছে। তাই বিশ্বকাপের জন্য সেগুলো সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলার সুযোগ নেই।
এই বাস্তবতায় ফিফা নিজেদের প্রচলিত নীতিতে সীমিত ব্যতিক্রম আনতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টজুড়ে স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও বহাল থাকবে, যাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য সমান স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।
মাঠের বাইরের এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি আলোচনায় থাকলেও ফুটবলপ্রেমীদের মূল আগ্রহ এখন ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ঘিরে। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের এই লড়াইয়ে জয়ী দলই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে।
