

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে এ ম্যাচ। অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, সামগ্রিক জয়ের হিসাবে এগিয়ে ইংল্যান্ড। তবে নকআউট পর্বে চাপের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বেশি হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনাই।
বিশ্বকাপে কার দাপট বেশি?
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফলাফলের হিসাবে এগিয়ে ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে থ্রি লায়ন্সরা। একটি ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সরাসরি জয়ের হিসেবে আলবিসেলেস্তেদের সাফল্য একটি।
তবে সংখ্যার এই হিসাব পুরো গল্প বলে না। কারণ টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণী নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনাই বেশি সফল হয়েছে।
যে পাঁচ ম্যাচ গড়ে দিয়েছে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা
দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ ১৯৬২ সালে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ৩–১ গোলের জয় পায় ইংল্যান্ড।
চার বছর পর ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও জয় ইংল্যান্ডের। স্বাগতিকদের ১–০ গোলের সেই জয় বিতর্কও তৈরি করেছিল।
এরপর আসে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনাল। দিয়েগো ম্যারাডোনার দুটি গোলই আজও ফুটবল ইতিহাসের অংশ। একটি 'হ্যান্ড অব গড', অন্যটি একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি'। ২–১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরা। মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল, ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড এবং শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে আর্জেন্টিনার জয়—সব মিলিয়ে এটি বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সবশেষে ২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেবার বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১–০ ব্যবধানে জিতে আগের আসরের হতাশার প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড।
নকআউট পর্বে পাল্টে যায় সমীকরণ
মোট জয়ের হিসেবে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বের চাপের ম্যাচে চিত্র ভিন্ন। ১৯৮৬ ও ১৯৯৮—দুইবারই আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড নকআউট পর্বে জিতেছে মাত্র একবার, ১৯৬৬ সালে।
এই পরিসংখ্যান দেখায়, বড় মঞ্চের স্নায়ুচাপ সামলাতে আর্জেন্টিনা অতীতে তুলনামূলক বেশি সফল হয়েছে।
নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায়
অতীতের পরিসংখ্যান এবারও আলোচনায় থাকলেও সেমিফাইনালের ফল নির্ধারণ করবে বর্তমান পারফরম্যান্স। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে রয়েছে লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের মতো তারকা। অন্যদিকে হ্যারি কেনকে ঘিরে গড়ে ওঠা ইংল্যান্ডও গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে।
ইতিহাস বলছে, দুই দলের লড়াই কখনোই শুধু একটি ম্যাচ নয়। প্রতিবারই এটি নতুন গল্প লিখেছে। এবার সেই গল্পে কার নাম যোগ হবে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
