

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার পর রেফারির পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রান্সের বিদায়ী প্রধান কোচ দিদিয়ে দেশম।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, ম্যাচে স্পেনই ছিল ভালো দল এবং তারাই ফাইনালে ওঠার যোগ্যতা দেখিয়েছে।
ডালাসে বুধবার (১৫ জুলাই) ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। যেখানে শুরুতেই পেনাল্টি পেয়ে এগিয়ে ছিল স্পেন।
লুকা দিনিয়ে ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের পেছনে থাকা লামিন ইয়ামালকে বুট দিয়ে আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ফরাসি খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের দাবি তুললেও ভিএআরে সিদ্ধান্ত বদলায়নি। এরপর ম্যাচের ছন্দ পুরোপুরি চলে যায় তাদের দখলে।
ম্যাচ শেষে রেফারি নিয়ে প্রশ্নে দেশম বলেন, ‘রেফারিং নিয়ে যদি কিছু বলি, তাহলে মনে হবে আমরা হেরে গিয়ে অজুহাত দিচ্ছি। কিন্তু আপনারাই বলুন, এই রেফারি কি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পরিচালনার মতো মানের ছিলেন? পেনাল্টির ঘটনাই শুধু নয়, আরও অনেক সিদ্ধান্ত ছিল। আজকের রেফারির বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কিছু নেই, তবে প্রশ্নটা আপনারাই করুন।’
তবে পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে তিনি নিজের দলের দুর্বল পারফরম্যান্সকেই দায়ী করেন। দেশম বলেন, ‘খেলোয়াড়রা ভীষণ হতাশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে ছিলাম। কিছু ভুল পাস ও টেকনিক্যাল ভুলের কারণে আমরা সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়তে পারিনি। এই পর্যায়ে এমন ভুলেরই মূল্য দিতে হয়। এখন আমাদের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে। এত দূর আসার পথকে আমি খাটো করতে চাই না, কিন্তু আজকের ম্যাচে স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে।’
নিজের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেয়া এই কোচ আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি নিজের কথা ভাবছি না। খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এবং লক্ষ্য ছিল ফাইনালে ওঠা। সেটা পারিনি, তাই হতাশা অনেক। তবে পুরো টুর্নামেন্টে দলের ভালো দিকগুলো আমি ভুলে যেতে চাই না। স্পেনকে কৃতিত্ব দিতেই হবে, তারা পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।’
ফ্রান্সের মিডফিল্ডার রায়ান শেরকিও স্বীকার করেছেন, স্পেন কৌশলগত দিক থেকে তাদের ছাপিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোথায় ঘাটতি ছিল, সেটা সমাধানে নাকি ইচ্ছাশক্তিতে, বলা কঠিন। কিন্তু আজ তারা আমাদের চেয়ে অনেক সহজে বলের দখল ফিরে পেয়েছে। আমরা যদি আরও বেশি বল পুনরুদ্ধার করতে পারতাম, তাহলে তাদের আরও বেশি চাপে ফেলতে পারতাম।’
বিরতির সময় দেশমের বার্তার কথাও জানান শেরকি। তিনি বলেন, ‘কোচ বলেছিলেন, এখনও ৫০ মিনিট বাকি আছে এবং সুযোগ আসবে। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম দ্বিতীয় গোলটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু সেটা আর হয়নি।’
ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘হতাশাটা বিশাল। আমরা জানতাম, তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজেদের ছন্দে ধীরগতিতে খেলা নিয়ন্ত্রণ করা। আমাদেরও সেটাই করা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে কাজটা ভাবনার চেয়ে কঠিন ছিল।
আমি প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেছি, তবে এটা চেষ্টার অভাবে নয়। তারা কৌশলগতভাবে আমাদের চেয়ে ভালো ছিল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয় ছোট ছোট মুহূর্তই।’
