

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে বৃষ্টি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনন্য নেয়ামত ও রহমত। তবে এই বৃষ্টিই যখন অতি বর্ষণ কিংবা বন্যার রূপ নেয়, তখন তা মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং আল্লাহর সাহায্য কামনায় ইসলামে বিশেষ দিকনির্দেশনা ও দোয়া রয়েছে। পবিত্র কোরআনে বৃষ্টির গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে বৃষ্টিকে কল্যাণের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন-
সুরা শুরা (আয়াত ২৮): আল্লাহ তাআলা বলেন, মানুষ যখন নিরাশ হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত চারদিকে ছড়িয়ে দেন।
সুরা কাফ (আয়াত ৯): মহান আল্লাহ বলেন, তিনি আকাশ থেকে কল্যাণকর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তা দিয়ে মানুষের জন্য বাগ-বাগিচা ও শস্যদানা উৎপাদন করেন।
অতিবৃষ্টি যখন দুর্ভোগের কারণ
বৃষ্টি আল্লাহর রহমত হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে যখন বন্যা, পাহাড়ধস কিংবা নদীভাঙন দেখা দেয়, তখন তা মানুষের জন্য আজাব ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলাম শিক্ষা দেয়, এমন বিপদের সময়েও যেন মানুষ একমাত্র আল্লাহর দরবারেই আশ্রয় খোঁজে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জামানার একটি ঘটনা
হাদিস শরিফ (সহিহ বুখারি) থেকে জানা যায়, একবার মদিনায় তীব্র অনাবৃষ্টির কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার খুতবা চলাকালীন আল্লাহর কাছে বৃষ্টির দোয়া করেন। তাঁর দোয়ার পরপরই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় এবং তা টানা ছয় দিন চলে।
পরবর্তী জুমার দিন অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের ধনসম্পদ ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি হতে থাকলে, সাহাবিরা বৃষ্টি থামানোর অনুরোধ করেন।
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে একটি বিশেষ দোয়া করেন। দোয়ার পরপরই মদিনার আকাশ থেকে মেঘ কেটে যায় এবং রোদ ওঠে।
অতিবৃষ্টি ও বন্যা থেকে মুক্তির বিশেষ দোয়া
বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা ও অতিবৃষ্টির সংকট থেকে বাঁচতে ইসলামি চিন্তাবিদগণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার পরামর্শ দেন:
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আ-কামি ওয়াজ জিরাবি ওয়া বুতুনিল আওদিআতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপরে (ক্ষতিগ্রস্ত করে) নয়। হে আল্লাহ, পাহাড়-টিলা, খাল-নালা এবং গাছ-উদ্ভিদ গজানোর স্থানগুলোয় বৃষ্টি দিন।’ (সহিহ বুখারি: ১০১৩)
