

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আল-কুরঅনের সুরা আর রহমানে জীন ও মানব জাতিকে মহান আল্লাহ মোট ৩১ বার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন,“فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ।” (সূরা আর-রাহমান, ৫৫:১৩) অর্থাৎ (হে জীন ও মানবজাতি!)“তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?”
এই আয়াতটি সূরা আর-রাহমানে ৩১ বার এসেছে। প্রতিবার আল্লাহ তাআলা কোনো একটি নিয়ামত, কুদরত বা আখিরাতের দৃশ্য বর্ণনা করার পর এই প্রশ্ন করেছেন। এটি শুধু প্রশ্ন নয়, বরং মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলার আহ্বান।
প্রতিটি নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া
আল্লাহ আমাদের জীবন, ঈমান, স্বাস্থ্য, পরিবার, রিজিক, বাতাস, পানি, আকাশ, জমিন—অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন। অনেক সময় আমরা যা নেই তা নিয়ে ব্যস্ত থাকি, কিন্তু যা পেয়েছি তা ভুলে যাই। এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি নিয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মানুষ ও জিন উভয়ের প্রতি সম্বোধন
'রাব্বিকুমা' এবং 'তুকায্যিবান'—দ্বিবচন শব্দ। অর্থাৎ এই প্রশ্ন মানুষ ও জিন—উভয় জাতির উদ্দেশে। আল্লাহর নিয়ামত উভয়েই ভোগ করে, তাই কৃতজ্ঞতার দায়িত্বও উভয়ের।
অস্বীকার শুধু মুখের নয়
নিয়ামত অস্বীকার মানে শুধু "আল্লাহ দেননি" বলা নয়। নিয়ামত পেয়ে আল্লাহর অবাধ্য হওয়া, তাঁর হুকুম না মানা, তাঁর দেওয়া সম্পদ ও শক্তি গুনাহের কাজে ব্যবহার করাও নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা।
এই আয়াত আত্মসমালোচনার আহ্বান
প্রতিবার এই আয়াত শুনে একজন মুমিনের নিজের কাছে প্রশ্ন করা উচিত:
আমি কি আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায় করছি?
আমার জীবন কি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় হচ্ছে?
আমি কি কোনো নিয়ামতের অপব্যবহার করছি?
প্রতিদিন আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করে আলহামদুলিল্লাহ বলা।
নিয়ামতকে আল্লাহর আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করা।
অভিযোগের বদলে কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তোলা।
কুরআনের এই আয়াত শুনলে হৃদয়ে জবাব দেওয়া, যেমন হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ ﷺ সূরা আর-রাহমান তিলাওয়াতের সময় জিনদের উত্তম জবাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছিল:
لَا بِشَيْءٍ مِنْ آلَائِكَ رَبَّنَا نُكَذِّبُ، فَلَكَ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: লা বিশাই'ইম মিন আ-লা-ইকা রাব্বানা নুকায্যিব, ফালাকাল হামদ।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনার কোনো নিয়ামতই আমরা অস্বীকার করি না; সকল প্রশংসা আপনারই।
আল্লাহর তা’আলার অসীম ক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ যে, তিনি এই মাটির পৃথিবীকে এমন বিস্ময়কর পন্থায় তৈরী করেছেন যেখানে অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীকুল বাস করে এবং নানা রকমের ফল ও শস্য উৎপন্ন হয়। এটাও তাঁর প্রশংসনীয় গুণ যে, তিনি এসব প্রাণীরকূলকে সৃষ্টি করার সাথে সাথে এখানে তাদের লালন-পালন এবং রিযিক সরবরাহেরও ব্যবস্থা করেছেন। ব্যবস্থাপনাও এমন ব্যাপক ও নিখুঁত যে, তাদের খাদ্য কেবল গুণ ও পুষ্টিই নয়, বরং তার মধ্যে প্রবৃত্তি ও রসনার তৃপ্তিও আছে এবং আছে অগণিত দৃষ্টিলোভা দিক।
এক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলার কারিগরী ও নৈপুণ্যের চরম পূর্ণতার একটি মাত্র দিকের প্রতি নমুনা হিসেবে ইংগিত দিয়ে দেখানো হয়েছে হয়েছে কিভাবে খেজুর গাছে পাতলা আবরণে আচ্ছাদিত করে ফল সৃষ্টি করা হয়। এই একটিমাত্র উদাহরণকে সামনে রেখে একটু লক্ষ করুন, কলা, কমলালেবু, নারিকেল এবং অন্যান্য ফলের প্যাকিংয়ে কি রকম নৈপুন্য ও শৈল্পিক কারুকার্যের পরাকাষ্ঠা ও উৎকর্ষতা দেখানো হয়েছে।
তাছাড়া নানা রকমের খাদ্য শস্য, ডাল এবং বীজ যা আমরা পরিতুষ্টির সাথে অবলীলাক্রমে রান্না করে খাই তার প্রত্যেকটি উৎকৃষ্ট ও পরিচ্ছন্ন আঁশ ও ছালের আকারে প্যাক করে এবং অতি সূক্ষ্ম আবরণে জড়িয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং এখানে তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে এই অর্থের সাথে সংযুক্ত করতে হবে যে, ‘তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন অসীম ক্ষমতা ও তাঁর মহৎ গুণাবলী অস্বীকার করবে।
