

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। শক্তি, সামর্থ্য ও তারকাখচিত স্কোয়াডে দুই দলই প্রায় সমান হলেও ম্যাচের আগে শারীরিক সক্ষমতা ও বিশ্রামের সমীকরণে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে ইংলিশরা।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে থমাস টুখেলের দল। চলতি বিশ্বকাপে এটিই ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ, যা নির্ধারিত ৯০ মিনিটের বাইরে গড়ায়।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছে। শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই করতে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের।
টানা দুই ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলার কারণে লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজসহ আর্জেন্টিনার মূল খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক চাপ তুলনামূলক বেশি পড়েছে। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসে এই অতিরিক্ত ক্লান্তি দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্রামের দিক থেকেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার আগে মাঠে নামায় সেমিফাইনালের আগে কয়েক ঘণ্টা বেশি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেয়েছেন হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামরা। বিশ্বকাপের মতো উচ্চমাত্রার প্রতিযোগিতায় এই বাড়তি সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ কারণে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রধান লক্ষ্য এখন খেলোয়াড়দের দ্রুত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। অনুশীলনের চাপ কমিয়ে শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আর্জেন্টাইন শিবির।
তবে সব দিক থেকেই যে ইংল্যান্ড এগিয়ে, তা নয়। ভ্রমণের ধকলের হিসাবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। বিভিন্ন ভেন্যুতে ম্যাচ খেলতে গিয়ে টুর্নামেন্টে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার আকাশপথে ভ্রমণ করেছে দলটি। দীর্ঘ সফর, আবহাওয়া ও ভেন্যু পরিবর্তনের চাপও তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে সেমিফাইনালের আগে দুই দলের সামনে রয়েছে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ। একদিকে আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত ম্যাচ-সময়ের ক্লান্তি, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল।
সব মিলিয়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কৌশল, তারকাদের পারফরম্যান্স কিংবা পরিসংখ্যানের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ফিটনেস, পুনরুদ্ধার এবং মানসিক দৃঢ়তাও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই দ্বৈরথে তাই মাঠে বল গড়ানোর আগেই শুরু হয়ে গেছে সমীকরণের লড়াই।
